রাত ১২টায় পবিত্র হলে এশার সালাত পড়তে হবে
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
প্রশ্নটি যদি একজন মহিলার ঋতুবন্দী অবস্থা থেকে পবিত্র হওয়া সংক্রান্ত হয়, তবে হানাফি মতে, ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন। যদি রাত ১২:৩০-এ (অর্থাৎ ১০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর) রক্তপাত বন্ধ হয় এবং তিনি পবিত্র হন, তাহলে তাকে অবিলম্বে গোসল করে ঐ রাতের এশার সালাত আদায় করতে হবে। কারণ এশার সময় ফজরের সূচনা পর্যন্ত থাকে (যা সাধারণত রাত ১২:৩০-এ এখনও বিদ্যমান)। যদি সে পবিত্র হওয়ার সময় এশার শেষ সময় (মানে ফজরের আগ পর্যন্ত) থাকে, তাহলে এশা পড়া ওয়াজিব। তবে যদি এশার সময় শেষ হয়ে যায় (যেমন ফজর উদিত হয়ে যায়), তাহলে এশা কাযা করতে হবে না, কারণ সময়ের পরে পবিত্র হওয়ায় এশা তার ওপর আবশ্যক হয়নি।
বিস্তারিত দলিল ও উল্লেখ:
- হানাফি ফিকহে ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ মেয়াদ: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, হায়জের সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৯২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬)
- পবিত্র হওয়ার পর গোসল ও সালাত: রক্তপাত বন্ধ হবার সাথে সাথে নারীর ওপর গোসল ফরজ হয় এবং ঐ সময়ের মধ্যে যে সালাতের সময় বিদ্যমান থাকে তা আদায় করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে, ১/৪২; আল-হিদায়া, ১/৩০)
- এশার সময়: এশার ওয়াক্ত পশ্চিমাকাশের শাফাক (লালিমা) দূর হবার পর থেকে শুরু হয়ে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। (শরহু মাআনিল আসার, ১/১৫০; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৪৫)
- মাসয়ালা: যদি কোনো নারী রাত ১২:৩০-এ পবিত্র হয়, তবে সাধারণত এশার সময় ফজরের আগ পর্যন্ত থাকে। তাই তাকে গোসল করে এশার সালাত আদায় করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৯৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২২৮)
সারসংক্ষেপ:
- হ্যাঁ, তাকে এশার সালাত আদায় করতে হবে, যদি বর্তমান সময়ে এশার ওয়াক্ত বিদ্যমান থাকে।
- যদি সে এশার ওয়াক্ত শেষ হবার পর পবিত্র হয় (যেমন ফজরের পর), তাহলে এশা কাযা নয়।
সতর্কতা:
উক্ত মাসয়ালা নির্ভর করে স্থানীয় ফজরের সময়ের ওপর। রাত ১২:৩০-এ যদি ফজর উদিত হয়ে গিয়ে থাকে (যেমন উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে কিছু অঞ্চলে), তাহলে এশা পড়া আবশ্যক নয় বরং ফজর কাযা হবে না, বরং পরবর্তী ফজর আদায় করবেন। তাই নিজ এলাকার ফজরের সময় যাচাই করা আবশ্যক।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।