আল্লাহ তোমাকে মাফ করবে না” বলা ও গোপন কথা ফাঁস করার বিধান সম্পর্কে জানতে চাই?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমার এক ফ্রেন্ড এক পর্যায়ে আল্লাহ তোমাকে জীবনেও মাফ করবে না বলে...
কথাটায় অনেক কষ্ট পাই...
দ্বিতীয়ত আমি সেই ফ্রেন্ডকে আল্লাহর কসম বলে একটা গোপন কথা
শেয়ার করি এবং বলি কেউ যেন না জানে।কিন্তু ও জানিয়ে দেয় ও এর
কারনে অনেক অপমানিত হই
এর কারনে সেই ফ্রেন্ড এর কি খেয়ানতের গুনাহ হবে?
শরীয়তের আলোকে জানালে উপকৃত হই?
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আপনার প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো:
১. “আল্লাহ তোমাকে জীবনেও মাফ করবে না” বলা: এই ধরনের কথা বলা কবিরা গুনাহ। কারণ এটি আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত সম্পর্কে নিরাশা প্রকাশ করে। মহান আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না, আর তা ছাড়া অন্য যেকোনো গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” (সূরা নিসা: ৪৮, ১১৬)
এছাড়া আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া নিষিদ্ধ (সূরা যুমার: ৫৩)। তাই এই কথায় আল্লাহর প্রতি বেয়াদবি হয়েছে বলে তওবা ও ইস্তিগফার করা ওয়াজিব।
২. গোপন কথা ফাঁস করার গুনাহ: আপনি যদি আপনার বন্ধুকে “আল্লাহর কসম দিয়ে” গোপন কথা শেয়ার করেন এবং তাকে বলেন “কেউ যেন না জানে”, তাহলে সেই কথা ফাঁস করা তার জন্য খেয়ানত (বিশ্বাসভঙ্গ) হবে। এটি কবিরা গুনাহ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
“যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ইমান নেই।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১২৫৮৯)
এছাড়া হাদিসে এসেছে, “মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।” (সহিহ বুখারি: ১০) তাই আপনার ফ্রেন্ড এখানে স্পষ্ট খেয়ানত করেছে এবং তার ওপর গুনাহ হবে। তবে আপনি নিজেও গোপন কথা শেয়ার করে অপরাধী হয়েছেন, তাই আপনাকেও তওবা করতে হবে।
রেফারেন্স (হানাফি ফিকহের কিতাব):
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদিন): আমানত ভঙ্গ ও কসম ভঙ্গের গুনাহ সম্পর্কে বিস্তারিত আছে। (খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪০১)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি): “কেউ যদি কসম দিয়ে গোপন কথা বলে, তাহলে তা ফাঁস করা নাজায়েজ ও গুনাহ।” (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫২)
- বাহিশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভি): “গোপন কথা ফাঁস করা বড় গুনাহ, বিশেষ করে যখন কসম দিয়ে বলা হয়।” (দশম অধ্যায়, বিশ্বাসভঙ্গের অধ্যায়)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি মুহাম্মাদ শফি): “কসম দিয়ে কোনো বিষয় গোপন রাখার অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করা শিরকি কাজ নয় তবে কবিরা গুনাহ।” (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৫০)
পরামর্শ:
- আপনার বন্ধুকে নরমভাবে বোঝান যে তার কাজটি ইসলামের দৃষ্টিতে ভুল ছিল।
- তওবা ও ইস্তিগফার করতে বলুন।
- নিজেও ভবিষ্যতে এমন গোপন কথা কাউকে না বলার প্রতিজ্ঞা করুন।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন ও সঠিক পথ দেখান।