স্বপ্নে ইস্তেগফার, জুতা পায়ে কুরআন তিলাওয়াত,অমুসলিম দেশে যাতায়াত সম্পর্কে জানতে চাই?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আর আমি এবং আমার অন্য একটা ফ্রেন্ড (২য় ফ্রেন্ড)দুইজন ওইখানে থাকা সবাইকে জিজ্ঞেস করছিলাম কার কার ইস্তেগফারের মাধ্যমে দোয়া কবুল হয়েছে। তখন আমার ১ম ফ্রেন্ড সে উত্তর দিয়েছে তার দোয়া কবুল হয়েছে। তো আমি আর আমার ২য় ফ্রেন্ড প্রত্যেককেই জিজ্ঞেস করছিলাম এবং বলছিলাম অনেকেই নির্দিষ্ট সংখ্যার নিয়ত করে গুনে ইস্তেগফার করে দোয়া কবুলের জন্য। তো তোমরা ইস্তেগফার করার সময় ১০০,১ হাজার এমনভাবে সংখ্যা গুনে ইস্তেগফার না করে বরং নিজের ইচ্ছেমতো ইস্তেগফার করলেও দোয়া কবুল হবে।
এর ব্যাখ্যা কি হতে পারে..??
২/আমার একটা স্টুডেন্ট প্রশ্ন করেছিল, কুরআন পড়ার সময় টেবিলে কুরআন রেখে পড়লেও পায়ে জুতা থাকে। কুরআন টেবিলে রেখে পড়ার সময় জুতা পায়ে থাকলে কোনো গুনাহ হবে কি না বা এটা কি আদবের খেলাফ হবে..??
৩/স্বামী ইউকে তে থাকেন।বিয়ের পর ৪ বছর হয়ে গিয়েছে।ফ্যামিলি অর্থাৎ বাবা -মা চান ছেলে আরও ৩-৪ বছর থাকুক।অথবা অন্য কোনো দেশে মুভ করুক তারপর দেশে আসুক। সবকিছু গুছিয়ে দেশে আসতে কমপক্ষে ৩ বছর আর উর্ধে ৫ বছর ও লাগতে পারে ঠিক নেই,এর পূর্বে দেশে আসার কোনো সুযোগ সুবিধাও নেই।এক্ষেত্রে স্ত্রীকে স্বামীর কাছে নিতে চাইলে, সেটা কি জায়েজ আছ??
স্বামী চান স্ত্রী তার কাছে থাকুক তার সকল চাহিদা পূরণ হোক।তাদের এখন পর্যন্ত কোনো সন্তান ও নেই। যেহেতু এসব দেশে যাওয়া অবস্থান করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে এবং কিছু শর্ত আছে, সেহেতু স্ত্রীর জন্য কী উত্তম হবে সবর নিয়ে অপেক্ষা করা নাকি স্বামীর কাছে গিয়ে স্বামীর সাথে থাকা..
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্ন ১: ইস্তেগফারের মাধ্যমে দোয়া কবুল হওয়া সংক্রান্ত স্বপ্নের ব্যাখ্যা
স্বপ্নে ইস্তেগফারের মাধ্যমে দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়টি একটি ভালো লক্ষণ। ইসলামে ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) একটি মহান ইবাদত এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ হয়। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি পাঠাবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন, তোমাদের জন্য বাগান স্থাপন করবেন এবং নদী প্রবাহিত করবেন।" (সূরা নূহ: ১০-১২)
ইস্তেগফারের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা জরুরি নয়। বরং আন্তরিকতার সাথে বেশি বেশি ইস্তেগফার করা উত্তম। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
"যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তাকে প্রতিটি সংকট থেকে মুক্তি দেবেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিক দেবেন।" (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
সুতরাং, স্বপ্নে ইস্তেগফারের মাধ্যমে দোয়া কবুল হওয়ার অর্থ হলো, ইস্তেগফার একটি কার্যকর উপায় এবং আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের জন্য আন্তরিকতা ও অধ্যবসায় প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সংখ্যা গণনা করা জরুরি নয়, বরং বেশি বেশি ইস্তেগফার করা এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করা উত্তম।
প্রশ্ন ২: কুরআন পড়ার সময় জুতা পায়ে থাকা
কুরআন তিলাওয়াতের সময় পায়ে জুতা থাকা নাজায়েজ নয়, তবে এটি আদবের খেলাফ হতে পারে। ইসলামে কুরআন তিলাওয়াতের সময় পবিত্রতা ও সম্মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে জুতা পায়ে থাকা অবস্থায় কুরআন পড়া হারাম নয়, বরং মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হতে পারে।
ফিকহের কিতাবে উল্লেখ আছে, কুরআন তিলাওয়াতের সময় পবিত্র থাকা এবং সম্মানজনক অবস্থান গ্রহণ করা মুস্তাহাব। তবে জুতা পায়ে থাকা অবস্থায় পড়লে গুনাহ হবে না, তবে আদবের খেলাফ হবে। তাই উত্তম হলো, কুরআন তিলাওয়াতের সময় জুতা খুলে পবিত্র অবস্থায় বসা।
প্রশ্ন ৩: স্ত্রীকে স্বামীর কাছে পাঠানো
ইসলামে স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার রয়েছে এবং স্বামীর সাথে বসবাস করা স্ত্রীর জন্য ওয়াজিব। তবে যদি স্বামী বিদেশে থাকে এবং স্ত্রীকে সেখানে পাঠানো সম্ভব না হয়, তাহলে স্ত্রী সবর (ধৈর্য) করা উত্তম।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য স্বামীর সাথে বসবাস করা ফরজ, তবে যদি কোনো বৈধ কারণে তা সম্ভব না হয়, তাহলে স্ত্রী সবর করবে এবং স্বামীও চেষ্টা করবে যাতে স্ত্রীকে তার কাছে আনা যায়।
আপনার ক্ষেত্রে, স্বামী ইউকে থাকেন এবং স্ত্রীকে সেখানে পাঠানো সম্ভব নয়। তাই স্ত্রীর জন্য সবর করা এবং স্বামীর সাথে যোগাযোগ রাখা উত্তম। স্বামীও চেষ্টা করবেন যাতে দ্রুত স্ত্রীকে তার কাছে নিতে পারেন।
মাসআলা:
১. ইস্তেগফারের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা জরুরি নয়, বরং বেশি বেশি ইস্তেগফার করা উত্তম।
২. কুরআন তিলাওয়াতের সময় জুতা পায়ে থাকা মাকরূহ, তবে গুনাহ নয়।
৩. স্ত্রীর জন্য স্বামীর সাথে বসবাস করা ওয়াজিব, তবে সম্ভব না হলে সবর করা উত্তম।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।