ডিএন্ডসির পর রক্তস্রাবের বিধান

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 3728
Questioner: 0102
Question Asked: 09 Aug 2026, 03:09 PM
Reviewed & Published: 09 Aug 2026, 03:32 PM
Views: 13
Tokens: 2,332
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

৬সপ্তাহের বাচ্চা,হার্টবিট আসছে।আল্ট্রা করে দেখা বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে,তাই ডিএনসি করে বাচ্চা টুকরো করে বের করে ফেলে।এমতাবস্থায় নামাযের বিধান কি?

Answer

নামাযের বিধান প্রসঙ্গে

প্রশ্নের উত্তর

৬ সপ্তাহের গর্ভের সন্তান হার্টবিট আসার পর নষ্ট হয়ে গেছে এবং ডিএন্ডসি (D&C) পদ্ধতিতে বাচ্চা টুকরো করে বের করে ফেলা হয়েছে। এই অবস্থায় মহিলার জন্য নামাযের বিধান হলো:

গর্ভপাতের পর রক্তস্রাব (নিফাস/ইস্তিহাযা) সম্পর্কিত বিধান:

১. যদি গর্ভের সন্তানের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্টভাবে তৈরি হয়ে থাকে (অর্থাৎ হাত, পা, মাথা ইত্যাদি চেনা যায়), তাহলে সন্তান প্রসবের পর যে রক্ত আসবে তা নিফাস (প্রসবোত্তর স্রাব) হিসেবে গণ্য হবে। নিফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ দিন। এই সময়ে নামায, রোযা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবে এবং পরবর্তীতে রোযার কাযা করবে।

২. যদি সন্তান টুকরো টুকরো অবস্থায় বের হয় এবং কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চেনা না যায় (যেমন ৬ সপ্তাহের ভ্রূণ সাধারণত টুকরো হয়ে যায়), তাহলে সেটি গর্ভপাত হিসেবে গণ্য হবে। এই অবস্থায় রক্তস্রাবের বিধান নির্ভর করবে:

  • যদি রক্তস্রাব ৩ দিনের বেশি হয় এবং মহিলার স্বাভাবিক হায়েযের সময়সীমার সাথে মিলে যায়, তাহলে তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।
  • যদি রক্তস্রাব ৩ দিনের কম হয়, তাহলে তা ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক স্রাব) হিসেবে গণ্য হবে। ইস্তিহাযার অবস্থায় নামায, রোযা ইত্যাদি আদায় করতে হবে, তবে অযু করে নামায পড়তে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ নোট

যেহেতু প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে যে ৬ সপ্তাহের বাচ্চা "টুকরো করে বের করে ফেলা হয়েছে" এবং সাধারণত ৬ সপ্তাহে ভ্রূণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্টভাবে চেনা যায় না, তাই এই অবস্থায় রক্তস্রাব ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্থানীয় আলেম বা মুফতির সাথে পরামর্শ করা উচিত।

দলিল

কুরআনুল কারীম:

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى "আর তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে হায়েয সম্পর্কে। বলুন, তা হলো অশুচি (অপবিত্রতা)।" (সূরা আল-বাকারা: ২২২)

হাদীস শরীফ: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"নিফাসের সময়কাল হলো ৪০ দিন।" (আবু দাউদ, তিরমিযী)

ফাতাওয়া উসমানী: মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম উল্লেখ করেছেন যে, গর্ভপাতের পর রক্তস্রাবের বিধান নির্ভর করে ভ্রূণের অবস্থার উপর। যদি ভ্রূণের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হয়, তাহলে তা নিফাস; অন্যথায় ইস্তিহাযা।

রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):

"যদি গর্ভপাতের পর রক্ত আসে এবং ভ্রূণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট না হয়, তাহলে তা নিফাস নয়, বরং ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।" (রদ্দুল মুহতার, ১/৩০০)

উপসংহার

আপনার ক্ষেত্রে ৬ সপ্তাহের ভ্রূণ টুকরো হয়ে বের হওয়ায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চেনা না গেলে রক্তস্রাব ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। ইস্তিহাযার অবস্থায় নামায, রোযা ইত্যাদি আদায় করতে হবে। তবে প্রতিটি নামাযের জন্য নতুন অযু করতে হবে এবং ফরয নামাযের সময় প্রবেশের পর অযু করা উত্তম।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.