হায়েয-ইস্তিহাযা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 3119
Questioner: Jannat Mawa
Question Asked: 25 Jul 2026, 10:16 PM
Reviewed & Published: 25 Jul 2026, 10:43 PM
Views: 11
Tokens: 23,720
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم و رحمة الله و بركاته
আমার সর্বশেষ রক্তস্রাব শুরু হয় ২৩ জুন। কিন্তু ১৫ দিন পূর্ণ না হওয়ায় আমি তখনকার রক্তস্রাবকে ইস্তিহাযা হিসেবে ধরেছিলাম এবং ২৭ জুন আসরের সময় থেকে হায়েয গণনা শুরু করি। এরপর ৭–৮ দিন রক্তস্রাব হয়। তারপর ১০ দিন ১০ রাত হায়েযের সময় ধরে ৭ জুলাই আসরের সময় থেকে নামাজ পড়া শুরু করি।
গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী আমি ওষুধ খাচ্ছি। কিন্তু ৭ জুলাই থেকে আজ ফজরের নামাজ পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্তে পরীক্ষা করে শুধু হলুদাভ (yellowish) স্রাবই দেখেছি, কোনো রক্ত দেখিনি। আজ ফজরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর আবার রক্তস্রাব শুরু হয়েছে।
এখন এই নতুন রক্তস্রাবকে কি আমি হায়েয হিসেবে গণ্য করব, নাকি ইস্তিহাযা? আমার করণীয় কী?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে হানাফি ফিকহের কয়েকটি মৌলিক নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি:

  1. হায়েজের সর্বনিম্ন সময় = ৩ দিন (৩ রাত), সর্বোচ্চ সময় = ১০ দিন (১০ রাত)।
  2. তুহর (পবিত্রতা) এর সর্বনিম্ন সময় = ১৫ দিন। অর্থাৎ দুটি হায়েজের মাঝে কমপক্ষে ১৫ দিন সম্পূর্ণ পবিত্র থাকতে হবে। যদি ১৫ দিনের কম ব্যবধানে রক্ত আসে, তবে সেটি হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাযা (রোগ) বলে গণ্য হবে।
  3. হায়েজ শেষে হলুদ বা মাঠা রঙের স্রাব – হায়েজের সময়কালের মধ্যে আসলে তা হায়েজের অংশ; কিন্তু হায়েজ শেষে যদি আসে এবং পূর্ববর্তী হায়েজের সঙ্গে লাগাতার ১৫ দিনের ব্যবধান না থাকে, তবে তা ইস্তিহাযা।

আপনার অবস্থার বিশ্লেষণ

১. প্রথম হায়েজ (২৭ জুন আসর থেকে শুরু করে ৭-৮ দিন): আপনি ঠিকমতো গণনা করে গোসল করেছেন এবং ৭ জুলাই আসর থেকে নামাজ পড়া শুরু করেছেন। এটা সঠিক ছিল, কারণ রক্ত ১০ দিনের ভিতরে বন্ধ হয়েছে।

২. ৭ জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত (প্রায় ১৮ দিন) আপনি কোনো রক্ত পাননি, শুধু হলুদ স্রাব ছিল। যেহেতু এটি পূর্ববর্তী হায়েজের পরপরই (২-৩ দিনের মাথায়) শুরু হয়েছিল এবং ১৫ দিন পূর্ণ হয়নি, তাই এটি ইস্তিহাযা হিসেবেই গণ্য করবেন এবং নামাজ পড়া চালিয়ে যাবেন – এটিও সঠিক।

৩. আজ ফজর শেষে নতুন করে রক্ত আসা: এখন হিসাব করুন – আপনার শেষ হায়েজ শেষ হয়েছিল প্রায় ৪-৫ জুলাই। আজকের তারিখ ২৫ জুলাই (প্রশ্ন অনুযায়ী)। অর্থাৎ প্রায় ২০ দিন পবিত্রতা অতিবাহিত হয়েছে, যা ১৫ দিনের বেশি। তাই এই নতুন রক্ত হায়েজ হওয়ার শর্ত পূরণ করছে


করণীয়

  • অবিলম্বে নামাজ ও রোজা বন্ধ করুন। এই রক্ত হায়েজ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
  • রক্তের ধারা পর্যবেক্ষণ করুন:
    • যদি টানা ৩ দিন বা তার বেশি (সর্বোচ্চ ১০ দিন) চলতে থাকে, তবে পুরো সময়টাই হায়েজ গণ্য হবে। এরপর গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।
    • যদি ৩ দিনের কম সময়ে বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হায়েজ নয়; ইস্তিহাযা হবে এবং আপনি পূর্বের মতো নামাজ চালিয়ে যাবেন (এই ক্ষেত্রে এখন যে নামাজ ছেড়েছেন সেগুলো কাযা করতে হবে)।
  • মনে রাখবেন: ওষুধ খাওয়ার কারণে রক্ত কম-বেশি হতে পারে, কিন্তু ফিকহের নিয়ম রক্তের বাস্তব উপস্থিতির উপর ভিত্তি করেই চলবে।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স

  • আল-হিদায়া (كتاب الحيض):
    "أقل الطهر بين الحيضتين خمسة عشر يوما" – দুটি হায়েজের মাঝে সর্বনিম্ন পবিত্রতা ১৫ দিন।
  • রদ্দুল মুহতার (১/২৮৪-২৮৫):
    إذا رأت دما بعد خمسة عشر يوما من طهرها فهو حيض إن استمر ثلاثة أيام – যদি ১৫ দিন পবিত্রতার পর রক্ত দেখে এবং তা ৩ দিন চলমান থাকে, তবে তা হায়েজ।
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৬):
    الصفرة والكدرة بعد الحيض في أيام الطهر ليست بحيض – হায়েজের পর পবিত্রতার দিনগুলোতে হলুদ ও মাঠা স্রাব হায়েজ নয়।

সারসংক্ষেপ

আপনার নতুন রক্ত ১৫ দিনের বেশি পবিত্রতার পর এসেছে, তাই এটি হায়েজ হওয়ার যোগ্য। এখন অপেক্ষা করুন – যদি ৩ দিন বা তার বেশি চলমান থাকে, তবে হায়েজ গণ্য করবেন; অন্যথায় ইস্তিহাযা। নামাজ ও রোজা আপাতত বন্ধ রাখুন এবং রক্ত বন্ধ হলে গোসল করে পুনরায় নামাজ শুরু করুন।

উপদেশ: আপনার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো ওষুধ চালিয়ে যান, তবে ফিকহের বিধান অনুযায়ী আমল করুন। কোনো জটিলতা মনে হলে নিকটস্থ আলিমের শরণাপন্ন হোন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.