নাপাক সন্দেহে বোতল স্পর্শ করলে কি তা নাপাক হবে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
আমি কিছুদিন আগে নাপাক ভেজা হাতে আমার কালো বোতল স্পর্শ করি। আমি প্রস্রাব করার পর ঠিক মত পাক হই নাই, হাতে হয়তবা নাপাক ছিল। পরে ধোয়া হয় নাই। এই বোতলে নাপাকির চিহ্ন যদি থাকেও,তবুও বুঝতে পারছি না যে আদৌ এটি ওই নাপাকির (প্রস্রাবের) চিহ্ন কিনা। মানে বোতলে পানির দাগ দেখতে পারছি। এখন পানি পাক করার সময় ও পানি গড়িয়ে পরে দাগ লাগতে পারে। আর নাপাকির (প্রস্রাবের) কোন গন্ধ কিছুই পাই না বোতল থেকে,এক্ষেত্রে কি ওই বোতল থেকে পানি পান করলে আমার মুখ বা হাত নাপাক হবে? আমি এমন সন্দেহ নিয়ে ইবাদত করেছি।
Answer
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতuh
আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো: নাপাক (প্রস্রাব) লাগার সন্দেহে একটি বোতল স্পর্শ করেছেন, কিন্তু বর্তমানে বোতলটিতে নাপাকির কোনো চিহ্ন (গন্ধ, রং) নেই, শুধু পানির দাগ আছে। এখন সেই বোতল থেকে পানি পান করলে বা ব্যবহার করলে কি নাপাক হবে?
সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, সেই বোতলটি পাক (পরিচ্ছন্ন) বলে গণ্য হবে এবং তা থেকে পানি পান করা বা ব্যবহার করা জায়েয। আপনার মুখ বা হাত নাপাক হবে না। আপনি যে সন্দেহ নিয়ে ইবাদত করেছেন, তা ভিত্তিহীন ছিল এবং আপনার ইবাদত সহীহ হয়েছে।
বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা:
ইসলামি ফিকহের (হানাফি মাযহাব) মূলনীতি হলো, "اليقين لا يزول بالشك" অর্থাৎ, "সন্দেহের দ্বারা নিশ্চিত বিশ্বাস দূরীভূত হয় না।" (আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, ইবনে নুজাইম)।
এর ভিত্তিতে, কোনো বস্তু মূলত পাক (পবিত্র) ছিল। এখন তা নাপাক হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ হলে, মূল অবস্থা (পাক হওয়া)-কেই প্রাধান্য দিতে হবে। যতক্ষণ না নাপাকির অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়, ততক্ষণ বস্তুটিকে পাকই গণ্য করা হবে।
আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম:
১. নাপাকির চিহ্ন (গন্ধ, রং, স্বাদ) না থাকলে: হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী)-এ উল্লেখ আছে, যদি কোনো বস্তুতে নাপাকির কোনো চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) না থাকে, তবে তা পাক বলে গণ্য হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩১৭)
২. সন্দেহের প্রভাব: আপনি নিজেই বলেছেন, বোতলে পানির দাগ দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু নাপাকির (প্রস্রাবের) কোনো গন্ধ পাচ্ছেন না। যেহেতু নাপাকির কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই, তাই এটি নাপাক ছিল কিনা—এই সন্দেহের কোনো মূল্য নেই। বোতলটি পাক।
৩. পানি প্রবাহিত হওয়া: আপনি যে বলেছেন, "পানি গড়িয়ে পরে দাগ লাগতে পারে"—এটি একটি অনুমান মাত্র। যেহেতু বোতলটি পাক, তাই তার পানি প্রবাহিত হয়ে অন্য জায়গায় দাগ লাগলেও সেই দাগ পাকই থাকবে এবং তা নাপাক করবে না।
৪. ইবাদতের বিধান: আপনি সন্দেহের মধ্যে থেকে যে ইবাদত (নামাজ, কুরআন স্পর্শ ইত্যাদি) করেছেন, তা সম্পূর্ণ সহীহ। কারণ, আপনার শরীর ও পোশাক পাক ছিল। সন্দেহের কারণে কোনো আমল বাতিল হয় না।
হাদিসের দলিল: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যদি তার নামাজে সন্দেহ করে যে, তার ওযু ভঙ্গ হয়েছে কিনা, তবে সে যেন সন্দেহ না করে (ওযু ভেঙেছে), যতক্ষণ না সে নিশ্চিতভাবে শব্দ শুনতে পায় বা গন্ধ পায়।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৬১)
এই হাদিসটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহকে গুরুত্ব দেওয়া যাবে না।
আপনার করণীয়:
১. সন্দেহ ত্যাগ করুন: এই বোতলটি পাক, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি থেকে পানি পান করা এবং ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েয। ২. ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) থেকে বাঁচুন: শয়তান মানুষকে এমন সন্দেহে ফেলে ইবাদতে অস্থির করে তোলে। আপনি যেহেতু নিশ্চিত নন যে নাপাক লেগেছে, তাই এটাকে পাকই মনে করবেন। ৩. ভবিষ্যতে সতর্কতা: ভবিষ্যতে নাপাক হাত দিয়ে কোনো কিছু স্পর্শ করলে, স্পর্শ করার আগে হাত ধুয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে ভুলে গেলে বা সন্দেহ হলে, উপরোক্ত নিয়মই প্রযোজ্য হবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন। (আমিন)