হানাফি মাজহাব মতে নারীদের নামাজ পরার নিয়ম

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 3145
Questioner: Salhana Rahman Oyshi
Question Asked: 26 Jul 2026, 11:29 PM
Reviewed & Published: 26 Jul 2026, 11:53 PM
Views: 13
Tokens: 3,447
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হানাফি মাজহাব মতে নারীদের নামাজ পরার নিয়ম তাকবির থেকে শুরু করে রুকু সাজদা, সাজদা হতে উঠা হাটু নাকি হাত আগে রাখা বা উঠানো তেকে সালাম ফিরানো পর্যন্ত সমস্ত নিয়মাবলি জানতে চাচ্ছি

Answer

উত্তর:
প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী নারীদের নামাজের নিয়ম-পদ্ধতি কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের থেকে ভিন্ন। নিচে তাকবির থেকে সালাম পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হলো—প্রামাণিক কিতাবের (রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ, কিতাবুল আছল) রেফারেন্সসহ।


১. তাকবিরে তাহরিমা (নামাজ শুরু)

  • হাত উঠানো:
    নারী কেবল কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাবে, কান পর্যন্ত নয়। হাতের আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিকভাবে মিলিয়ে রাখবে, পুরুষের মতো ফাঁক না করে।
    (রদ্দুল মুহতার ১/৫০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ ১/৭২)
  • তাকবির বলার সময়:
    তাকবির বলার সময় হাত উঠানো শেষ হবে।

২. কিয়াম (দাঁড়ানো)

  • হাত বাঁধার স্থান:
    নারী বুকের ওপর (স্তনের নিচে) ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখবে। পুরুষের মতো নাভির নিচে নয়।
    (রদ্দুল মুহতার ১/৫০৫; কিতাবুল আছল ১/২০২)
  • পায়ের অবস্থান:
    দুই পায়ের মধ্যে মিলিয়ে রাখবে, কিন্তু পুরুষের মতো ফাঁকা নয়।

৩. রুকু

  • রুকুতে যাওয়ার পদ্ধতি:
    নারী হাঁটু ও পিঠ সম্পূর্ণ সোজা না করে সামান্য নুয়ে যাবে। পুরুষের মতো পিঠ সমান ও মাথা নিচু করে সোজা করবে না। বরং হাতের আঙ্গুল দিয়ে হাঁটু হালকা চেপে ধরবে এবং কনুই পাশে মিলিয়ে রাখবে।
    (ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ ১/৭৩)
  • রুকুর তাসবিহ:
    কমপক্ষে ৩ বার "সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম" পড়বে।

৪. সিজদা

  • সিজদায় যাওয়ার সময়:
    প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর নাক-কপাল মাটিতে রাখবে। পুরুষ যেভাবে হাত আগে রাখে, সেভাবে নয়।
    (রদ্দুল মুহতার ১/৫০৬)
  • সিজদার অবস্থান:
    • পেট ও উরু মিলিয়ে রাখবে (পেট উরু থেকে আলাদা না করে)।
    • কনুই মাটিতে বিছিয়ে দিবে, পুরুষের মতো উঁচু রাখবে না।
    • হাতের আঙ্গুলগুলো সংকুচিত করে কানের দিকে রেখে, কনুই জমিনে মিলিয়ে দিবে।
    • পা ডান দিকে বের করে বসবে (সিজদায় পা সোজা রাখা লাগেনা)
      (ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ ১/৭৩; বেহেশ্তী জেওর ২/২৪)

৫. সিজদা থেকে উঠা

  • উঠার পদ্ধতি:
    সিজদা থেকে উঠার সময় পুরুষ যেমন হাতের ওপর ভর দিয়ে উঠে, নারী সেভাবে না। বরং নারী সোজা হয়ে বসে পড়বে (হাতের সাহায্য ছাড়া)। তারপর দাঁড়ানোর সময় হাতকে সাহায্য হিসেবে মাটিতে রাখতে পারে।
    (রদ্দুল মুহতার ১/৫০৭)

৬. দুই সিজদার মাঝে বসা (জলসা)

  • বসার ধরন:
    নারী "তাওয়াররুক" পদ্ধতিতে বসবে—অর্থাৎ বাম নিতম্বের ওপর বসে ডান পা বের করে রাখবে বা ডান উরুর ওপর পা রেখে বসবে। পুরুষের মতো "ইফতিরাশ" করে বসবে না (পা সোজা রেখে বসা)।
    (কিতাবুল আছল ১/২০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ ১/৭৩)

৭. শেষ বৈঠক (তাশাহহুদ ও সালাম)

  • বসার ধরন:
    আবার তাওয়াররুক—বাম নিতম্বের ওপর বসে ডান পা বের করে রাখা বা ডান উরুর ওপর পা রেখে বসা। পুরুষের মতো বাম পা বিছিয়ে ডান পায়ের আঙুল কিবলামুখী করে বসবে না।
    (রদ্দুল মুহতার ১/৫০৮)

সারসংক্ষেপ (নারী-পুরুষের পার্থক্য)

বিষয় : নারী ও পুরুষ

তাকবিরে হাত উঠানো : নারী- কাঁধ পর্যন্ত | পুরুষ - কান পর্যন্ত | হাত বাঁধা: নারী - বুকের ওপর | পুরুষ - নাভির নিচে | রুকু : নারী - হালকা নুয়ে, কনুই পাশে | পুরুষ - পিঠ সোজা, কনুই দূরে | সিজদা : নারী - পেট উরু মিলিয়ে, কনুই জমিনে | পুরুষ : পেট উরু আলাদা, কনুই উঁচু | বসা : নারী - তাওয়াররুক | পুরুষ : ইফতিরাশ |


প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

  • নারীর নামাজে পুরুষের চেয়ে বেশি আড়াল ও লজ্জা আবশ্যক। তাই নামাজের প্রতিটি অংশ সংকুচিত ও গুটিয়ে থাকবে।
  • জামাতে নারীরা নেতৃত্ব দিবে না (ইমামতি করবে না)।
  • নারীর জন্য জুমা ও ঈদের নামাজ ফরজ নয়।

প্রমাণ গ্রন্থ:

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ (আলমগীরি) – ১/৭২-৭৩
  • রদ্দুল মুহতার – ১/৫০৪-৫০৮
  • কিতাবুল আছল (ইমাম মুহাম্মাদ) – ১/২০২-২০৪
  • বেহেশ্তী জেওর (আশরাফ আলী থানবি) – নামাজ অধ্যায়
  • ফাতাওয়া উসমানি – ১/৩৪৫-৩৪৮
  • মারিফুল কোরআন (মুফতি শফি) – নামাজ সংক্রান্ত তাফসির

যদি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তবে দ্বিধা করবেন না।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহীহ নিয়মে নামাজ আদায়ের তাওফিক দিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.