কপার-টি ব্যবহারের হুকুম জানতে চাই

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3205
Questioner: Abdullah
Question Asked: 29 Jul 2026, 11:37 AM
Reviewed & Published: 29 Jul 2026, 11:59 AM
Views: 30
Tokens: 5,692
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসেবে কপার-টি ব্যবহার করা জায়েজ কিনা জানতে চাই। আল্লাহ্ তা'লা তার অনুগ্রহে ১ মাস আগেই আমাদের সন্তান দিলেন। আপাতত ২ বছরের জন্য একটি বিরতি নিতে চাই ইনশাআল্লাহ্।

কপার-টি (Copper-T) হলো নারীদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যা জরায়ুর ভেতরে স্থাপন করা হয়। এটি হরমোনবিহীন এবং সাধারণত কয়েক বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করতে পারে এবং চাইলেই যেকোনোসময় তা বের করে পুনরায় সন্তান নেওয়া যায়।

কপার-টির সঙ্গে একটি সরু সুতা বা থ্রেড থাকে, যা জরায়ু থেকে জরায়ুমুখ হয়ে যোনিপথের ভেতরের দিকে থাকে। এই সুতা পরবর্তীতে কপার-টি ঠিক জায়গায় আছে কি না পরীক্ষা করতে এবং প্রয়োজনে এটি বের করতে ব্যবহার করা হয়।

আমার প্রশ্ন হলো, ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে কপার-টি ব্যবহার করা কি জায়েজ, নাকি নাজায়েজ?

বিশেষ করে কপার-টির সঙ্গে থাকা সুতা যোনিপথের ভেতরে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এর শরয়ি হুকুম কী?

সম্মানিত আলেমগণ বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Answer

উত্তর: কপার-টি (Copper-T) ব্যবহারের শর‘য়ি বিধান

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

জন্মনিয়ন্ত্রণ বা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি হিসেবে কপার-টি (Copper-T) ব্যবহার করা জায়েজ রয়েছে, তবে কিছু শর্ত ও সতর্কতা সাপেক্ষে। হানাফী ফিকহের দৃষ্টিতে স্ত্রী ও স্বামীর সম্মতি এবং বৈধ প্রয়োজনের ভিত্তিতে সাময়িক গর্ভধারণ বিরতি গ্রহণ করা জায়েজ। কপার-টি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করা আবশ্যক।

১. সাধারণ নীতি: জন্মনিয়ন্ত্রণ ও ‘আযল’

হানাফী মাযহাবে স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে ‘আযল’ (গর্ভধারণের সম্ভাবনা রোধে বীর্যপাতের পূর্বে বাহিরে পতিত করা) জায়েজ। হাদীসে এসেছে:

"আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে আযল করতাম, আর তখন কুরআন নাযিল হচ্ছিল।"
(সহীহ বুখারী: ৫২০৯; সহীহ মুসলিম: ১৪৪০)

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

"স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আযল করা জায়েজ। কেননা সন্তানের প্রতি তারও হক রয়েছে।"
(রদ্দুল মুহতার: ৩/১৭৩)

এ থেকে বোঝা যায়, সাময়িক ও প্রয়োজনীয় কারণে সন্তান জন্মের ব্যবধানে বাধা দেওয়া জায়েজ।

২. কপার-টি ব্যবহারের হুকুম

কপার-টি একটি অ-হরমোনাল (Non-hormonal) ডিভাইস, যা জরায়ুর ভিতরে স্থাপন করে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে। এটি স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ নয়, বরং সাময়িক বিরতি। তাই নিম্নলিখিত শর্তে এটি ব্যবহার জায়েজ:

