নাম রাখা নিয়ে
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
নাম রাখা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
কারো নাম "শাফি" রাখা যাবে কি না, যেহেতু "আশ-শাফি" (الشافي) আল্লাহ তাআলার একটি গুণবাচক নাম।
উত্তর
সংক্ষিপ্ত উত্তর: "শাফি" (شافع) নামটি রাখা যাবে, তবে "আশ-শাফি" (الشافي) নামটি আল্লাহর বিশেষ গুণবাচক নাম হওয়ায় তা এককভাবে রাখা অনুচিত।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ
১. "শাফি" ও "আশ-শাফি" এর মধ্যে পার্থক্য
আরবি ভাষায় দুটি ভিন্ন শব্দ রয়েছে:
-
আশ-শাফি (الشافي): এটি আল্লাহ তাআলার একটি গুণবাচক নাম, যার অর্থ "আরোগ্য দানকারী" বা "নিরাময়কারী"। এটি কুরআন ও হাদিসে আল্লাহর গুণ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যখন আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।" (সূরা আশ-শুআরা: ৮০)
-
শাফি (شافع): এটি একটি আরবি নাম যার অর্থ "সুপারিশকারী" বা "মধ্যস্থতাকারী"। এটি আল্লাহর নাম নয়, বরং এটি একটি সাধারণ আরবি নাম। রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে "শাফি" বলা হয় কিয়ামতের দিন উম্মতের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে।
২. হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি
হানাফি ফিকহের আলোকে নাম রাখার নিয়ম সম্পর্কে ইমামগণ বলেন:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার অনুসারী ফকিহগণ বলেন, আল্লাহর বিশেষ গুণবাচক নামসমূহ যেমন: আর-রহমান, আর-রাহিম, আল-খালিক, আর-রাজিক, আল-কুদ্দুস, আল-আহাদ ইত্যাদি নামে মানুষকে নাম রাখা মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। তবে যে নামগুলো আল্লাহর নাম হলেও মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়, যেমন: রশিদ, করিম, আজিজ ইত্যাদি — সেগুলো "আব্দুল" (দাস) যোগ করে রাখা উত্তম, তবে এককভাবেও রাখা যাবে।
**ইবনে আবিদিন (রহ.)**在其著名的《রাদ্দুল মুহতার》一书中提到:
"يُكْرَهُ التَّسَمِّي بِأَسْمَاءِ اللَّهِ الْمُخْتَصَّةِ بِهِ كَالرَّحْمَنِ وَالْقُدُّوسِ وَالْخَالِقِ وَنَحْوِهَا"
"আল্লাহর বিশেষ নামসমূহ যেমন রহমান, কুদ্দুস, খালিক ইত্যাদি দ্বারা নাম রাখা মাকরুহ।"
৩. "শাফি" নাম রাখার বিধান
"শাফি" (شافع) শব্দটি আল্লাহর নাম নয়, বরং এটি একটি সাধারণ আরবি নাম। তাই এই নাম রাখা জায়েয।
তবে "শাফি" (الشافي) — অর্থাৎ "আশ-শাফি" — আল্লাহর গুণবাচক নাম। এই নামটি এককভাবে কারো নাম রাখা মাকরুহ হবে। কেননা এটি আল্লাহর বিশেষ গুণ।
৪. গুরুত্বপূর্ণ নোট
১. "শাফি" (شافع) ও "শাফি" (شافي) — এই দুটি শব্দের উচ্চারণ ও অর্থ ভিন্ন। প্রথমটি "সুপারিশকারী" এবং দ্বিতীয়টি "আরোগ্য দানকারী"।
২. রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে "শাফি" বলা হয়, যেমন হাদিসে এসেছে — কিয়ামতের দিন তিনি উম্মতের জন্য সুপারিশ করবেন। তাই এই নামটি রাখা যেতে পারে।
৩. তবে "আশ-শাফি" (الشافي) নামটি আল্লাহর বিশেষ নাম হওয়ায় তা এককভাবে না রেখে "আব্দুল্লাহ" বা "আব্দুর রহমান" জাতীয় নাম রাখা উত্তম।
৫. উত্তম নাম রাখার নিয়ম
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় নাম হলো 'আব্দুল্লাহ' এবং 'আব্দুর রহমান'।" (সহিহ মুসলিম: ২১৩২)
তাই সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে উত্তম হলো:
- আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান, আব্দুল আজিজ ইত্যাদি
- নবীদের নাম: মুহাম্মদ, ইবরাহিম, মুসা, ঈসা ইত্যাদি
- সাহাবীদের নাম: আবু বকর, উমর, উসমান, আলী ইত্যাদি
- অর্থসুন্দর সাধারণ নাম: শাফি, কারিম, রশিদ ইত্যাদি
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
"শাফি" (شافع) নামটি রাখা জায়েয এবং এটি একটি ভালো নাম। তবে "আশ-শাফি" (الشافي) নামটি আল্লাহর বিশেষ গুণবাচক নাম হওয়ায় তা এককভাবে রাখা মাকরুহ।
আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
সূত্রসমূহ: রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), ফাতাওয়া হিন্দিয়া, বেহেশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভী), ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি), মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি)