ফেসবুকে হাদিস দেখলে পড়ার শর্তে তালাক দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অন্য জায়গায় হাদিস দেখেও পড়া হয়নি—এতে কি তালাক পতিত হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3617
Questioner: Forid Hm
Question Asked: 07 Aug 2026, 05:56 PM
Reviewed & Published: 07 Aug 2026, 06:04 PM
Views: 7
Tokens: 4,234
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু


প্রিয় হুজুর
আমি বিগত দিনে আমার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমন সত্যযুক্ত তালাক রেখেছিলাম যে মোবাইলে ফেসবুকে কোনরকম হাদিস এলে সে হাদীসটি আমি পড়বো যদি হাদিসের মান এবং কত নম্বর হাদিস লেখা থাকে। কিন্তু আমি তখন এমন বলিনি যে যেখানেই হাদিস দেখব সেখানেই হাদিস পড়বো। তো আমি অন্য জায়গায় কোন হাদিস লেখা দেখেছি কিন্তু পড়িনি এতে কি আমার স্ত্রীর উপর তালা পতিত হবে আমার উদ্দেশ্যে ছিল ফেসবুক যেদিন ওপেন করব ওপেন করার পর পেজে কোন হাদিসে লেখা এলে এবং মান থাকলে এবং কত নম্বর হাদিস লেখা থাকলে হাদিস পড়বো। কিন্তু সব জায়গায় লেখা থাকলে পড়ব এমনটা আমার উদ্দেশ্য ছিল না বা উদ্দেশ্য নেই তো অন্য জায়গায় হাদিস দেখেছি কিন্তু পড়িনি। এ দেখি আমার স্ত্রীর উপরে তালাক পতিত হবে দয়া করে জানাবেন। আমার মেয়ের উদ্দেশ্যে ছিল মোবাইলে দেখলে বলবো

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে পড়ার পর আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আপনি আপনার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি শর্তযুক্ত তালাক দিয়েছিলেন। শর্তটি ছিল এই যে, ফেসবুকে (মোবাইলে) এমন কোনো হাদিস দেখলে যা পড়ার যোগ্য (সহীহ) এবং যার নম্বর লেখা থাকবে, তাহলে আপনি তা পড়বেন। কিন্তু আপনি অন্য কোনো জায়গায় (যেমন: অন্য ওয়েবসাইট, বই, বা অন্য কোনো মাধ্যমে) হাদিস দেখেছেন কিন্তু পড়েননি। এখন আপনার প্রশ্ন হলো, এই কারণে আপনার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হবে কি না?

উত্তর:

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র ফেসবুকের পেজে হাদিস দেখলে পড়বেন। অন্য কোনো জায়গায় (যেমন: অন্য ওয়েবসাইট, বই, বা অন্য কোনো মাধ্যমে) হাদিস দেখলে পড়বেন—এমনটি আপনার উদ্দেশ্য ছিল না। যেহেতু আপনি অন্য জায়গায় হাদিস দেখেছেন কিন্তু পড়েননি, এবং আপনার নিয়ত/উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র ফেসবুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই আপনার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হবে না।

কারণ ও বিস্তারিত আলোচনা:

ইসলামী ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, তালাকের ক্ষেত্রে শর্ত ও নিয়তের (উদ্দেশ্য) বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে শর্তটি যতটুকু নির্ধারিত ছিল, ততটুকুই প্রযোজ্য হবে। আপনার শর্তটি ছিল "ফেসবুকে হাদিস দেখলে পড়বো"। আপনি অন্য জায়গায় হাদিস দেখেছেন কিন্তু পড়েননি, যা আপনার শর্তের আওতাভুক্ত নয়। তাই এই কারণে তালাক পতিত হবে না।

তবে, এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আপনি যে শর্তটি উল্লেখ করেছেন, তা যদি এমন হয় যে, "যেখানেই হাদিস দেখব, সেখানেই পড়বো" — তাহলে অন্য জায়গায় হাদিস দেখেও না পড়ায় তালাক পতিত হতো। কিন্তু আপনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আপনার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র ফেসবুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই আপনার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হবে না।

হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে:

হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে (যেমন: রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া আলমগীরি, আল-হিদায়া) তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত ও শর্তের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ না হলে তালাক পতিত হয় না। যেহেতু আপনার শর্তটি ফেসবুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং আপনি অন্য জায়গায় হাদিস পড়েননি, তাই শর্ত পূরণ হয়নি। ফলে তালাক পতিত হবে না।

উপসংহার:

আপনার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়নি। আপনার বিবাহ বৈধ রয়েছে। তবে, ভবিষ্যতে এ ধরনের শর্তযুক্ত তালাক থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এটি একটি গুরুতর বিষয়। তালাকের শর্ত দেওয়ার সময় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। (আমিন)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.