অনিয়মিত হায়েজের দিন সম্পর্কিত

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3378
Questioner: Sa Dia
Question Asked: 01 Aug 2026, 06:34 PM
Reviewed & Published: 01 Aug 2026, 07:22 PM
Views: 10
Tokens: 7,481
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,
আমার মাসিক অনিয়মিত।এজন্য প্রায় ই মাসিকের ওষুধ খেতে হয়। লাস্ট এক বছর আগে মেডিসিন নেওয়ার ফলে আমার মাসিক ৮ বা ৯ কখনো ১০ দিন ও থেকেছে। আমি ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। এবার ৩ মাস মাসিক না হওয়ায় ওষুধ খাই। ১০ দিনের মাঝে সাধারণত মাসিক হওয়ার কথা। ৫ দিন পর ২৫ তারিখ কিছুটা উত্তেজনার কারনে যে পানি আসে সেটার সাথেই মাসিকের ব্লাডের মত একটু দেখতে পাই।তখন থেকে মাসিক ভেবে নামাজ অফ করি। তারপর আর কিছু দেখিনি। পরদিন আবার খুবই সামান্য মাসিকের আগে যেমন ঘোলাটে স্রাব আসে সেটা দেখতে পাই বার বার চেষ্টা করার পর।এরপর আবার পরের দিনও কিছু দেখতে পাইনি। ২৮ তারিখ আবারো উত্তেজনা বশত আসা পানির সাথে মাসিকের মত দেখতে পাই একবার। তারপর ২৯ তারিখ থেকে আমার মাসিক ঠিক ভাবে শুরু হয় যেটা প্রতিবার হয়। ২৫-২৯ তারিখ এই কয়দিন আমি নামাজ পড়িনি। ৩ মাস পর মাসিক হওয়ায় ডাক্তার এবার মাসিক যেনো ক্লিয়ার হয় সেজন্য মেডিসিন দিয়েছিলেন। এখন মনে হচ্ছে মাসিক আগের সেই ৯/১০ দিনের মতই চলবে।আমার প্রশ্ন হচ্ছে
১. আমি ২৫ তারিখ থেকেই মাসিক গননা করব নাকি ২৯ তারিখ ১ম দিন ধরে ৯ /১০ দিন মাসিক গননা করব?
২. যদি ২৯ তারিখ থেকে মাসিক গননা করি আর যদি মাসিক ১০ দিন থাকে তাহলে ২৫-২৮ তারিখ যে আমি নামাজ পড়িনি এটার জন্য কি আমার গুনাহ হবে এবং এই নামাজ গুলোর কি কাযা আদায় করতে হবে?
আমি খুবই কনফিউশনের মাঝে আছি অনুগ্রহ করে জানাবেন।

Answer

ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ হানাফি নীতি জেনে নেওয়া প্রয়োজন:

হানাফি মাযহাবে হায়েজের (মাসিক) সর্বনিম্ন সময়কাল ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ সময়কাল ১০ দিন। এর কম বা বেশি রক্ত হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজা (অস্বাভাবিক স্রাব/রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, কিতাবুত তাহারাহ; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭; বাহিশতী জেওয়ার, পবিত্রতা অধ্যায়)


১. মাসিক গণনা কবে থেকে শুরু করবেন?

আপনাকে ২৮ তারিখ থেকেই মাসিক (হায়েজ) গণনা করতে হবে। ২৫, ২৬ তারিখে উত্তেজনার কারণে যে পানি ও সামান্য রক্তের মতো জিনিস বেরিয়েছে, তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না।

কারণ, হায়েজ বলতে সেই রক্তকে বোঝানো হয় যা স্বাভাবিকভাবে, কোনো কারণ ছাড়া বা চাপ/উত্তেজনা ছাড়া নির্গত হয়। উত্তেজনার কারণে আসা পানি বা তার সাথে মিশ্রিত সামান্য রক্ত মাযী বা ইস্তিহাজা হিসেবে বিবেচিত।

(সূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭; রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮৭)

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

১. আপনার মাসিক গণনা শুরু হবে ২৮ তারিখ থেকে ২. **২৫-২৭ তারিখের নামাজ না পড়ার কারণে গুনাহ হয়েছে এবং এই ৩ দিনের নামাজগুলো কাযা করতে হবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আপনার মাসিক অনিয়মিত হওয়ায় প্রতিবার মাসিক শুরুর কিছু আগে এই ধরনের স্রাব দেখা দিলে এবং পরে নিয়মিত রক্ত শুরু হলে, নিয়মিত রক্ত শুরুর দিন থেকেই মাসিক গণনা করবেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.