হায়েযের অভ্যাস ৪দিন, ৩য় দিন রাত থেকে ৪র্থ দিন সকাল পর্যন্ত কোনো রক্ত দেখা যায়নি, এখন করণীয় কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 320
Questioner: Feather
Question Asked: 18 May 2026, 11:59 PM
Reviewed & Published: 19 May 2026, 12:02 AM
Views: 30
Tokens: 4,428
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
১। হায়েযের অভ্যাস ৪দিন। ৩য় দিন রাত থেকে ৪র্থ দিন সকাল পর্যন্ত কোনো রক্ত দেখা যায়নি। তাই ফরজ গোসল করে পবিত্র হয়ে যোহরের সালাত আদায় করেছি। কিন্তু এরপর আসরের সময় হালকা পিচ্ছিল দেখা গিয়েছে সামান্য পরিমাণে কিন্তু পাজামায় লাগেনি। এখন কি নতুন করে ফরজ গোসল করে নামাজ পড়তে হবে নাকি শুধু পরিষ্কার করে নিলেই হবে? জামা কাপড় ভালোভাবে ধুয়ে সেই কাপড় পরিধান করেছিলাম। এখন কি আবার সেই কাপড় ধুতে হবে?

২। যদি হায়েযের অভ্যাস ৪ দিন হয়। কিন্তু ৩য় দিন রাত থেকে পরে আর কোনো রক্ত দেখা না যায়। তাহলে ৪র্থ দিন ফরজ গোসল করে যোহরের নামাজ থেকে শুরু করলে হবে? নাকি ৩য় দিন এশার সময় থেকে বাকি নামাজ গুলা আবার কাযা করতে হবে?

৩। অজু ছাড়া তাফসীর স্পর্শ করা যাবে কি? জুনুবি অবস্থায় স্পর্শ করা যাবে কি?

Answer

উত্তর প্রদান

১. হায়েযের অভ্যাস ৪ দিন – ৩য় দিন রাত থেকে রক্ত বন্ধ, গোসল করে নামাজ পড়ার পর পিচ্ছিল ভাব দেখা দেওয়া

প্রশ্নের সারমর্ম:
আপনার হায়েযের অভ্যাস ৪ দিন। ৩য় দিন রাত থেকে ৪র্থ দিন সকাল পর্যন্ত রক্ত আসেনি। তাই আপনি গোসল করে পবিত্র হয়ে যোহরের নামাজ পড়েছেন। কিন্তু আসরের সময় সামান্য পিচ্ছিল ভাব (সাদা বা স্বচ্ছ স্রাব) দেখা গেছে, যা পাজামায় লাগেনি। এখন কি নতুন করে ফরজ গোসল করতে হবে? নামাজ পড়া যাবে কি? এবং আগে ধুয়ে পরা কাপড় কি আবার ধুতে হবে?

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী উত্তর:

  • গোসল ও নামাজ:
    হায়েযের অভ্যাস ৪ দিন হলে, রক্ত ৩য় দিন রাত থেকে বন্ধ হলেও অভ্যাসের পূর্ণ মেয়াদ (৪ দিন) শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ, ৪র্থ দিন শেষ হওয়ার পর (অভ্যাসমতে যদি রাত ১২টা বা নির্দিষ্ট সময় হয়) গোসল করে নামাজ শুরু করতে হবে।
    আপনি আগেই গোসল করে যোহর পড়েছেন, কিন্তু যেহেতু অভ্যাসের মেয়াদ শেষ হয়নি, তাই আপনার গোসল ও যোহরের নামাজ সহীহ হয়নি। (রদ্দুল মুহতার, ১/৪৪১; বেহেশতী জেওর, ১/১০৭)
  • পিচ্ছিল স্রাব (ইস্তিহাযা):
    পরে আসরের সময় যে পিচ্ছিল ভাব দেখা গেছে, তা ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত বা স্রাব) গণ্য হবে। এতে নতুন করে গোসলের প্রয়োজন নেই। শুধু শরীর পরিষ্কার করে অজু করলেই নামাজ পড়া যাবে। ( ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৩৫; ফাতাওয়া উসমানী, ১/৪৫০)
  • কাপড় ধোয়া:
    যেহেতু পিচ্ছিল ভাব পাজামায় লাগেনি, তাই কাপড় ধোয়ার প্রয়োজন নেই। আগে ধোয়া কাপড়ই পবিত্র রয়েছে। (আল-হিদায়া, ১/৩৩)

সঠিক পদ্ধতি:
ভবিষ্যতে রক্ত বন্ধ হলেও অভ্যাসের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন। তারপর গোসল করে নামাজ শুরু করুন। যদি মেয়াদের মধ্যে রক্ত ফিরে আসে, তবে পুনরায় হায়েয গণ্য হবে।


২. হায়েযের অভ্যাস ৪ দিন – ৩য় দিন রাত থেকে রক্ত না দেখা গেলে কখন থেকে নামাজ শুরু করবেন?

