রাত ১২ টায় ঈশার নামাজ স্বামীর সাথে জামাতে আদায় সম্পর্কিত।
Salah-Prayer · Hanafi
Question
আমার হাসবেন্ড মাশাল্লাহ নামাজ পড়েন।তবে উনি একটু অলস হওয়ার জন্য এশারের সালাত প্রায়ই মিস করেন।তাই আমি উনাকে নিয়ে সালাত আদায় করতে গিয়ে মাঝে মাঝে দেখা যায় রাত ১২/১ টা বেজে যায়। আমি একা পড়লে আগেই আদায় করে ফেলি আলহামদুলিল্লাহ। তবে উনাকে নিয়ে পড়লে উনার নামাজ টা মিস যায় নাহ। আলহামদুলিল্লাহ
আমি যতটুকু জানি সালাতের সময় হয়ে গেলেই তাড়াতাড়ি আদায় করা উচিত। আমার তো দেরি হয়ে যায় এজন্য কি আমার গুনাহ হচ্ছে?
আমি উনাকে অনেক বলি,অনেক বুঝাই তবে উনি অলস হওয়ার জন্য কথাটা মানতেই পারছেন নাহ। এজন্য আমি কি করতে পারি?
Answer
প্রশ্নের উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاتة
বিনা ওযরে অর্ধরাত অতিবাহিত হওয়ার ঈশার নামাজ আদায় করা মাকরুহ। সুতরাং এভাবে ঈশার নামাজ দেড়ি করাতে আপনাদের উভয়ের গুনাহ হচ্ছে।
এক্ষেত্রে আপনি আওয়াল ওয়াক্তেই ঈশার নামাজ পড়ে নিবেন। স্বামীকে জামাতে নামাজ আদায় করার জন্য বুঝানো অব্যাহত রাখবেন।
তদুপরি কাজ না হলে যদি তার সাথে পরবর্তীতে গভীর রাতে নামাজ পড়তেই হয়,সেক্ষেত্রে আপনি তার সাথে নফলের নিয়তে নামাজ আদায় করবেন।
এভাবে ফরজ আদায় করে পরবর্তীতে নফলের নিয়তে জামাতে অংশগ্রহণ করা যায়। হাদীসেও এর প্রমান আছে।
- আপনি তাকে নামাজের প্রতি উৎসাহিত করছেন, যা একটি নেক কাজ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের দিকে পথ দেখায়, সে সেই কাজটি সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পায়।" (সহীহ মুসলিম)
তবে, আপনার স্বামী যদি কোনোভাবেই মসজিদে না যায়,সেক্ষেত্রে আপনার জন্য উত্তম হবে যদি আপনি আপনার স্বামীকে আগেভাগে নামাজ পড়ার জন্য উৎসাহিত করতে পারেন।
আপনার স্বামীকে নামাজের সময়মতো আদায়ের গুরুত্ব বোঝানো খুবই জরুরি। নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
ক. কুরআন-হাদিসের আলোকে বোঝান:
- আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের জন্য নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।" (সূরা আন-নিসা: ১০৩) - এই আয়াত দিয়ে বোঝান যে নামাজের সময় নির্ধারিত, তাই সময়মতো পড়া ওয়াজিব।
- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "তোমরা নামাজের সময় হওয়ার সাথে সাথেই তা আদায় করো।" (সহীহ বুখারি)
খ. নরম ভাষায় বুঝান:
- তাকে ভালোবেসে বোঝান যে নামাজের সময়মতো পড়া আল্লাহর আদেশ এবং এতে অনেক বরকত রয়েছে।
- তাকে বলুন যে আপনি তার নামাজের ব্যাপারে চিন্তিত, কারণ আপনি চান তিনি সর্বোত্তম উপায়ে ইবাদত করুন।
- তাকে উৎসাহিত করুন যে আপনি তার সাথে আগেভাগে নামাজ পড়তে চান, যাতে আপনারা উভয়েই সময়মতো নামাজ শেষ করতে পারেন।
গ. একটি রুটিন তৈরি করুন:
- রাতের বেলায় একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে নিন, যেমন মাগরিবের নামাজের পরপরই বা রাত ৯টার মধ্যে এশার নামাজ পড়ার অভ্যাস করুন।
- শুরুতে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন, যেমন প্রথমে রাত ১১টার মধ্যে নামাজ পড়া, তারপর ধীরে ধীরে আগের সময়ে নিয়ে আসা।
ঘ. দোয়া করুন:
- আপনার স্বামীর জন্য দোয়া করুন যাতে আল্লাহ তাকে সময়মতো নামাজ পড়ার তৌফিক দেন। দোয়ার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হয়।
ঙ. ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করুন:
- আপনি নিজে সময়মতো নামাজ পড়ুন এবং তাকে দেখিয়ে দিন। যখন তিনি দেখবেন আপনি সময়মতো নামাজ পড়ছেন, তখন তিনিও উৎসাহিত হতে পারেন।
৩. তিনি যদি না মানেন?
যদি আপনার স্বামী বারবার বোঝানোর পরও না মানেন, তাহলে ধৈর্য ধরে বারবার বোঝাতে থাকুন। তবে খেয়াল রাখবেন:
- আপনি যেন তার সাথে ঝগড়া বা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে না পড়েন।
- তাকে অপমান বা লজ্জা না দেওয়ার চেষ্টা করুন।
- আপনার উচিত হবে নিজে সময়মতো নামাজ পড়া এবং তার জন্য দোয়া করা।
আল্লাহ আপনাদের উভয়কে সঠিক পথে চলার তৌফিক দিন। (আমিন)