পাক নাপাক

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 4170
Questioner: Shadek Hossain
Question Asked: 19 Aug 2026, 04:43 PM
Reviewed & Published: 19 Aug 2026, 05:16 PM
Views: 6
Tokens: 5,471
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে পর্ন দেখে হস্ত মৈথুন করেছি,,এখন আমার খুব কস্ট হচ্ছে,, আমার মনে হয় সব কিছু শেষ,,আমি যখন পর্ন দেখছিলাম তখন কিছুটা বীর্য কাপড়ে পড়ে গেছে,,তার পর আমি গরে হেটেচি এখন আমার মনে হচ্ছে বীর্য ফ্লোরে পরে সব নাপাক হয়ে গেছে,,কিন্তু আমি নিশ্চিত নই,,,
যখন আমি বাথরুমে হস্তমৈথুন করি তখন নতুন কাপড় একটা উচু যায়গায় রেখেছি,তার পর আমি গোসলের পর কাপড় পড়তে গিয়ে দেখি কাড়ে একটু ভেজা ফোটা,,এখন একটা কি নাপাকি গিয়ে পড়লো কিনা, সেটা আমি যানি নাহ,উল্লেখ্য আমি গোসল করেছি পানিও যেতে পারে,,,এখন কি করবো,,আবার নতুন করে কাপড় ধোয়া কষ্টকর খুব,
আমি নিশ্চিত কোনো কিছু ছাড়া নাপাক ধরি নাহ এই ভেবে যে নাপাকি যদি থাকেও আমার অগোচরে সেটা আল্লাহ মাপ করে দিবেন,,যেহেতু আমার সন্দেহ ছিলো,,কিন্তু এখন তো আমি জগন্য গুনাহ করেছি, হস্তমৈথুন করেছি,তো এখন আমি সন্দেহের ভিত্তিতে নাপাক ধরলাম না,কিন্তু যদি আসলর নাপাকি থাকে আল্লাহ কি মাপ করবেন,,

Answer

পাক-নাপাক ও ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: আপনি পর্ন দেখে হস্তমৈথুন করেছেন, বীর্য কাপড়ে লেগেছে, তারপর ঘরে হেঁটেছেন। বাথরুমে হস্তমৈথুনের সময় নতুন কাপড় উঁচু জায়গায় রেখেছিলেন, গোসলের পর দেখলেন কাপড়ে ভেজা ফোটা। এখন আপনি নিশ্চিত নন যে নাপাকি ছড়িয়েছে কিনা। কাপড় ধোয়া কষ্টকর। আপনি সন্দেহের ভিত্তিতে নাপাক ধরেননি, কিন্তু জানতে চান আল্লাহ কি মাফ করবেন?


উত্তর:

আলহামদুলিল্লাহ, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে জেনে রাখুন, হস্তমৈথুন (মাস্টারবেশন) একটি গুনাহের কাজ, তবে এটি শিরক নয় এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া জায়েজ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا "বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)


নাপাকি সংক্রান্ত বিধান:

১. বীর্য নাপাক কি না?

হানাফী মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, বীর্য (মানি) নাপাক। এটি গলিত নাপাকি (নাজাসাত গলিজা)

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে বীর্য নাপাক, কিন্তু ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মতে তা পাক। হানাফী মাযহাবে বীর্য নাপাক বলেই ফতোয়া দেওয়া হয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/৪১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৫০)

২. কাপড়ে বীর্য লেগে থাকলে কী করণীয়?

বীর্য কাপড়ে লাগলে সেই স্থানটি ধুয়ে ফেলতে হবে। পুরো কাপড় ধোয়ার প্রয়োজন নেই। যদি বীর্য শুকিয়ে যায়, তাহলে ঘষে তুলে ফেললেও কাপড় পাক হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৫০; রদ্দুল মুহতার, ১/৪১৭)

৩. সন্দেহের ভিত্তিতে নাপাকি ধরা যাবে না

ইসলামী নীতি হলো: "اليقين لا يزول بالشك" অর্থাৎ সন্দেহ দ্বারা নিশ্চিত বিশ্বাস দূর হয় না। (আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, ১/৬০)

আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে বীর্য মেঝেতে পড়েছে বা অন্য কাপড়ে লেগেছে, তাহলে সন্দেহের ভিত্তিতে সেগুলোকে নাপাক বলা যাবে না। যতক্ষণ না আপনি নিশ্চিত হচ্ছেন, ততক্ষণ সবকিছু পাকই থাকবে।

