সহশিক্ষা কি আমার জন্য ছাড়া ওয়াজীব হয়ে গিয়েছে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 3081
Questioner: Sabrina Rahman Setu
Question Asked: 24 Jul 2026, 04:31 PM
Reviewed & Published: 24 Jul 2026, 04:40 PM
Views: 29
Tokens: 17,015
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম শাইখ।
আমার পরিবারে ২ জন পুরুষ আছেন ( বাবা ও ভাই)।বাবা বয়স ৫০ এর এপার অপার হবে,ভাই কিছুদিন পরে বিদেশ যাবে,বাবা মা এর জমানো টাকা থেকে আর কোনো টাকা নেই,সব তাকে দিয়ে দিয়েছে।জানিনা কিভাবে চালাবে পরিবারকে।এখন আমি ভার্সিটিতে পড়ি। ২০২৬ এর জুন মাসে আমি ভর্তি হয়েছি।বাবা মায়ের চাপে পড়ে।হারামে গেলে হারামের ছিঁটে ফোঁটা গায়ে লাগবেই,আমার সালাতের খুজু হারিয়ে গিয়েছে,কলব পাথর হয়ে গিয়েছে,নজরের হিফাজত হয় নাহ,ইস্তিগফার, দরুদ মুখে চালু থাকে নাহ আগের মতোন,আগের মতো নিষ্পাপ বাচ্চার মতো হুহু করে কান্না আসে নাহ গুনাহের কারনে,তাওবা করা আসে নাহ,কুরআনকে সময় দিতে পারছি নাহ,অর্থাৎ দ্বীনি কোনো বিষয়ে সময় দেয়া হচ্ছে নাহ,আইওএম এর দেড় মাসের ফারজে আইন কোর্স নিয়েছি,,ওটাও ঠিকমতো করতে পারছি নাহ,সালাতে ১ ঘন্টা করে সময় দিলে তারা সময় নষ্ট মনে করে,অন্তরের সুকুন হারিয়ে গেছে।
তারা মনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত,রোজা,সত্য কথা বলা এটাই যথেষ্ট,,কুরআন শিখাইচে ছোট বেলায়,সহিহভাবে নয়,এটাকে তারা যথেষ্ট মনে করছে, আবার বলে আরবি পড়লে নাকি পাগল হয়ে যায় মানুষ, হুজুররা নাকি শয়তান বেশি হয়।
এখন প্রশ্ন:১)আমি কি মাজুর নলে গণ্য হবো যেহেতু বাবার ইনকাম নেই,মা প্রাইভেট পড়িয়ে কয়টা টাকা পায়,সেটা দিয়ে বাসা ভাড়া ম্যানেজ করে,বাবা তরকারির দোকানে চাকরি করে যার দরুন ফ্রিতে কিছু তরকারি পায়,আমি ১ জন মেয়েকে পড়িয়ে ১৫০০ টাকা পাই,মাজুর হবো কি আমি?
২)আমি সহশিক্ষা ছেড়ে দিতে চাই,যদি দৃঢ় সংকল্প করি,নিজের জায়গায় অটল থাকি, আমি পড়বো নাহ,পড়বো নাহ,তাহলে তারা কষ্ট পেলেও ক্ষতি হবে কি আমার? অভিশাপ দিলে লাগবে? এতে তারা যদি আত্মহত্যাও করে,তিলে তিলে কষ্ট পেয়ে মরেও যায়,তাহলে এর দায়ভার কি আমার উপর বর্তাবে?
৩)তারা বলে আমি না পড়লে,চাকরি না করলে খাবো কিভাবে? নিজের পাঁয়ে দাঁড়াতে বলে,আমি জবাবে বলি,আল্লাহ রিজিকের মালিক,তারা বলে তিনি তো রিজিকের মালিক অবশ্যই,তাহলে একটা মাধ্যম লাগবে নাহ,সেই মাধ্যম হিসেবেই তোকে পড়তে বলছি,চাকরি করতে হবে,এখন তাদের এই কথার জবাব আমি আর কিভাবে দিব?
৪)আমি মাজুর হলেও সহশিক্ষা রুখসত নিতে চাচ্ছি নাহ,কারণ আমি উত্তমটা গ্রহণ করতে চাই,বিলাল রা: যেভাবে অটল ছিলেন,তিনি মাজুর থাকা সত্বেও। পরিবারে ঝামেলা হলেও উত্তমটা গ্রহণ করতে পারবো??
৫) তাদের কে হিকমার সহিত দাওয়াত দিব কিভাবে? বুঝাবো কেমনে?
৬)দুনিয়াবি এই ইলম অর্জন না করলে কি আমি এই ডিজিটাল ফিতনার দুনিয়ায় চলতে পারবো নাহ?? যত দিন যাচ্ছে তত আধুনিক ফিতনা বাড়ছে,আর আপু কত কোর্স আছে ফোনে, সেগুলা করেও তো অন্যকে শেখানো যায়,এই ফিতনার সর্গ রাজ্যে গিয়ে ইলম অর্জন না করলে কি আমার রিজিক আসা বন্ধ থাকবে?
বেশিরভাগ মা বাবার একটাই উদ্দেশ্য, যে পড়াশুনা করে টাকা উপার্জন করবি,যাতে অন্যর কাছে হাত পাততে না হয়,বিশ্বাস করুন আপু,মুখে বলে মানুষের সেবা করবি পড়ে,কিন্তু লক্ষ্য একটাই টাকা উপার্জন,
৭) আমি যদি ফিতনার,/গুনাহে জড়ানোর ভয়ে ঘরে থাকি,চাকরি না করি,দুনিয়াবি পড়াশোনা না করি সহশিক্ষায় গিয়ে,তাহলে আমার রিজিক কি আসবে নাহ আমার কাছে? যদিও এক্ষেত্রে মাধ্যম লাগে,
৮)বিয়েও দেয়নি আমাকে,রোজাও রাখতে দেয় নাহ,এক্ষেত্রে করণীয় কি?
৯)পর্দা পরিপূর্ণ মেনে চলার চেষ্টা করি,কিন্তু কাজে কর্মে ঢিলা,তাই তারা বলে পর্দা করলেই কি তোর ভাত জুটে যাবে কপালে? রুজি করা লাগবে নাহ? তারা চায় আমি পারফেক্ট হই,এটা ইম্পসিবল, এ বিষয়ে কিভাবে বুঝাবো,মানে আমি দ্বীন মানি,তাহলে কোনো ভুল হবে নাহ আমার,
১০)মা বলে তোরে আমি আরবি পড়ার সময় দিব,কিন্তু তুই আমারে দুনিয়ার পড়া ঠিক মতো পড়া দে,বলে যে,দুনিয়ার পড়াশোনা করলে তারা আমার দ্বীন নিয়ে কিছু বলবে নাহ,এটা মিথ্যা কথা তাই নাহ? এসব অবান্তর কথার জবাব দিব কেমনে?
১১) আমি iom এর আলেমা কোর্সটি করতে চাই,এক্ষেত্রে তারা টাকা না দিলে আমি কিভাবে সেই টাকা জোগাড় করবো?
১২) মা বাবার হক গুলো কি কি? যাতে তাদের সাথে হক নষ্ট না হয়?
১৩)পড়বো না বললে যদি আমার আরবি বন্ধ করে দেয়,ফোন নিয়ে যায়,তাহলে কি করা উচিত আমার?
আর সহশিক্ষা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে বলিও।
,জাঝাকাল্লাহ,

