কতটুকু জোরে পড়লে সাহু সেজদা ওয়াজিব হয়
Salah-Prayer · Hanafi
Question
আমরা জানি, মাগরিবের নামাজের প্রথম দুই রাকাত ইমাম সাহেব কিরাত জোরে পড়বেন এবং শেষের এক রাকাত আস্তে পড়বেন।
এখন শেষের এক রাকাতে ইমাম সাহেব যদি সুরা ফাতেহার শুধুমাত্র 'আলহামদুলিল্লাহি এবং সাথে দু-একটা হরফ' জোরে পড়ে ফেলে! তাহলে কি সাহু সেজদাহ ওয়াজিব হবে?
- যদি সাহু সেজদাহ ওয়াজিব না হয় তাহলে কতটুকু পরিমাণ জোরে পড়ার পর সাহু সেজদাহ ওয়াজিব হয়?
- একজন আলেম এর কাছে শুনেছিলাম যে ২৯ হরফ পরিমাণ জোরে পরলে তখন সাহু সেজদাহ ওয়াজিব হয়, এটা কি ঠিক আছে?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে একটি মূলনীতি জেনে নেওয়া জরুরি। নামাজের যে রাকাতে কিরাত আস্তে পড়া সুন্নত (যেমন: মাগরিবের তৃতীয় রাকাত, যোহর ও আসরের প্রথম দুই রাকাত, মাগরিব ও ইশার তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাত), সেখানে ইমাম যদি ভুলবশত কিছুটা জোরে পড়ে ফেলেন, তাহলে তা নিয়ে বিস্তারিত হুকুম রয়েছে।
১. অল্প পরিমাণ (২-৩ হরফ) জোরে পড়লে: আপনি যে পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন—ইমাম সাহেব 'আলহামদুলিল্লাহ' এবং সাথে মাত্র দু-একটি হরফ (মোট ১৫-১৭ হরফের কম) জোরে পড়ে ফেলেছেন—এতে সাহু সেজদাহ ওয়াজিব হবে না। কারণ এটি অতি সামান্য পরিমাণ এবং এর দ্বারা নামাজের কোনো ত্রুটি ধর্তব্য হয় না। নামাজ সহীহ থাকবে এবং সাহু সেজদাহ দিতে হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ২/৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১২৫)
২. কতটুকু পড়লে সাহু সেজদাহ ওয়াজিব হয়? হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মতানুসারে, যে স্থানে আস্তে পড়া সুন্নত, সেখানে যদি ইমাম একটি আয়াত পরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি (অর্থাৎ একটি দীর্ঘ আয়াত বা ছোট আয়াত হলেও পুরোটা) জোরে পড়ে ফেলেন, তাহলে সাহু সেজদাহ ওয়াজিব হয়। আর যদি এর চেয়ে কম পড়েন, যেমন: একটি আয়াতের কিছু অংশ জোরে পড়েন, তাহলে সাহু সেজদাহ ওয়াজিব হয় না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১২৫; রদ্দুল মুহতার, ২/৮০)
৩. '২৯ হরফ' প্রসঙ্গে: আপনি যে '২৯ হরফ' এর কথা শুনেছেন, এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে হানাফি ফিকহের কিতাবে উল্লেখ আছে, একটি ছোট আয়াত পরিমাণ (যেমন: 'ثُمَّ نَظَرَ' বা এর চেয়ে ছোট কোনো আয়াত) জোরে পড়লে সাহু সেজদা ওয়াজিব হয়। তবে অনেক ফকিহ (বিশেষত ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-এর মতানুসারে) বলেছেন, একটি আয়াতের কম কিন্তু ২৯ হরফের সমান পরিমাণ জোরে পড়লে সাহু সেজদা ওয়াজিব হয়। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, একটি আয়াত পরিমাণ জোরে পড়লেই সাহু সেজদা ওয়াজিব হবে, ২৯ হরফের শর্ত নেই। আমাদের অনুসৃত (মুজতাহার আলাইহি) মত হলো, একটি আয়াত পরিমাণ জোরে পড়লে সাহু সেজদা ওয়াজিব। (বদাইউস সানাই, ২/১৮৫; ফাতাওয়া উসমানি, ১/৩৩৪)
সারকথা:
- মাগরিবের তৃতীয় রাকাতে 'আলহামদুলিল্লাহ' এবং দু-এক হরফ জোরে পড়লে সাহু সেজদা ওয়াজিব হবে না।
- একটি পূর্ণ আয়াত (ছোট আয়াত হলেও) জোরে পড়লে সাহু সেজদা ওয়াজিব হবে।
- '২৯ হরফ' এর কথাটি একটি মতের ভিত্তিতে বলা হয়ে থাকে, তবে আমাদের অনুসৃত বিশুদ্ধ মত হলো একটি আয়াত পরিমাণ জোরে পড়া। তাই ২৯ হরফের কথা চূড়ান্ত নয়।
উল্লেখ্য: ইমামের ভুলের কারণে মুক্তাদিদের উপর সাহু সেজদা ওয়াজিব হয় না, বরং ইমামের উপর ওয়াজিব হয়। ইমাম সাহু সেজদা দিলে মুক্তাদিরাও তার সাথে সেজদা দেবেন।
দলিল:
- রদ্দুল মুহতার (২/৮০): "আর যদি সে (ইমাম) আস্তে পড়ার স্থানে একটি আয়াত পরিমাণ জোরে পড়ে, তাহলে তার উপর সাহু সেজদা ওয়াজিব হবে।"
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/১২৫): "যে স্থানে কিরাত আস্তে পড়া সুন্নত, সেখানে যদি ইমাম একটি আয়াত পরিমাণ জোরে পড়ে, তাহলে সাহু সেজদা ওয়াজিব হবে; আর যদি এর কম পড়ে, তাহলে ওয়াজিব হবে না।"