হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পর গোসল না করে সাহরি খেয়ে রোজা রাখার বিধান এবং রোজা অবস্থায় হায়েজ শুরু হলে করণীয়।

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 452
Questioner: Aiman 2.0
Question Asked: 20 May 2026, 11:24 PM
Reviewed & Published: 20 May 2026, 11:30 PM
Views: 55
Tokens: 2,355
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হায়েজ থেকে সুস্থ হলে এবং ফরজ গোসল ছাড়া সাহ্রি করে রোজা রাখা যাবে কি?আবার যদি রোজা অবস্থায় হায়েজ হয় তাহলে রোজা ভাংগা যাবে কি ফরজ এবং নফল সিয়ামের ক্ষেত্রে বিধান??

Answer

উত্তর:

প্রশ্ন ১: হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পর ফরজ গোসল না করে সাহরি খেয়ে রোজা রাখা যাবে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, যাবে। তবে শর্ত হলো – ফজর উদয়ের (সুবহে সাদিকের) পূর্বেই যদি রক্তস্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং মহিলা নিশ্চিত হন যে তিনি পবিত্র হয়েছেন, তাহলে তিনি গোসল না করলেও সাহরি খেয়ে রোজার নিয়ত করতে পারেন। তার রোজা সহীহ হবে। তবে ফরজ গোসল ওয়াক্ত হওয়ার পর বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা মাকরূহ। গোসল করা সুন্নত ও উত্তম, কিন্তু রোজার শুদ্ধির জন্য গোসল শর্ত নয়; বরং পবিত্রতা (রক্ত বন্ধ হওয়া) শর্ত।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৪/৪২২): "যদি স্ত্রী লোক হায়েজ থেকে পবিত্র হয় ফজরের পূর্বে, তাহলে তার রোজা সহীহ হবে, যদিও সে গোসল না করে। কারণ রোজার শুদ্ধির জন্য পবিত্রতা (তাহারাত) শর্ত নয়, বরং রক্ত বন্ধ হওয়াই শর্ত।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২২৪): "হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পর গোসল না করে সাহ্রি খেয়ে রোজা রাখলে রোজা হয়ে যাবে। তবে নামাযের জন্য গোসল ওয়াজিব হবে।"
  • বাহিশতি জেওর (রোজার অধ্যায়): "যদি ফজরের আগে হায়েজ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গোসল না করলেও রোজা রাখতে পারবে। গোসল ফজরের পর করলেও কোনো অসুবিধা নেই।"

সতর্কতা: ফজরের পূর্বেই রক্ত বন্ধ হওয়া নিশ্চিত না হলে রোজা রাখা যাবে না। আর যদি ফজরের পর রক্ত বন্ধ হয়, তাহলে সেদিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ।


প্রশ্ন ২: রোজা অবস্থায় হায়েজ শুরু হলে কি রোজা ভাঙা যাবে? ফরজ ও নফল সিয়ামের ক্ষেত্রে বিধান কী?

উত্তর: রোজা অবস্থায় (যে কোনো প্রকারের সিয়াম – ফরজ হোক বা নফল) যদি হায়েজ শুরু হয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে রোজা ভেঙে ফেলা ওয়াজিব। কারণ হায়েজ নিঃসন্দেহে রোজা ভঙ্গের কারণ। রক্ত দেখা মাত্রই রোজা নষ্ট হয়ে যায়। আর রক্ত চলাকালীন সময়ে রোজা রাখা বৈধ নয়।

ফরজ রোজার ক্ষেত্রে:

  • রমজানের ফরজ রোজা হলে, পরবর্তীতে সেই দিনের কাজা (ক্বাযা) করতে হবে। হায়েজের দিনগুলোতে রোজা রাখা নিষিদ্ধ, এবং যদি কেউ রাখেও তবে তা শুদ্ধ হবে না।
  • সূরা বাকারা (২:১৮৫): "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ বা সফরে থাকে, সে অন্য দিনে সংখ্যা পূর্ণ করবে।" হায়েজও অসুস্থতার মতোই বিধান।
  • হাদীস: আয়েশা (রা.) বলেন, "হায়েজ অবস্থায় আমরা রোজা রাখার আদেশ পেতাম না, বরং কাজা করার আদেশ দেওয়া হতো।" (বুখারী, মুসলিম)

নফল রোজার ক্ষেত্রে:

  • নফল রোজা অবস্থায় হায়েজ শুরু হলে রোজা ভাঙা যাবে এবং এর কোনো কাজা আবশ্যক নয়। কারণ নফল রোজা নিজের ইচ্ছাধীন; কেউ চাইলে তা ভাঙতে পারে। তবে হায়েজের কারণে ভাঙা জরুরি।
  • রদ্দুল মুহতার (২/৪৩২): "হায়েজ অবস্থায় নফল রোজা রাখা নাজায়েজ, এবং যদি কেউ রোজা অবস্থায় হায়েজগ্রস্ত হয়, তাহলে তার জন্য রোজা ভাঙা ওয়াজিব। নফল রোজার কোনো কাজা নেই।"
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/১৪৮): "ফরজ ও নফল উভয় রোজাই হায়েজের কারণে ভেঙে যাবে। ফরজের কাজা আবশ্যক, নফলের নয়।"

সারসংক্ষেপ:

  • হায়েজ শুরু হলেই রোজা ভাঙতে হবে। রক্ত না থামা পর্যন্ত রোজা রাখা যাবে না।
  • ফরজ রোজার কাজা করতে হবে, নফলের কোনো কাজা নেই।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.