৩/৪ ভড়ি স্বর্ণের সাথে কিছু রূপা রয়েছে, কুরবানি কি ওয়াজিব হবে?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 383
Questioner: MD Enamul Haque
Question Asked: 19 May 2026, 10:26 PM
Reviewed & Published: 19 May 2026, 10:47 PM
Views: 38
Tokens: 3,335
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমার তিন/চার ভরি মতো স্বর্ণের গহণা আছে। পাশাপাশি অল্প কিছু রূপা আছে (ছোট বেলার রূপার চুড়ি, যা বর্তমানে ছোট হওয়ার কারণে ব্যাবহারের অনুপযোগী)। সব মিলিয়ে আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব। আমার নগদ কোনো টাকা নেই। শুধু মাত্র nagad একাউন্টে ০.৩০ ডিজিটাল টাকা আছে, যা এক টাকারও কম এবং পয়েন্ট আকারে থাকায় এর কোনো ভ্যালু নেই। আমার স্বামীর অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। উনি আমার কুরবানীর জন্য আর্থিক সহোযোগিতা দিতে চাইলে উনার জন্য প্রেশার হয়ে যায় হয়তো। আমি উনার উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাচ্ছি না। আমি আমার স্বর্ণের গহনা বিক্রয় করে কুরবানি দিতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার স্বামী এটা পছন্দ করেছেন না,হতে পারে উনি বর্তমান থাকতে উনার টাকা না থাকায় আমি গহনা বিক্রয় করছি এটার জন্য উনি হীনমন্যতায় ভুগছেন। তবে তিনি সরাসরি নিষেধ করছেন না। তবে আমি বুঝতে পারছিলাম তিনি মনোকষ্টে ভুগছেন, ওয়াল্লাহু আ'লাম। তো আমার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছলা আমার রূপার চুড়ি জোড়া বিক্রয় করে উক্ত বিক্রয় মূল্য কোনো কাজে খরচ করে ফেলব। তাহলে আর আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব থাকবেনা। এই সিদ্ধান্তে তিনিও খুশি আর আমার স্বামী বলেছেন পরের বার থেকে প্রতি মাসে টাকা জমিয়ে জমিয়ে কুরবানী দেওয়ার ব্যাবস্থা করবেন। পরের বছর থেকে আর এসব কৌশল অবলম্বন করতে হবে না ইন শা আল্লাহ। কিন্তু আমার কেমন যেন মন টা খচ খচ করছে। মনে হচ্ছে কাজটি বনি ইজরাইলের নিষিদ্ধ দিনে কৌশল করে মাছ ধরার মতো হয়ে যাচ্ছে। আমার পরিস্থিতিতে আসলে কী করনীয় আমি ঠিক বুঝতে পারছিনা। আমাকে অনুগ্রহ করে পরামর্শ দিন।

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
আপনার কাছে ৩/৪ ভরি স্বর্ণ এবং কিছু রূপা (ছোটবেলার অনুপযোগী চুড়ি) আছে, যা মোট নেসাবের বেশি হওয়ায় আপনার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। আপনার নগদ টাকা নেই, এবং স্বামী আর্থিকভাবে সক্ষম নন বলে আপনি স্বর্ণ বিক্রি করতে চান, কিন্তু স্বামী মানসিক কষ্টে ভুগছেন। তাই আপনি রূপার চুড়ি বিক্রি করে টাকা খরচ করে ফেলার পরিকল্পনা করছেন, যাতে নেসাব কমে যায় এবং কুরবানী ওয়াজিব না হয়। কিন্তু আপনার মন খচখচ করছে যে এটি একটি শরয়ী কৌশল (হীলা) হচ্ছে কি না।

শরয়ী বিধান:
মাল দু ধরনের হয়ে থাকে। (১)মালে নামি বা বাড়ন্ত মাল।যেমন সোনা-রূপা/মুদ্রা,ব্যবসায়িক পণ্য,গৃহ পালিত পশু। এসবে যাকাত ওয়াজিব হয়। এবং যমিনে উৎপাদিত ফসলে উশর ওয়াজিব হয়।যতবার উৎপাদিত হবে ততবারই উশর আসবে।

(২) মালে গয়রে নামী বা অবাড়ন্ত মাল,যেমন জমি,প্রয়োজন অতিরিক্ত গাড়ী, বাড়ী বা আসবাব পত্র ইত্যাদি।এসবে যাকাত ফরয না হলেও ফিতরা এবং কুরবানি ওয়াজিব হবে।

অর্থাৎ যাকাত ফরয হওয়ার জন্য মালে নামী হওয়া শর্ত।অন্যদিকে ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য মালে নামী হওয়া শর্ত নয়।বরং নেসাব পরিমাণ মালে নামী হলে তো আসবেই এমনকি গায়রে নামী হলেও আসবে।

সুতরাং ঈদের দিন যদি কেউ নেসাব পরিমাণ তথা গায়রে নামী নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়,তাহলে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে। ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাব পরিমাণ মালে নামীর মালিক হওয়া শর্ত নয়।বরং কেউ গায়রে নামী নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হলেও তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে।

আপনার উপর উপর কুরবানি ওয়াজিব। এখন যদি রূপাকে বিক্রি করে দেন, এবং নগদ কোনো টাকাও আপনার কাছে না থাকে, তাহলে কুরবানি ওয়াজিব হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত এমনটা কখনো উচিত হবে না।এবং জায়েয হবে না।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.