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وأصحابه أجمعين

প্রিয় বোন,
আপনার প্রশ্নগুলো অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। পরিবার, দ্বীন ও পড়াশোনার মাঝে সন্তুলন রাখতে গিয়ে আপনি মানসিকভাবে খুব চাপে আছেন। আশা করি, নিচের উত্তরগুলো আপনার জন্য পথপ্রদর্শক হবে।


উত্তর ১: আপনি কি মা‘যূর (অপারগ/বাধ্য) গণ্য হবেন?

হ্যাঁ, মা‘যূর হওয়ার শর্ত হলো— দ্বীন পালনে বাধা আসে এবং অপারগতা প্রকৃত হয়। আপনার বাবার আয় কম, মায়ের আয় সীমিত, আপনি নিজে ১৫০০ টাকা উপার্জন করেন— এ অবস্থায় যদি আপনি মনে করেন যে সহশিক্ষা (বালক-বালিকার মেলামেশার পরিবেশ) ছাড়া বর্তমানে অন্য কোনো উপায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, এবং আপনি তাতে পাপে লিপ্ত হন (যেমন পর্দার খেলাপ, গুনাহের পরিবেশ), তাহলে প্রয়োজনের তাগিদে কিছু দিন সহশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে শর্ত হলো:

  1. আপনি মনে-প্রাণে তা অপছন্দ করছেন।
  2. অন্য কোনো হালাল পথ না পেলে শুধু প্রয়োজনে তা করবেন।
  3. যত দ্রুত সম্ভব হালাল পথে চলে আসার চেষ্টা করবেন।

রদ্দুল মুহতার-এ এসেছে:

"الضرورة تقدر بقدرها"
"প্রয়োজন তার পরিমাণে সীমিত থাকে।" (রদ্দুল মুহতার, ১/২১৫)

আপনি যদি অন্তর থেকে এই ব্যবস্থাকে অপছন্দ করেন এবং অন্য কোনো বিকল্প না পান, তাহলে আপনি মা‘যূর গণ্য হবেন। তবে সাধ্যমত পর্দা, দৃষ্টি নিচু রাখা, গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করবেন।


উত্তর ২: পড়াশোনা ছেড়ে দিলে পরিবারের কষ্ট ও আত্মহত্যার দায় আপনার উপর আসবে কি?

