জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের রোযার জন্য কি পৃথক নিয়ত করতে হবে?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
১.এরপর কী প্রতিদিন সুবহে সাদিকের আগে আলাদাভাবে কাজা রোজার নিয়ত করা অবশ্যক?
২.এরপর রাতে 'সেহরি খেয়ে রোজা রাখব' নিয়ত করে ঘুমিয়ে গেলে সেহরি খেতে না পারলে সারাদিন কষ্ট হওয়ার ভয়ে রোজা না রাখলে কি গুনাহ হবে?
Answer
উত্তর
প্রশ্ন ১: জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনে কাজা রোজা রাখার জন্য যদি মাসের শুরুতে একবারে নিয়ত করে দেওয়া হয়, তবে কি প্রতিদিন সুবহে সাদিকের আগে আলাদা নিয়ত করা জরুরি?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রতিদিন সুবহে সাদিকের আগে আলাদাভাবে নিয়ত করা জরুরি। কারণ রোজা একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, যার প্রতিটি দিনের জন্য পৃথক নিয়ত প্রয়োজন। শুধুমাত্র মাসের শুরুতে ‘আমি দশ দিন রোজা রাখব’ বলে নিয়ত করলে তা যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন ফজরের আগে অন্তরে নিয়ত করা আবশ্যক। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ২/৮৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৯৬; বাহেশতি জেওর, রোজা অধ্যায়)
হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাতে রোজার নিয়ত না করে, তার রোজা নেই।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৪৫৪; তিরমিজি, হাদিস: ৭২৯)
মুরব্বী আলেমদের বক্তব্য: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, প্রতিটি রোজার জন্য পৃথক নিয়ত ওয়াজিব। (সূত্র: শরহে মা'আনিল আসার, ১/৪০৫)
প্রশ্ন ২: ‘সেহরি খেয়ে রোজা রাখব’ বলে নিয়ত করে ঘুমিয়ে পড়লে এবং সেহরি খেতে না পারলে, সারাদিন কষ্টের ভয়ে রোজা না রাখলে গুনাহ হবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, গুনাহ হবে। কারণ সেহরি না খাওয়ার কারণে রোজা ভাঙা জায়েজ নয়। সেহরি খাওয়া সুন্নত, কিন্তু রোজা রাখার জন্য শর্ত নয়। আপনি রাতে নিয়ত করায় আপনার রোজা শুরু হয়েছে, তাই সেহরি খেতে না পারলেও রোজা রাখা আপনার ওপর ওয়াজিব ছিল। সারাদিন কষ্টের ভয়ে রোজা ভাঙলে তা গুনাহ হবে এবং এই রোজার কাজা ওয়াজিব হবে। তবে কষ্ট যদি এতটাই হয় যে স্বাস্থ্যহানি বা অসুস্থতার আশঙ্কা থাকে, তাহলে রোগীর জন্য রোজা ছাড়ার অনুমতি আছে। কিন্তু সাধারণ কষ্ট (যেমন দুর্বলতা, ক্ষুধা) রোজা ভাঙার বৈধ কারণ নয়। (সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৩৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১১৫; আল-হেদায়া, ১/২২৯)
হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমরা সেহরি খাও, কেননা সেহরিতে বরকত আছে।" (বুখারি, হাদিস: ১৯২৩) - এটি সুন্নত, তবে না খেলেও রোজা সহিহ হবে।
মুরব্বী আলেমদের বক্তব্য: মুফতি মুহাম্মাদ শফি (রহ.) বলেছেন: "সেহরি না খাওয়ার কারণে রোজা ছেড়ে দেওয়া জায়েজ নয়। বরং সেহরি খাওয়া সুন্নত হলেও তা রোজার শর্ত নয়।" (সূত্র: মা'আরিফুল কুরআন, ২/২৫২)
সংক্ষিপ্ত উত্তর
১. প্রতিদিন ফজরের আগে নিয়ত করা আবশ্যক; মাসের শুরুতে একবার নিয়ত যথেষ্ট নয়।
২. সেহরি না খেলে রোজা ছেড়ে দেওয়া গুনাহ; কষ্টের ভয়ে রোজা ভাঙা জায়েজ নয়। তবে চরম অসুস্থতার আশঙ্কা থাকলে ছাড়ার অনুমতি আছে।