আমাকে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি জানিয়ে দিন আর কিছু উত্তম নাসীহাহ দিন।

Taharah Purity · Hanbali

Question No: 3693
Questioner: Sadia Arfin
Question Asked: 08 Aug 2026, 05:54 PM
Reviewed & Published: 08 Aug 2026, 06:22 PM
Views: 9
Tokens: 2,854
This answer is according to the 'Hanbali' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ!
আমাকে দুই জ্বীন আছর করেছে। তারা আমাকে ওযূ, গোসল, বাচ্চা প্রতিপালন, কুরআন তিলওয়াত শুনতে বাধা দেয়। নামাজে তাদের তীব্র ওয়াসওয়াসা দেয়। আমার নামাজ পড়তে ইচ্ছে হয় না আর। স্বামীর সাথে কলহ সৃষ্টি হয়। আমি দ্বীনের পথে থাকতে চাই।

আমাকে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি জানিয়ে দিন আর কিছু উত্তম নাসীহাহ দিন।

Answer

ওয়াসওয়াসা ও জ্বিনের আছর থেকে মুক্তির উপায়

উত্তর:

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রিয় বোন, আপনার সমস্যা বুঝতে পেরেছি। জ্বিনের আছর বা ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করুন:

রুকইয়াহ করার পদ্ধতি:

১. নিজে রুকইয়াহ করা:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের ক্ষতি দূর করার জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করে, তা রুকইয়াহ হিসেবে গণ্য হবে।" (মুসলিম: ২২০০)

পদ্ধতি:

  • প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫) পড়ুন
  • সূরা ফালাকসূরা নাস ৩ বার করে পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দিন
  • সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬) প্রতিদিন রাতে পড়ুন
  • সূরা ফাতিহা ৭ বার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করুন

২. সূরা বাকারা পাঠ:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না। নিশ্চয়ই শয়তান সেই ঘর থেকে পালিয়ে যায় যেখানে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়।" (মুসলিম: ৭৮০)

৩. যিকর ও দু'আ:

  • সকাল-সন্ধ্যার যিকর নিয়মিত করুন
  • "বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা'ই ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম" - দিনে ৩ বার পড়ুন (আবু দাউদ: ৫০৮৮)

গুরুত্বপূর্ণ নাসীহাহ:

১. নামাজ ত্যাগ করবেন না:

শয়তানের প্রধান লক্ষ্যই হলো আপনাকে নামাজ থেকে দূরে রাখা। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: "শয়তান যখন দেখে যে বান্দা নামাজে অটল, তখন সে তার ওয়াসওয়াসা বৃদ্ধি করে যাতে সে নামাজ ছেড়ে দেয়।"

২. ধৈর্য ধারণ করুন:

আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" (সূরা বাকারা: ১৫৩)

৩. স্বামীর সাথে সম্পর্ক:

শয়তান স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টি করতে চায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইবলীস তার সিংহাসন পানির উপর স্থাপন করে, অতঃপর তার সৈন্যদের পাঠায়। তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় মর্যাদার অধিকারী হয় সে-ই বেশি ফিতনা সৃষ্টি করে।" (মুসলিম: ২৮১৩)

৪. তাওয়াক্কুল:

আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।"

৫. পাপ থেকে দূরে থাকুন:

পাপের কারণে শয়তানের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাওবা করুন এবং ইস্তিগফার বেশি করুন।

অতিরিক্ত পরামর্শ:

  • ঘরে সূরা বাকারা নিয়মিত পাঠ করুন - বিশেষ করে ৩ দিনে সম্পূর্ণ সূরা বাকারা পাঠ করুন
  • আযানের শব্দ শুনুন - কারণ জ্বিন আযানের শব্দে পালিয়ে যায়
  • বিয়ের সময় "বিসমিল্লাহ" বলে সহবাস করুন - এতে শয়তান দূরে থাকে (বুখারি: ৩২৭১)
  • বাচ্চাদের উপর রুকইয়াহ করুন - আয়াতুল কুরসি ও সূরা ফালাক/নাস পড়ে ফুঁ দিন

দু'আ:

"আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস, আজহিবিল বা'সা, ইশফি আন্তাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা" (হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করুন, আরোগ্য দিন। আপনিই আরোগ্য দানকারী। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখবে না।) (বুখারি: ৫৭৪৩)

আল্লাহ আপনাকে শিফা দান করুন এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।


দ্রষ্টব্য: যদি অবস্থা গুরুতর হয়, তাহলে কোনো বিশ্বস্ত ও যোগ্য আলেমের মাধ্যমে রুকইয়াহ করাতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, রুকইয়াহ মূলত কুরআন ও সহীহ দু'আ দ্বারা হয়, কোনো কুসংস্কার বা শিরকী পদ্ধতি নয়।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.