আমার হাসবেন্ড রাগ করে বলসে,অন্য কাউকে বিয়ে করো,দেখবো কেমন সংসার করো। নিজে তালাক প্রদানের নিয়তে বলে নি। এটার জন্য কি তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3672
Questioner: Nailah Yasmin
Question Asked: 08 Aug 2026, 01:45 PM
Reviewed & Published: 08 Aug 2026, 01:52 PM
Views: 10
Tokens: 2,241
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
আমার হাসবেন্ড রাগ করে বলসে,অন্য কাউকে বিয়ে করো,দেখবো কেমন সংসার করো।
নিজে তালাক প্রদানের নিয়তে বলে নি।
এটার জন্য কি তালাক হবে?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার স্বামী রাগের মাথায় বলেছেন, "অন্য কাউকে বিয়ে করো, দেখবো কেমন সংসার করো।" কিন্তু তিনি নিজে তালাক দেওয়ার নিয়ত করেননি। এই বাক্যের মাধ্যমে তালাক হবে কিনা—ইসলামি ফিকহের (হানাফি মাযহাব) আলোকে এর বিস্তারিত বিশ্লেষন নিচে তুলে ধরা হলো।

ফিকহি নীতি ও বিশ্লেষণ

হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, তালাকের শব্দগুলো প্রধানত দুই প্রকার: ১. সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ: যেমন "তালাক দিলাম", "আমি তোমাকে তালাক দিলাম" ইত্যাদি। এই শব্দগুলোতে নিয়তের প্রয়োজন হয় না; উচ্চারণ করলেই তালাক পতিত হয়। ২. কিনায়া (অস্পষ্ট/ইঙ্গিতপূর্ণ) শব্দ: যেমন "তুমি আমার জন্য হারাম", "তুমি মুক্ত", "তোমার বাড়ি যাও", "অন্য কাউকে বিয়ে করো" ইত্যাদি। এই ধরনের শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত অপরিহার্য। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি বলছে, তার অন্তরে কি তালাক দেওয়ার ইচ্ছা আছে, তা বিবেচ্য।

আপনার ক্ষেত্রে, "অন্য কাউকে বিয়ে করো" বাক্যটি একটি কিনায়া (ইঙ্গিতপূর্ণ) শব্দ। যেহেতু আপনার স্বামী নিজে তালাক দেওয়ার নিয়ত করেননি, বরং রাগের মাথায় এমনটি বলেছেন, তাই হানাফি ফিকহ অনুযায়ী এই বাক্যে তালাক পতিত হবে না।

দলিল ও উদ্ধৃতি

১. কিতাবুল আসল (ইমাম মুহাম্মাদ): ইমাম মুহাম্মাদ রহ. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কিনায়া শব্দে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়তের শর্ত প্রযোজ্য। নিয়ত ব্যতীত কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না।

২. আল-হিদায়াহ: এই প্রসিদ্ধ হানাফি গ্রন্থে বলা হয়েছে, কিনায়া শব্দগুলোতে তালাক পতিত হওয়া নির্ভর করে নিয়তের উপর। যদি স্বামী তালাকের নিয়ত করে, তবেই তালাক পতিত হবে; অন্যথায় হবে না।

৩. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ইমাম ইবনে আবিদীন রহ. তাঁর ফতোয়ার গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, "অন্য কাউকে বিয়ে করো" বা "তুমি অন্যত্র চলে যাও" এর মতো বাক্যগুলো কিনায়া। এতে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮৭)

৪. ফতোয়া আলমগীরী: এই গ্রন্থেও উল্লেখ আছে যে, কিনায়া শব্দে তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হয় না। (ফতোয়া আলমগীরী, ১/৩৭৩)

মাসয়ালার সারসংক্ষেপ

  • আপনার স্বামী রাগের মাথায় বলেছেন, "অন্য কাউকে বিয়ে করো, দেখবো কেমন সংসার করো।"
  • এটি একটি কিনায়া (ইঙ্গিতপূর্ণ) বাক্য।
  • যেহেতু তিনি তালাক দেওয়ার নিয়ত করেননি, তাই এই বাক্যে কোনো তালাক পতিত হয়নি।
  • আপনার বিবাহ বৈধ ও বহাল রয়েছে। আপনারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে থাকতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

১. সতর্কতা: যদিও এই বাক্যে তালাক হয়নি, তবুও ভবিষ্যতে যেন এমন কথা না বলেন, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। রাগের মাথায় তালাকের শব্দ উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি, কারণ অনেক সময় সরীহ শব্দ উচ্চারণ করলে নিয়ত ছাড়াও তালাক পতিত হয়ে যায়।

২. সম্পর্ক উন্নয়ন: রাগের কারণে এমন কথা বলায় আপনার স্বামীর সাথে কথা বলে সম্পর্কের উন্নতি করার চেষ্টা করুন। ইসলামি জীবনধারা অনুযায়ী ধৈর্য ও সহানুভূতির সাথে পারিবারিক জীবন পরিচালনা করুন।

৩. মাসয়ালা জানা: তালাক সংক্রান্ত যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে স্থানীয় মুফতি বা আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আপনার সংসারে শান্তি ও বরকত দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.