নিশ্বাসের ব্যায়াম 'ব্রাহ্মারী প্রণয়ম' করা যাবে কিনা

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4022
Questioner: Tanjima tarannum Sheikh
Question Asked: 15 Aug 2026, 09:28 PM
Reviewed & Published: 15 Aug 2026, 09:38 PM
Views: 28
Tokens: 4,575
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Bhramari Pranayama (Humming Bee Breath)
এই শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামটি মন শান্ত করে, রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
অনুশীলনের সহজ নিয়ম:
বসার নিয়ম: সোজা হয়ে আরাম করে বসে চোখ বন্ধ রাখতে হবে ।
হাত ও আঙুলের নিয়ম: দুই হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে দুই কানের ছিদ্র হালকা চেপে বন্ধ করুন। ছোট আঙুল ঠোঁটের নিচে এবং তার পাশের আঙুলটি ঠোঁটের উপরে রাখুন। মাঝখানের আঙুলটি নাকের দুই পাশে এবং তর্জনী আঙুলটি চোখের উপরে হালকা করে রাখতে হবে ।
জিভের নিয়ম: ব্যায়ামটি করার সময় জিভটি উল্টে মুখের ভেতরের উপরের তালুতে ছুঁইয়ে রাখতে হবে ।
ধাপ ১: নাক দিয়ে গভীরভাবে পুরো শ্বাস পেটে নিতে হবে ।
ধাপ ২: শ্বাস নেওয়ার পর কষ্ট না করে মাত্র ৩ সেকেন্ড দম ধরে রাখতে হবে ।
ধাপ ৩: এবার মুখ বন্ধ রেখে, নাক দিয়ে আস্তে আস্তে শ্বাস ছাড়তে হবে এবং একই সাথে মৌমাছির মতো একটানা "উঁউঁউঁ..." শব্দ করতে হবে ।

এই ব্যায়ামের নাম ব্রহ্মারী প্রণয়ম। এই ব্যায়াম কি করা জায়েয আছে?

Answer

ব্রহ্মারী প্রণয়ম (Bhramari Pranayama) করার বিধান

প্রশ্ন: ব্রহ্মারী প্রণয়ম নামক শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামটি কি করা জায়েয আছে?


উত্তর

ব্রহ্মারী প্রণয়ম একটি শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম যা মূলত যোগব্যায়ামের একটি অংশ। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এই ব্যায়াম করার বিধান নির্ভর করে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর উপর।

মূলনীতি

১. শারীরিক ব্যায়াম হিসেবে: সাধারণ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা প্রাণায়াম যদি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য উন্নতির উদ্দেশ্যে করা হয় এবং এতে কোনো শিরকি বিশ্বাস বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান না থাকে, তাহলে তা করা জায়েয হতে পারে।

২. যোগব্যায়ামের অংশ হিসেবে: কিন্তু যদি এটি যোগব্যায়ামের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে করা হয়, যেখানে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতি জড়িত থাকে, তাহলে তা করা জায়েয নয়।

ফিকহী নীতিমালা

ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এবং অন্যান্য ফকীহগণ এই বিষয়ে মূলনীতি দিয়েছেন যে, যে কোনো কাজের বৈধতা নির্ভর করে তার উদ্দেশ্য ও পদ্ধতির উপর। যদি কোনো ব্যায়ামে:

  • শিরক বা কুফরী বিশ্বাস না থাকে
  • কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান না থাকে
  • শুধুমাত্র স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য করা হয়

তাহলে তা জায়েয।

আমাদের অবস্থান

ব্রহ্মারী প্রণয়ম মূলত যোগব্যায়ামের একটি অংশ। যোগব্যায়াম হিন্দু ধর্মীয় দর্শনের সাথে জড়িত। তবে, যদি কেউ শুধুমাত্র স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য এই শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামটি করে এবং এর সাথে কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস বা আচার-অনুষ্ঠান না জড়ায়, তাহলে:

  • শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের ব্যায়াম হিসেবে এটি করা যেতে পারে
  • তবে "ব্রহ্মারী প্রণয়ম" নামটি ব্যবহার না করে সাধারণ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম হিসেবে করা উত্তম

সতর্কতা

১. নাম পরিবর্তন: "ব্রহ্মারী প্রণয়ম" নামটি হিন্দু ধর্মীয় পরিভাষা। মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত এই নামটি ব্যবহার না করে সাধারণভাবে "শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম" বলা।

২. উদ্দেশ্য: নিয়ত হতে হবে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য উন্নতির জন্য, কোনো ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়।

৩. বিকল্প: ইসলামেও ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের উপায় রয়েছে, যেমন—নামাজে ধ্যান, যিকর ইত্যাদি।


সংক্ষিপ্ত ফতোয়া

ব্রহ্মারী প্রণয়ম যদি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য করা হয় এবং এতে কোনো শিরকি বিশ্বাস বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান না থাকে, তাহলে তা করা জায়েয। তবে নামটি পরিবর্তন করে সাধারণ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম হিসেবে করতে হবে।

যদি এটি যোগব্যায়ামের ধর্মীয় আচার হিসেবে করা হয়, তাহলে তা কোনোক্রমেই জায়েয নয়।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.