  • বৈধ কারণ: স্বাস্থ্যগত, অর্থনৈতিক, বা সন্তান লালন-পালনের সামর্থ্যের অভাব ইত্যাদি বৈধ কারণে দুই-তিন বছর বিরতি নেওয়া জায়েজ। এক্ষেত্রে প্রশ্নকারী ২ বছরের বিরতি নিতে চান, যা বৈধ।
  • স্থায়ী বন্ধ্যা নয়: কপার-টি স্থায়ীভাবে নিষেক ক্ষমতা নষ্ট করে না; যে কোনো সময় অপসারণ করলে পুনরায় গর্ভধারণ সম্ভব। তাই এটি জায়েজ।
  • স্ত্রী ও স্বামীর সম্মতি: স্বামীর অনুমতি নেওয়া জরুরি, কারণ সন্তান উভয়ের অধিকার।
  • ক্ষতির আশঙ্কা না থাকা: যদি কোনো চিকিৎসক জানান যে কপার-টি ব্যবহারে স্ত্রীর শরীরের জন্য ক্ষতিকর (যেমন অতিরিক্ত রক্তপাত, ইনফেকশন ইত্যাদি), তাহলে তা পরিহার করা উচিত।

ইসলামী আইনবিদগণ বলেন:

"গর্ভধারণ প্রতিরোধের জন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা জায়েজ, যদি তা স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ না হয় এবং শর‘য়ি কোনো বাধা না থাকে।"
(ফাতাওয়া উসমানী: ২/৫২৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/২৮৯)

৩. কপার-টির সাথে থাকা সুতা (Thread) যোনিপথে থাকার হুকুম

কপার-টির সাথে একটি সরু সুতা বা থ্রেড থাকে যা জরায়ুমুখ থেকে যোনিপথের ভিতরে ঝুলে থাকে। এই সুতা ব্যবহারিক প্রয়োজনে (পরীক্ষা ও অপসারণের জন্য) রাখা হয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে:

  • যোনিপথে বস্তু প্রবেশ করানো: সাধারণত হায়েযের সময় বা চিকিৎসার প্রয়োজনে (যেমন ফিতরা, সাপোজিটরি) যোনিপথে বস্তু দেওয়া জায়েজ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"অবশ্যই আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে আরোগ্য ও ওষুধ দান করেছেন; আর তিনি এমন কোনো রোগ দেননি যার প্রতিষেধক দেননি।"
(সুনানে আবু দাউদ: ৩৮৭৪)

সুতা যোনিপথে থাকা গোসল বা নামাযের কোনো ক্ষতি করে না। এটি শুধু একটি বহিরাগত বস্তু, যা পেশাব-পায়খানার রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে না এবং সাধারণত এটি পবিত্রতা (তাহারাত) নষ্ট করে না।

  • শর‘য়ি পবিত্রতার উপর প্রভাব: যোনিপথের ভিতরে সুতা থাকা অযু বা গোসলের জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। হায়েযের রক্ত যদি সুতার সাথে লেগে যায়, তাতে কোনো অসুবিধা নেই; রক্ত ধুয়ে ফেললেই হবে। তবে সুতার কারণে যদি কোনো অপবিত্রতা বের হয়ে আসে (যেমন রক্ত), তবে তা পাক করা আবশ্যক।

  • স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের উপর প্রভাব: কপার-টি ও তার সুতা স্বামী-স্ত্রীর মিলনে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। তবে যদি স্বামীর অঙ্গের সাথে সুতার সংস্পর্শে কোনো অসুবিধা হয় বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এতে ক্ষতি থাকে, তাহলে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।

৪. সারসংক্ষেপ

  • কপার-টি ব্যবহার করা জায়েজ, যদি তা স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ না হয় এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতি ও বৈধ প্রয়োজন থাকে।
  • যোনিপথের ভিতরে থাকা সুতা শর‘য়ি কোনো বাধা নয়; এটি চিকিৎসার প্রয়োজনে বৈধ।
  • তবে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো প্রকার ক্ষতিকর প্রভাব না থাকলে ব্যবহার করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যদি কপার-টি ব্যবহারে স্ত্রীর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে, তবে তা পরিহার করা উচিত।

والله أعلم بالصواب


প্রাসঙ্গিক গ্রন্থাদি:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/১৭৩)
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/৫২৬)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২৮৯)
  • বেহেশ্তী জেওর (১০ম অধ্যায়)
  • আল-হিদায়া (২/৩৪১)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.