৩/৪ ভড়ি স্বর্ণের সাথে কিছু রূপা রয়েছে, কুরবানি কি ওয়াজিব হবে?
Qurbani-Slaughtering · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
আপনার কাছে ৩/৪ ভরি স্বর্ণ এবং কিছু রূপা (ছোটবেলার অনুপযোগী চুড়ি) আছে, যা মোট নেসাবের বেশি হওয়ায় আপনার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। আপনার নগদ টাকা নেই, এবং স্বামী আর্থিকভাবে সক্ষম নন বলে আপনি স্বর্ণ বিক্রি করতে চান, কিন্তু স্বামী মানসিক কষ্টে ভুগছেন। তাই আপনি রূপার চুড়ি বিক্রি করে টাকা খরচ করে ফেলার পরিকল্পনা করছেন, যাতে নেসাব কমে যায় এবং কুরবানী ওয়াজিব না হয়। কিন্তু আপনার মন খচখচ করছে যে এটি একটি শরয়ী কৌশল (হীলা) হচ্ছে কি না।
শরয়ী বিধান:
মাল দু ধরনের হয়ে থাকে।
(১)মালে নামি বা বাড়ন্ত মাল।যেমন সোনা-রূপা/মুদ্রা,ব্যবসায়িক পণ্য,গৃহ পালিত পশু।
এসবে যাকাত ওয়াজিব হয়।
এবং যমিনে উৎপাদিত ফসলে উশর ওয়াজিব হয়।যতবার উৎপাদিত হবে ততবারই উশর আসবে।
(২) মালে গয়রে নামী বা অবাড়ন্ত মাল,যেমন জমি,প্রয়োজন অতিরিক্ত গাড়ী, বাড়ী বা আসবাব পত্র ইত্যাদি।এসবে যাকাত ফরয না হলেও ফিতরা এবং কুরবানি ওয়াজিব হবে।
অর্থাৎ যাকাত ফরয হওয়ার জন্য মালে নামী হওয়া শর্ত।অন্যদিকে ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য মালে নামী হওয়া শর্ত নয়।বরং নেসাব পরিমাণ মালে নামী হলে তো আসবেই এমনকি গায়রে নামী হলেও আসবে।
সুতরাং ঈদের দিন যদি কেউ নেসাব পরিমাণ তথা গায়রে নামী নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়,তাহলে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে। ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাব পরিমাণ মালে নামীর মালিক হওয়া শর্ত নয়।বরং কেউ গায়রে নামী নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হলেও তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে।
আপনার উপর উপর কুরবানি ওয়াজিব। এখন যদি রূপাকে বিক্রি করে দেন, এবং নগদ কোনো টাকাও আপনার কাছে না থাকে, তাহলে কুরবানি ওয়াজিব হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত এমনটা কখনো উচিত হবে না।এবং জায়েয হবে না।