সুদসহ ঋণ নিলে ঋণগ্রহীতার টাকার হুকুম

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3509
Questioner: Mariam Khatun
Question Asked: 05 Aug 2026, 07:18 AM
Reviewed & Published: 05 Aug 2026, 07:44 AM
Views: 9
Tokens: 3,867
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ

১. কেউ কোনো এনজিও বা কোনো ব্যাঙ্ক থেকে সুদসহ ঋণ নিলে ঋণগ্রহীতার টাকা হালাল হবে কি?

২. ঋণগ্রহীতা তার আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব কে কোনো কিছু উপহার দিলে বা তার বাসায় খাবার খাওয়ার দাওয়াত দিলে তারা সেই দাওয়াত গ্রহণ করতে পারবে কি? অর্থাৎ তার বাসায় খাওয়া হালাল হবে কি?

৩. কেউ বেকারির ব্যবসা করে অর্থাৎ তার কেক, বিস্কুট বানানোর ফ্যাক্টরি আছে। তো সেখানে যেসব বিস্কুটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় সেগুলো ভালো বিস্কুটের প্যাকেটের মধ্যে একটা দুইটা করে দিয়ে দেয় তাহলে তার এ থেকে ইনকাম কি হালাল হবে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

১. সুদসহ ঋণ নেওয়ার বিধান:
ইসলামে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ হারাম। কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা বলেন:

"وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا"
(আল-বাকারা: ২৭৫)
অর্থ: "আল্লাহ বেচাকেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।"

সুদসহ ঋণ নেওয়া বা দেওয়া উভয়ই গুনাহের কাজ। ঋণগ্রহীতা যদি সুদসহ ঋণ নেয়, তবে সে গুনাহগার হবে, কিন্তু সে যে টাকা গ্রহণ করে, তা তার মালিকানায় চলে আসে। তবে সেই টাকা দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা তার জন্য বৈধ হবে কি না—এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কিরামের মত হলো:

  • ঋণের মূল টাকা (যা সে গ্রহণ করেছে) তার জন্য হালাল, কারণ এটি ঋণ হিসেবে তার সম্পদ।
  • কিন্তু সুদের অংশ (যা সে অতিরিক্ত দেবে) তার জন্য হারাম এবং তা থেকে বাঁচতে হবে।

তবে ঋণগ্রহীতার জন্য উচিত হলো, সুদি লেনদেন থেকে তাওবা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের লেনদেন থেকে বিরত থাকা। যদি সে ইতিমধ্যে সুদি ঋণ নিয়ে থাকে, তবে মূল টাকা ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু সুদ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং তাওবা করতে হবে।

(সূত্র: আল-হিদায়াহ, ফাতাওয়া আলমগীরী, রদ্দুল মুহতার)


২. ঋণগ্রহীতার উপহার বা দাওয়াত গ্রহণের বিধান:
ঋণগ্রহীতা যদি সুদসহ ঋণ নেয়, তবে তার কাছে যে টাকা থাকে, তা মিশ্রিত (হালাল ও হারাম) হতে পারে। কারণ সে মূল টাকা পেয়েছে, কিন্তু সুদ দেওয়ার চুক্তি করেছে।

  • যদি ঋণগ্রহীতা সৎ ও ধার্মিক হয় এবং তার আয়ের অধিকাংশ হালাল হয়, তবে তার উপহার বা দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে।
  • কিন্তু যদি জানা যায় যে, তার সম্পদের অধিকাংশই হারাম (যেমন সুদ থেকে উপার্জিত), তবে তার উপহার বা দাওয়াত গ্রহণ করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হবে।

তবে সাধারণভাবে মুসলিমদের মধ্যে ভালো ধারণা রাখা উচিত। যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, তার সম্পদ হারাম, ততক্ষণ তার দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে।

(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া)


৩. মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ভালো প্যাকেটে ভরে বিক্রি করা:
এটি সম্পূর্ণ হারাম ও প্রতারণা। কারণ:

  • রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا"
(সহিহ মুসলিম: ১০১)
অর্থ: "যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।"

  • মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তা ভালো প্যাকেটে ভরে বিক্রি করা ক্রেতার সাথে প্রতারণা এবং তাদের ক্ষতি করা। এটি হারাম।

  • এই কাজ থেকে প্রাপ্ত আয় সম্পূর্ণ হারাম। কারণ এটি প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে অর্জিত।

তাই এই ব্যবসায়ীকে উচিত হলো, মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট বিক্রি না করা এবং সেগুলো ফেলে দেওয়া বা পশু-পাখিকে খাওয়ানো।

(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া আলমগীরী)


সারসংক্ষেপ:
১. সুদসহ ঋণ নেওয়া গুনাহ, তবে মূল টাকা ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু সুদ দেওয়া হারাম।
২. ঋণগ্রহীতার উপহার/দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে, যদি তার আয়ের অধিকাংশ হালাল হয়।
৩. মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ভালো প্যাকেটে ভরে বিক্রি করা সম্পূর্ণ হারাম এবং এর আয়ও হারাম।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিকের তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.