ফরজ গোসলে পায়ুপথ ধৌত করার বিধান

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 4124
Questioner: Tania Rahman
Question Asked: 18 Aug 2026, 02:24 PM
Reviewed & Published: 18 Aug 2026, 02:29 PM
Views: 32
Tokens: 2,288
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফরজ গোসল করার পর পায়ের মধ্যে এবং পায়ুপথে ধোত করি নাই তা কি ১ ঘন্টা পর ধোত করা যাবে?আর পায়ুপথে কি ধোয়া জরুরী আলাদা পানি ব্যবহার করে?

Answer

ফরজ গোসলের পর পায়ুপথ ও পায়ের মধ্যে ধোয়ার বিধান

প্রশ্নের উত্তর

ফরজ গোসলের মূল উদ্দেশ্য হলো সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো। গোসলের সময় যদি পায়ের মধ্যে বা পায়ুপথে পানি না পৌঁছে থাকে, তাহলে সেই স্থানগুলো শুকনো থাকার কারণে গোসল সম্পূর্ণ হবে না। তবে ১ ঘন্টা পরও যদি আপনি ঐ স্থানগুলো ধুয়ে ফেলেন, তাহলে আপনার গোসল শুদ্ধ হয়ে যাবে—কিন্তু শর্ত হলো, ঐ সময়ের মধ্যে আপনি নামাজ বা এমন কোনো ইবাদত না করে থাকেন যার জন্য পবিত্রতা শর্ত।

পায়ুপথ ধোয়ার বিধান

পায়ুপথ (মলদ্বার) ধোয়া ফরজ গোসলের অংশ। গোসলের সময় পানি দ্বারা সমস্ত শরীর ধৌত করা ফরজ, যার মধ্যে পায়ুপথও অন্তর্ভুক্ত। তবে পায়ুপথ আলাদা পানি দিয়ে ধোয়া জরুরী কিনা—এ বিষয়ে বিস্তারিত নিম্নরূপ:

হানাফি মাযহাবের মত

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, ফরজ গোসলের সময় পায়ুপথসহ সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো ফরজ। তবে পায়ুপথ আলাদা পানি দিয়ে ধোয়া জরুরী নয়; গোসলের পানি দিয়েই তা পবিত্র হয়ে যায়। কিন্তু যদি পায়ুপথে নাপাকি (মল ইত্যাদি) লেগে থাকে, তাহলে তা অপসারণ করা জরুরী।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, গোসলের সময় শরীরের কোনো অংশ শুকনো থাকলে গোসল শুদ্ধ হবে না। তাই গোসলের সময় পায়ুপথসহ শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

কিতাবের দলিল

রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী) -এ উল্লেখ আছে:

"গোসলের ফরজ হলো সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো। কোনো স্থান শুকনো থাকলে গোসল শুদ্ধ হবে না।" (রদ্দুল মুহতার, ১/১৫০)

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) -তে বলা হয়েছে:

"গোসলের মধ্যে দাঁতের মাঝখান ও নখের নিচের অংশসহ শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছানো ফরজ।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৩)

১ ঘন্টা পর ধোয়ার বিধান

যদি আপনি ফরজ গোসলের পর ১ ঘন্টা পর পায়ের মধ্যে বা পায়ুপথ ধুয়ে ফেলেন, তাহলে:

  1. যদি ঐ সময়ের মধ্যে নামাজ পড়ে থাকেন — তাহলে আপনার গোসল অসম্পূর্ণ ছিল বলে ঐ নামাজগুলো পুনরায় পড়তে হবে (যদি জানা যায় যে পানি পৌঁছায়নি)।

  2. যদি ঐ সময়ের মধ্যে নামাজ না পড়ে থাকেন — তাহলে ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেললেও আপনার গোসল শুদ্ধ হয়ে যাবে, কারণ মূল কথা হলো শরীরের সব অংশে পানি পৌঁছানো।

পায়ুপথে আলাদা পানি ব্যবহার করা

পায়ুপথ ধোয়ার জন্য আলাদা পানি ব্যবহার করা জরুরী নয়। গোসলের পানি দিয়েই পায়ুপথ ধৌত করা যাবে। তবে যদি পায়ুপথে নাপাকি লেগে থাকে, তাহলে তা অপসারণ করা জরুরী। নাপাকি অপসারণের জন্য আলাদা পানি ব্যবহার করা উত্তম, তবে গোসলের পানি দিয়েও তা করা যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ নোট

১. গোসলের সময় শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করা ফরজ। ২. পায়ুপথ, নাভির ভেতর, দাঁতের মাঝখান, নখের নিচের অংশ—এসব স্থানে পানি পৌঁছানো জরুরী। ৩. গোসলের পর কোনো স্থান শুকনো থাকার কথা মনে পড়লে সাথে সাথে ধুয়ে ফেলা উত্তম। ৪. গোসলের সময় শরীর ঘষে ধোয়া সুন্নত, যাতে পানি সর্বত্র পৌঁছে যায়।

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) তাঁর ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেছেন:

"গোসলের সময় শরীরের এমন কোনো অংশ শুকনো থাকা উচিত নয় যেখানে পানি পৌঁছানো ফরজ। যদি কোনো অংশ শুকনো থাকে, তাহলে গোসল শুদ্ধ হবে না।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৪২)

সারসংক্ষেপ

  • ফরজ গোসলের পর ১ ঘন্টা পর পায়ের মধ্যে ও পায়ুপথ ধোয়া যাবে, তবে ঐ সময়ের মধ্যে নামাজ পড়লে তা পুনরায় পড়তে হবে।
  • পায়ুপথ আলাদা পানি দিয়ে ধোয়া জরুরী নয়; গোসলের পানি দিয়েই তা পবিত্র হয়।
  • গোসলের সময় শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করা ফরজ।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.