jinn possession

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 3455
Questioner: Sadia Arfin
Question Asked: 03 Aug 2026, 09:25 PM
Reviewed & Published: 03 Aug 2026, 09:41 PM
Views: 5
Tokens: 2,568
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি শরীরের একটি বয়স্ক জ্বীন আছর করেছে সে ইচ্ছেকৃত নামাজে কথা বলে। আমাকে অনুগ্রহ করে পরামের্শ দিন আমি নামাজ কিভাবে আদায় করবো? সে আল্লাহকে নামাজে ইচ্ছেকৃতভাবে সেজাদাহ দেয় আল্লাহর কসম করে মিথ্যে বলছি না।

Answer

জিনের আছর ও নামাজ আদায় সংক্রান্ত পরামর্শ

উত্তর

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার অবস্থা সম্পর্কে জানতে পেরে আমরা সন্তপ্ত। নিচে বিস্তারিত পরামর্শ প্রদান করা হলো:

১. নামাজের বিধান

জিনের আছর থাকা সত্ত্বেও নামাজ আদায় করা ফরজ এবং তা বাদ দেওয়া জায়েয নয়। তবে আপনার অবস্থা বিবেচনায় নিন্মোক্ত নিয়ম অনুযায়ী নামাজ আদায় করবেন:

  • যদি জিন আপনাকে সম্পূর্ণ অচেতন করে দেয় (অর্থাৎ আপনার ইচ্ছা-জ্ঞান থাকে না), তখন নামাজ বাদ যাবে এবং পরে কাযা আদায় করবেন।
  • যদি আপনি সচেতন থাকেন কিন্তু জিন আপনাকে কথা বলতে বাধ্য করে, তাহলে আপনার নামাজের মধ্যে জিনের কথা বলা আপনার নামাজকে নষ্ট করবে না যদি তা আপনার ইচ্ছায় না হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে বাধ্য করেন না" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)।

২. ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মত

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, যদি কেউ জোরপূর্বক (ইচ্ছার বিরুদ্ধে) কথা বলে, তাহলে তার নামাজ ভঙ্গ হবে না। তবে যদি সে নিজের ইচ্ছায় কথা বলে, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হবে। (বাদায়েউস সানায়ে, ১/২২৮; আল-মাবসূত, ১/১৯)

৩. আপনার করণীয়

যেহেতু আপনি উল্লেখ করেছেন যে জিনটি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজে কথা বলে এবং সেজদা দেয়, তাই:

  • আপনার নামাজের নিয়ত ও ইচ্ছা যদি বিশুদ্ধ থাকে এবং আপনি জিনের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
  • যদি জিন আপনাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে নেয় এবং আপনি নিজেই সেজদা দিচ্ছেন না, বরং জিন আপনার শরীর ব্যবহার করছে, তাহলে সেই অবস্থায় নামাজ আদায় সম্পর্কে নিম্নোক্ত নিয়ম প্রযোজ্য:

৪. ফাতাওয়া উসমানি থেকে নির্দেশনা

মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন: "যদি জিনের আছরের কারণে কেউ নামাজের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে যায় বা তার জ্ঞান লোপ পায়, তাহলে সেই সময়ের নামাজ পরে কাযা করতে হবে। কিন্তু যদি সে সচেতন থাকে এবং জিনের প্রভাবে কিছু অনিচ্ছাকৃত কাজ হয়ে যায়, তাহলে তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।" (ফাতাওয়া উসমানী, ১/৩৪৫)

৫. চিকিৎসা ও রুকইয়াহ

আপনার জন্য নিম্নোক্ত আমলগুলো করার পরামর্শ দিচ্ছি:

  1. আয়াতুল কুরসি প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের পর ৭ বার পড়ুন।
  2. সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (আমানার রাসূলু) প্রতিদিন রাতে পড়ুন।
  3. চার কুল (সূরা কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক, নাস) প্রতিদিন পড়ুন।
  4. দরূদ শরীফ বেশি পরিমাণে পড়ুন।
  5. বিশ্বস্ত আলেম বা হাকিমের মাধ্যমে রুকইয়াহ করান।

৬. নামাজের নিয়ম

  • নামাজের সময় আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন মনোযোগ ধরে রাখার।
  • জামাতের সাথে নামাজ আদায় করার চেষ্টা করুন, কারণ জামাতে শয়তান ও জিনের প্রভাব কম হয়।
  • ধীরে ধীরে এবং আরামদায়কভাবে নামাজ আদায় করুন।
  • নামাজের পর আয়াতুল কুরসি ও তাসবীহ পড়তে ভুলবেন না।

৭. গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • হতাশ হবেন না। এটি একটি পরীক্ষা। ধৈর্য ধরুন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন।
  • নামাজ ত্যাগ করবেন না যেকোনো অবস্থায়। শয়তান ও জিনের প্রধান লক্ষ্যই হলো মানুষকে নামাজ থেকে দূরে রাখা।
  • আলেমের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ হাকিমের মাধ্যমে চিকিৎসা করান।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে শীঘ্রই এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিন এবং আপনার নামাজ কবুল করুন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.