১০ দিন পার হওয়ার পরেও রক্ত দেখা
Taharah Purity · Hanafi
Question No:
3848
Questioner:
Musfika Khatun
Question Asked:
12 Aug 2026, 11:42 AM
Reviewed & Published:
12 Aug 2026, 11:57 AM
Views:
9
Tokens:
3,902
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ উস্তায।
আমার পিরিয়ড এর সমস্যা আছে কোনো মাসে ৭ দিন কোনো মাসে ১০ দিন হয় আবার কোনো মাসে ১৫/২০ দিনেও বন্ধ হয়না।
এ মাসে ৩১ জুলাই পিরিয়ড হয়েছে ৮ তারিখ পর্যন্ত স্রাব যায়। এরপর ৯,১০,১১ কোনো স্রাব যায় নি লালা/সাদা কোনো স্রাব যায়নি আমি নামাজ শুরু করেছি ১০ তারিখ।আজকে ১২ তারিখ আবারও লাল স্রাব দেখা গিয়েছে ওষুধ খেয়ে বন্ধ হতে ৩ দিন সময় লাগবে এখন আমিকি নামাজ পড়া কন্টিনিউ করবো নাকি বন্ধ হওয়ার অপেক্ষা করবো? যেহেতু মাঝে ৩দিন বন্ধ ছিল সেটা কি হায়েজের মধ্যে ধরা হবে?
আর ১ম ক্ষেত্রের অনুরুপ হলে সে মাসে আমি হায়েজ এর অভ্যাস ৭ দিন ধারে নামাজ পড়বো? নাকি ১০ দিন ধরে?
আমার পিরিয়ড এর সমস্যা আছে কোনো মাসে ৭ দিন কোনো মাসে ১০ দিন হয় আবার কোনো মাসে ১৫/২০ দিনেও বন্ধ হয়না।
এ মাসে ৩১ জুলাই পিরিয়ড হয়েছে ৮ তারিখ পর্যন্ত স্রাব যায়। এরপর ৯,১০,১১ কোনো স্রাব যায় নি লালা/সাদা কোনো স্রাব যায়নি আমি নামাজ শুরু করেছি ১০ তারিখ।আজকে ১২ তারিখ আবারও লাল স্রাব দেখা গিয়েছে ওষুধ খেয়ে বন্ধ হতে ৩ দিন সময় লাগবে এখন আমিকি নামাজ পড়া কন্টিনিউ করবো নাকি বন্ধ হওয়ার অপেক্ষা করবো? যেহেতু মাঝে ৩দিন বন্ধ ছিল সেটা কি হায়েজের মধ্যে ধরা হবে?
আর ১ম ক্ষেত্রের অনুরুপ হলে সে মাসে আমি হায়েজ এর অভ্যাস ৭ দিন ধারে নামাজ পড়বো? নাকি ১০ দিন ধরে?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নটি হায়েজ (মাসিক) ও ইস্তিহাযার (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) সংক্রান্ত জটিল একটি মাসআলা। নিচে বিস্তারিতভাবে উত্তর দেওয়া হলো:
১. মাঝে ৩ দিন বন্ধ থাকা অবস্থায় নামাজ পড়া কি ঠিক হয়েছে?
হ্যাঁ, আপনি ১০ তারিখে নামাজ শুরু করে সঠিক কাজই করেছেন। যেহেতু ৯, ১০, ১১ তারিখে সম্পূর্ণরূপে স্রাব বন্ধ ছিল (লাল বা সাদা কোনো স্রাবই ছিল না), তাই ঐ দিনগুলোতে আপনি পবিত্র ছিলেন এবং নামাজ পড়া আপনার জন্য বৈধ ছিল।
২. হায়েজের অভ্যাস (আদত) কীভাবে নির্ধারণ করবেন?
আপনার ক্ষেত্রে হায়েজের অভ্যাস নির্ধারণের নিয়ম হলো:
- প্রথম ৩ মাস আপনার হায়েজের সময়কাল লক্ষ্য করুন। যেমন: কোনো মাসে ৭ দিন, কোনো মাসে ১০ দিন, কোনো মাসে ১৫/২০ দিন।
- হায়েজের সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন। এর বেশি রক্তস্রাব চললে তা হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক স্রাব) হিসেবে গণ্য হবে।
- আপনার অভ্যাস (আদত) হবে সেই সময়কাল যা টানা ৩ মাস একই রকম থাকে। কিন্তু যেহেতু আপনার সময়কাল প্রতিবার পরিবর্তিত হয়, তাই আপনার জন্য নির্ভরযোগ্য নিয়ম হলো:
- প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ দিন হায়েজ হিসেবে গণ্য করবেন। এর মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে গোসল করে নামাজ শুরু করবেন। এরপর আবার রক্ত দেখা দিলে, যদি মোট ১০ দিনের মধ্যে হয়, তবে সেটিও হায়েজের অন্তর্ভুক্ত হবে।
- ১০ দিনের বেশি রক্ত চলতে থাকলে বাকি দিনগুলো ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। ইস্তিহাযার অবস্থায় নামাজ, রোজা ইত্যাদি আদায় করতে হবে, যদিও রক্ত চলতে থাকে।
সারসংক্ষেপে:
- ১০ দিনের বেশি রক্তস্রাব হলে বাকি দিনগুলো ইস্তিহাযা।
- ১০ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে সেটাই হায়েজ।
- মাঝে ৩ দিন বন্ধ থাকা সতর্কতা মূলক নামাজ পড়া শুরু করতে হবে। আবার রক্ত দেখা দিলে নামাজ ছেড়ে দিতে হবে।
- আপনার জন্য এখন করণীয়: যেহেতু আপনার এ মাসে পিরিয়ড ৩১ তারিখে শুরু হয়ে ৮ তারিখে শেষ হয়েছে। আজকে ১২ তারিখে অর্থাৎ ১০ দিন পার হওয়ার পর আবার দেখা দিয়েছে। তাই এটা ইস্তিহাজা হবে। গত মাসে যতদিন আপনার হায়েজ ছিলো তা এই মাসেও ধরে বাকি দিন ইস্তিহাজা হিসাবে ধরবেন।
রেফারেন্স (হানাফি ফিকহ):
- আল-হিদায়াহ: হায়েজের সর্বোচ্চ সীমা ১০ দিন, ইস্তিহাযার বিধান।
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): হায়েজ ও ইস্তিহাযার পার্থক্য এবং অভ্যাস নির্ধারণের নিয়ম।
- ফাতাওয়া উসমানি: মাসিকের অনিয়ম ও ইস্তিহাযার ক্ষেত্রে করণীয়।
- বেহেশতী জেওর: হায়েজ, নিফাস ও ইস্তিহাযার বিস্তারিত মাসআলা।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আপনার জন্য সহজ করুন। আমিন।