গোল্ড ডিপিএস (Gold DPS) কেনার বিধান।
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
গোল্ড ডিপিএস (Gold DPS) কেনার বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
বিভিন্ন পেইজে গোল্ড ডিপিএস সুবিধা চালু হয়েছে। নিয়ম হলো—প্রতি মাসে নির্ধারিত তারিখে ঐ দিনের রেট অনুযায়ী ০.২৫ গ্রাম সোনার মূল্য পরিশোধ করতে হবে। ১২ মাসে মোট ১ গ্রাম সোনা হবে। ১২ মাস পর চাইলে সোনা হস্তগত করা যাবে অথবা সেই সময়ের রেট অনুযায়ী নির্ধারিত পার্সেন্টেজ কেটে মূল্য নেওয়া যাবে। এই প্রসেসে গোল্ড কেনা জায়েয হবে কি?
উত্তর
সংক্ষিপ্ত উত্তর
উপরোক্ত নিয়মে গোল্ড ডিপিএস জায়েয নয়। কারণ এটি ইসলামী শরীয়তের সুদের (রিবা) নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ
১. মূল সমস্যা: এই চুক্তিতে মূল সমস্যা হলো—আগামী মাসগুলোর জন্য নির্ধারিত তারিখে সেদিনের রেট অনুযায়ী ০.২৫ গ্রাম সোনার মূল্য পরিশোধ করা হবে। কিন্তু আপনি যখন টাকা জমা দিচ্ছেন, তখন আপনি সোনার মালিক হচ্ছেন না; বরং টাকা জমা রাখছেন। পরে যখন সোনার মূল্য বাড়বে, তখন আপনি কম টাকায় সোনা পাবেন; আর মূল্য কমলে আপনি বেশি টাকায় সোনা পাবেন। এটি মূলত একটি ভবিষ্যত লেনদেন (ফিউচার ট্রেডিং) বা বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি, যা শরীয়তে জায়েয নয়।
২. রিবা (সুদ) এর সাথে সম্পর্ক: যেহেতু আপনি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিচ্ছেন এবং ১২ মাস পর সোনা বা তার মূল্য ফেরত নিচ্ছেন, তাই এটি মূলত একটি ঋণ চুক্তি। এই ঋণের উপর সোনার মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত লাভ নেওয়া হচ্ছে, যা সুদের অন্তর্ভুক্ত।
৩. হানাফী ফিকহের আলোকে: হানাফী মাযহাবের নীতিমালা অনুযায়ী:
- স্বর্ণ-রৌপ্য ও মুদ্রা বিনিময়ে সমান ওজনে এবং হাতে হাতে (নগদ) লেনদেন হতে হবে।
- বিলম্বিত বিনিময় (নাসিয়া) জায়েয নয়।
- ভবিষ্যতের দাম নির্ধারণ করে সোনা কেনা জায়েয নয়।
৪. ফাতাওয়া উসমানী ও ইমদাদুল ফাতাওয়ার আলোকে: মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী দামেস্ক ও অন্যান্য ফিকহী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সোনা-রূপার লেনদেনে নগদ ও সমান ওজন শর্ত। এই শর্ত পূরণ না হলে লেনদেন বাতিল।
৫. বিকল্প সমাধান: যদি কেউ সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে সোনা কিনতে চান, তাহলে:
- নগদ টাকা দিয়ে সরাসরি সোনা ক্রয় করা যাবে।
- প্রতি মাসে সঞ্চিত টাকা দিয়ে বর্তমান বাজার দরে সোনা ক্রয় করে নিজের কাছে রেখে দেওয়া যাবে।
- কোনো কোম্পানির সাথে ভবিষ্যতের চুক্তি না করে বর্তমান লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।
দলীলসমূহ
কুরআন:
"আল্লাহ তা'আলা বেচাকেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)
হাদীস:
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "সোনার বিনিময়ে সোনা সমান ওজনে এবং হাতে হাতে (নগদ) বিক্রয় করো।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৫৮৭)
ফিকহী গ্রন্থ:
"সোনা-রূপার বিনিময়ে বিলম্বিত লেনদেন জায়েয নয়, যদিও তা সমান ওজনে হয়।" (আল-হিদায়া, ৩/৮৫)
"স্বর্ণ-রৌপ্য ও মুদ্রার লেনদেনে হাতে হাতে (নগদ) হওয়া শর্ত। বিলম্বিত লেনদেন রিবার অন্তর্ভুক্ত।" (রদ্দুল মুহতার, ৪/৯৩)
সতর্কতা
এই ধরনের স্কিমে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এটি শরীয়তসম্মত নয় এবং এতে সুদের সম্পর্ক জড়িত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হালাল রিজিকের তাওফীক দান করুন। আমীন।