৪. ভেজা ফোঁটা সম্পর্কে

বাথরুমে হস্তমৈথুনের সময় নতুন কাপড় উঁচু জায়গায় রেখেছিলেন, গোসলের পর দেখলেন কাপড়ে ভেজা ফোঁটা। এটি পানি, ঘাম, মযী (উত্তেজনার তরল) বা বীর্য — কোনটি তা আপনি নিশ্চিত নন।

  • যদি মযী (উত্তেজনার সময় নির্গত তরল) হয়, তবে তা নাপাক, কিন্তু হালকা নাপাকি। এক ফোঁটা পরিমাণ মযী কাপড়ে লাগলে সেই স্থানটি ধুয়ে ফেললেই কাপড় পাক হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৫০)
  • যদি পানি বা ঘাম হয়, তবে তা পাক।
  • যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন, তাই সন্দেহের ভিত্তিতে কাপড়টি নাপাক বলা যাবে না

৫. গোসলের পর কাপড় পড়ে নামাজ পড়েছেন — আপনার নামাজ কি শুদ্ধ?

যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে কাপড়ে নাপাকি লেগেছে, তাই আপনার নামাজ শুদ্ধ হয়েছে। সন্দেহের ভিত্তিতে নামাজ পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই।


ওয়াসওয়াসা (শয়তানি কুমন্ত্রণা) থেকে বাঁচার উপায়:

আপনার প্রশ্ন থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, আপনি ওয়াসওয়াসায় (শয়তানি কুমন্ত্রণায়) আক্রান্ত। শয়তান মানুষকে গুনাহ করায়, তারপর তাকে পাক-নাপাকি নিয়ে সন্দেহে ফেলে আযাব দেয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ "নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ।" (সহীহ বুখারী: ৩৯)

আরেকটি হাদিসে এসেছে:

ذَرْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ "যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দাও সেই বিষয়ে যাও যা তোমার সন্দেহ নেই।" (তিরমিযী: ২৫১৮)


আপনার করণীয়:

১. তওবা করুন — হস্তমৈথুনের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে তওবা করুন। আল্লাহ তওবা কবুলকারী।

২. কাপড় ধোয়ার প্রয়োজন নেই — যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে কাপড়ে নাপাকি লেগেছে, তাই কাপড় ধোয়ার প্রয়োজন নেই। সন্দেহের ভিত্তিতে কাপড় নাপাক ধরবেন না।

৩. মেঝে বা ঘর নাপাক ধরবেন না — বীর্য মেঝেতে পড়েছে কিনা আপনি নিশ্চিত নন, তাই মেঝে পাকই আছে।

৪. ভেজা ফোঁটা থাকা কাপড়টি — যদি আপনি নিশ্চিত হন যে সেটি বীর্য বা মযী, তাহলে শুধু সেই স্থানটি ধুয়ে ফেলুন। পুরো কাপড় ধোয়ার প্রয়োজন নেই। আর যদি নিশ্চিত না হন, তাহলে কিছুই করতে হবে না।

৫. ওয়াসওয়াসা দূর করুন — শয়তানের কুমন্ত্রণায় কান দেবেন না। পাক-নাপাকি নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ করা ইসলামে নিন্দনীয়।


গুরুত্বপূর্ণ নসীহত:

আপনি লিখেছেন: "আমি নিশ্চিত কোনো কিছু ছাড়া নাপাক ধরি নাই এই ভেবে যে নাপাকি যদি থাকেও আমার অগোচরে সেটা আল্লাহ মাফ করে দিবেন"এটি একটি উত্তম মনোভাব। ইসলামে এই নীতিই গ্রহণযোগ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন:

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا "আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)

আপনার গুনাহের জন্য তওবা করুন, কিন্তু পাক-নাপাকি নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ করবেন না। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।


সংক্ষিপ্ত ফতোয়া:

| বিষয় | সিদ্ধান্ত | |-------|-----------| | বীর্য নাপাক কিনা | হানাফী মাযহাবে নাপাক (হালকা নাপাকি) | | কাপড়ে বীর্য লাগলে | শুধু ঐ স্থান ধুয়ে ফেলতে হবে | | সন্দেহের ভিত্তিতে নাপাক ধরা | জায়েজ নয় | | মেঝেতে বীর্য পড়েছে কিনা সন্দেহ | মেঝে পাকই আছে | | কাপড়ে ভেজা ফোঁটা (পানি/মযী/বীর্য নিশ্চিত নয়) | কাপড় পাকই আছে | | নামাজ শুদ্ধ হয়েছে কিনা | শুদ্ধ হয়েছে |


আল্লাহ তাআলা আপনার তওবা কবুল করুন এবং ওয়াসওয়াসা থেকে হিফাজত করুন। আমীন।

وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ আল্লাহই সর্বাধিক সঠিক জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.