না জেনে সুদের চুক্তিতে যুক্ত হয়ে জানার পর করণীয়

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3209
Questioner: Mahmudul Hassan Polash
Question Asked: 29 Jul 2026, 02:02 PM
Reviewed & Published: 29 Jul 2026, 02:32 PM
Views: 7
Tokens: 5,141
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ।

আমি প্লট কিনার জন্য একটা প্রতিষ্ঠানে মাসিক কিস্তিতে টাকা দিচ্ছি। কিস্তি প্রতি ৩ মাস পর পর মাসের ২০ তারিখ এর মধ্যে দিতে হয়। প্লট এর সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ হওয়ার পর প্লট হস্তান্তর হবে। কিস্তি সময় মত দিতে না পারলে জরিমানা দেয়ার নিয়ম আছে, বছরে ১২% হারে। আমি এখন জানতে পেরেছি এই জরিমানা সুদের আওতাভুক্ত এবং জরিমানা দেয়ার মত পরিস্থিতি না হলেও এমন চুক্তি করাই হারাম।

আমি যখন চুক্তি করি তখন এই জরিমানার ব্যাপারটি উল্লেখ ছিল। কিন্তু তখন সুদের ব্যাপারে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে ওনার নিজ অনুগ্রহে বুঝার তৌফিক দিয়েছেন এখন।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমার যেহেতু চুক্তি করার সময় কোনো জ্ঞান ছিল না এই বিষয়ে, এখন জানার পরও আমি এই প্রজেক্টে (চুক্তিতে) থাকতে পারবো কিনা।

বি: দ্র: - আমি যদি প্রজেক্ট থেকে বের হয়ে আসি কর্তৃপক্ষ কোনো জরিমানা নেয়া ছাড়াই আমার সকল টাকা ফেরত দিবে।

জাজাকাল্লাহ খইরন

Answer

উত্তরঃ
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি যে চুক্তিটি করেছেন তাতে কিস্তি সময় মতো না দিতে পারলে জরিমানার শর্ত আছে,এটি ইসলামী নীতিমালার খেলাফ।

বিধায় উক্ত চুক্তি বৈধ নয়।

কেউ কেউ এটি সুদেরও শামিল বলেছেন,আর ইসলামী শরীয়তে সুদ স্পষ্টভাবে হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"وَحَرَّمَ الرِّبَا"
(সূরা বাকারা: ২৭৫)

এবং হাদীছে এসেছে:

"لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا وَمُوْكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ"
(সহীহ মুসলিম: ১৫৯৭)

অর্থাৎ, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ গ্রহীতা, সুদ দাতা, তার লেখক ও সাক্ষীদের উপর লানত করেছেন এবং বলেছেন তারা সবাই সমান।"

আপনি যখন চুক্তি করেছিলেন তখন এই জরিমানার শর্ত সম্পর্কে আপনার জ্ঞান ছিল না। শরীয়তে অজ্ঞতার কারণে কৃত চুক্তি কিছু ক্ষেত্রে মাফ হতে পারে, কিন্তু জ্ঞান হওয়ার পর সেই হারাম শর্ত বহাল রাখা জায়েয নয়। যেহেতু আপনি এখন জানতে পেরেছেন যে এই জরিমানা সুদের অন্তর্ভুক্ত এবং চুক্তিটি হারাম, তাই আপনার জন্য এই চুক্তিতে থাকা জায়েয নয়।

হানাফী ফিকহের উসূল:
ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও তাঁর শিষ্যদের মতে, কোনো চুক্তিতে যদি সুদের শর্ত থাকে এবং সেই শর্ত জ্ঞান হওয়ার পরও বহাল রাখা হয়, তাহলে তা হারাম। ইবনে আবেদীন (রহ.) "রদ্দুল মুহতার"-এ বলেন:

"وَإِذَا عَلِمَ الْحُرْمَةَ وَجَبَ عَلَيْهِ تَرْكُ الْمُعَامَلَةِ وَالتَّوْبَةُ مِنْهَا"
(রদ্দুল মুহতার: ৪/১৮৬)

অর্থাৎ, "যখন কেউ হারাম জানতে পারে, তখন তার উপর অপরিহার্য হয় সেই লেনদেন ত্যাগ করা এবং তাওবা করা।"

আপনার করণীয়:
১. যেহেতু আপনি চুক্তি থেকে বের হয়ে আসলে কোনো জরিমানা ছাড়াই আপনার সকল টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আছে, তাই অবিলম্বে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা আপনার জন্য কর্তব্য। এটি সর্বোত্তম সমাধান।

২. আপনি যদি চুক্তিতে থাকতে চান, তাহলে আপনাকে প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে জরিমানার শর্তটি বাদ দিতে বলুন। যদি তারা শর্তটি বাদ দেয় এবং সুদমুক্ত লেনদেনে রাজি হয়, তাহলে তা বৈধ হবে। কিন্তু যেহেতু তাদের পক্ষ থেকে জরিমানা ছাড়াই ফেরতের সুযোগ আছে, তাই বেরিয়ে আসাই উত্তম।

৩. অতীতে দেওয়া কিস্তিগুলোর ব্যাপারে আপনার কোনো গুনাহ হবে না, কারণ তখন আপনি অজ্ঞ ছিলেন। তবে এখন জ্ঞান হওয়ার পর চুক্তিতে থাকা গুনাহ হবে।

উপসংহার:
আপনি যদি প্রতিটি কিস্তি সময় মতো আদায় করেন,সেক্ষেত্রে এই চুক্তিতে থাকতে পারেন।

আর যদি আপনার ধারনা হয় যে আপনি কিস্তি সঠিক ভাবে আদায় করতে পারবেননা,বরং আপনাকে জরিমান দিতেই হবে,সেক্ষেত্রে আপনার প্রতি এই চুক্তিতে না থাকারই পরামর্শ থাকবে এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে চুক্তি বাতিল করে আপনার টাকা ফেরত নিন।

এটি আপনার ঈমান ও দ্বীনের পবিত্রতা রক্ষার জন্য জরুরি। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক পথ দেখানোর তাওফীক দান করুন।

وَاللّٰهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.