প্রশ্নের সারমর্ম:
অভ্যাস ৪ দিন। ৩য় দিন রাত থেকে আর রক্ত না দেখলে, ৪র্থ দিন গোসল করে যোহর থেকে নামাজ শুরু করলে হবে? নাকি ৩য় দিন এশা থেকে নামাজগুলো কাযা করতে হবে?

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী উত্তর:

  • নামাজ শুরু করার সময়:
    আপনাকে ৪র্থ দিন পুরো শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ, যদি অভ্যাস ৪ দিন হয় এবং রক্ত ৩য় দিন রাতে বন্ধ হয়, তাহলে ৪র্থ দিন শেষ হওয়ার পর (যেমন সন্ধ্যার পর বা নির্দিষ্ট সময়ে) গোসল করে পরবর্তী নামাজ (যেমন মাগরিব বা এশা) থেকে শুরু করবেন। যোহরের নামাজ পড়া উচিত নয়, কারণ সে সময় এখনও অভ্যাসের মেয়াদ চলছিল।
    (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৮; শারহু মা‘আনিল আছার, ১/২২০)
  • কাযা নামাজ:
    হায়েযের সময় ছুটে যাওয়া নামাজের কোনো কাযা নেই। তাই ৩য় দিন এশা, ৪র্থ দিন ফজর ইত্যাদি নামাজ কাযা করতে হবে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৩২০)
    তবে যদি আপনি ৪র্থ দিন যোহর পড়ে ফেলেন, তবে সে নামাজটি কাযা করতে হবে, কারণ তা হায়েয অবস্থায় পড়া হয়েছে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৪৪৫)

সঠিক পদ্ধতি:
রক্ত বন্ধের পর অভ্যাসের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর গোসল করে পরবর্তী নামাজ থেকে শুরু করুন।


৩. অজু ছাড়া তাফসীর স্পর্শ করা এবং জুনুবি অবস্থায় স্পর্শ করা

প্রশ্নের সারমর্ম:
অজু ছাড়া তাফসীর (কুরআনের ব্যাখ্যা) স্পর্শ করা যাবে কি? জুনুবি (অপবিত্র) অবস্থায় স্পর্শ করা যাবে কি?

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী উত্তর:

  • অজু ছাড়া তাফসীর স্পর্শ:
    তাফসীরের কিতাব স্পর্শ করা বৈধ, যদি সেটি কেবল কুরআনের আয়াতের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা হয় এবং মুসহাফ (কুরআনের মূল আরবী পৃষ্ঠা) না হয়। তবে যেসব তাফসীরে কুরআনের আয়াতগুলি পৃথকভাবে মুসহাফের মতো সাজানো থাকে (যেমন মুসহাফের মতো সম্পূর্ণ কুরআন সংযোজিত), সেগুলো স্পর্শ করার জন্য অজু থাকা আবশ্যক।
    সাধারণ তাফসীর গ্রন্থ (যেমন তাফসীরে উসমানী, মাআরিফুল কুরআন) স্পর্শ করা অজু ছাড়াই জায়েয, তবে উত্তম হলো অজু থাকা।
    (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৩১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৮৫)
  • জুনুবি অবস্থায় তাফসীর স্পর্শ:
    জুনুবি অবস্থায় তাফসীর স্পর্শ করা মাকরূহ (নাপসন্দ) হলেও জায়েয, যদি তাতে কুরআনের আয়াত মুসহাফের মতো আলাদাভাবে না থাকে। তবে যেহেতু জুনুবি ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে না, তাই তাফসীর পড়ারও প্রয়োজন না থাকলে বিরত থাকাই শ্রেয়।
    (রদ্দুল মুহতার, ১/২৯২; বেহেশতী জেওর, ১/৮২)

মোটকথা:

  • অজু ছাড়া তাফসীর স্পর্শ জায়েয, তবে মুসহাফ স্পর্শের জন্য অজু ওয়াজিব।
  • জুনুবি অবস্থায় তাফসীর স্পর্শ করা মাকরূহ, তবে প্রয়োজন হলে জায়েয।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.