আপনার দৃঢ় সংকল্প সঠিক, যদি আপনি দুনিয়াবি পড়াশোনা ছেড়ে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে চান। কিন্তু মনে রাখবেন:

ক. অভিশাপ দিলে কি আপনার উপর বর্তাবে?
ইসলামে পিতা-মাতার অভিশাপের গুরুত্ব অনেক। তবে যদি আপনি নিরাপরাধ হন (অর্থাৎ আপনি কোনো ফরজ বা ওয়াজিব কাজ করছেন না যা তাদের দুঃখের কারণ), তাহলে অভিশাপ আপনার উপর কার্যকর হবে না— বরং তারা জালিম হবেন।

খ. আত্মহত্যা বা কষ্ট পেয়ে মৃত্যুর দায়:
আপনার পরিবার যদি আত্মহত্যা করে বা চরম কষ্ট পায়, তার দায় আপনার উপর নয়। কারণ আপনি দ্বীন রক্ষার্থে কাজ করছেন। তবে আপনার উচিত হিকমত ও নম্রতা সহকারে তাদের বোঝানো, এবং ধীরে ধীরে তাদের মানিয়ে নেওয়া। হঠাৎ করে সম্পর্ক ছিন্ন না করে, সহমর্মিতা দিয়ে তাদের মন জয় করার চেষ্টা করুন।

হাদীসে এসেছে:

"لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ"
"নিজের বা অন্যের ক্ষতি করা জায়েয নয়।" (ইবনে মাজাহ)

সুতরাং আপনি যদি তাদের বুঝিয়ে, তাদের সাথে সম্পর্ক রেখে, কিন্তু নিজের দ্বীনি ইচ্ছায় অটল থাকেন, তাহলে কোনো গুনাহ আপনার হবে না।


উত্তর ৩: ‘পড়াশোনা আর চাকরি না করলে কীভাবে খাবে?’— এই কথার জবাব

তাদের যুক্তি আংশিক সঠিক। ইসলাম বলেছে: ‘তোমার কর্মই তোমার রিজিকের মাধ্যম।’ (সূরা রা‘দ: ১১) তবে এখানে মাধ্যমটি হালাল হতে হবে। আপনি বলতে পারেন:

  • “হ্যাঁ, মাধ্যম লাগবেই। কিন্তু সেই মাধ্যম কি এমন হতে হবে যা আমার ঈমান নষ্ট করে? এমন জায়গায় পড়তে হবে যেখানে পর্দা নেই, ফিতনা আছে? আল্লাহ আরও হালাল মাধ্যম দিতে পারেন।”
  • উদাহরণ: অনলাইনে ইসলামিক কোর্স, কম্পিউটার শেখা (যেটা হালাল পেশায় কাজে লাগে), অথবা ছোট কোনো ব্যবসা— এগুলোও মাধ্যম।

আল কুরআন-এ এসেছে:

"وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ"
“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করে না।” (সূরা আত-তালাক: ২-৩)

আপনার জবাব হবে: “আমি মাধ্যমগুলো হালাল রাখতে চাই। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন, তিনি অন্য পথেও রিজিক দেবেন।”


উত্তর ৪: উত্তমটা গ্রহণ করা কি আপনার জন্য সম্ভব?

হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। আপনি যদি দৃঢ় সংকল্প করেন, তাহলে আপনি বিলাল (রা.)-এর মত অটল থাকতে পারেন। তিনি ক্রীতদাস হয়েও ঈমানের উপর অটল ছিলেন। আপনার পরিবারের চাপ থাকলেও, আপনি নিজের জায়গায় অটল থেকে উত্তমটি গ্রহণ করতে পারবেন।

শর্ত:

  • ধৈর্য ধারণ করুন।
  • পরিবারকে সম্মান দেখান।
  • কখনোই রাগ বা ঝগড়া করবেন না।

ফতোয়ায়ে উসমানী-তে এসেছে:

“যদি কোনো কাজ দ্বীনি দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক হয়, তাহলে পিতা-মাতার বাধা সত্ত্বেও তা করা যায়; তবে তা করতে হবে অত্যন্ত ভদ্রতা ও নম্রতার সাথে।”


উত্তর ৫: বাবা-মাকে কিভাবে হিকমতের সাথে দাওয়াত দিবেন?

  1. তাদের ভালোবাসা ও সম্মান দিয়ে কথা বলুন।
  2. প্রথমে তাদের ভালো দিকগুলো প্রশংসা করুন (যেমন তারা আপনাকে বড় করেছেন)।
  3. সোজা সমালোচনা নয়— বরং বলুন: “আমি জানি আপনারা আমার কল্যাণ চান। কিন্তু আমি চাই এমন পড়াশোনা যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়েই কাজে লাগে।”
  4. কুরআনের আয়াত ও হাদীস তাদের বুঝিয়ে বলুন, তবে সংক্ষেপে। যেমন: “আল্লাহ বলেন, ‘যে স্ত্রী-পুরুষের মেলামেশা নিয়ন্ত্রণে রাখে, আমি তাকে জান্নাত দেব।’”
  5. ধৈর্য ও দু‘আ— তাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করুন।

কুরআন-এ নির্দেশ:

"وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَّيْسُورًا"
“তাদের সাথে নরম ও সহজ ভাষায় কথা বলো।” (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৮)


উত্তর ৬: দুনিয়াবি ইলম না শিখলে কি চলতে পারবেন?

দুনিয়াবি ইলম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ইত্যাদি) ফরযে কিফায়া— অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষের জন্য এটি অর্জন করা জরুরি। আপনার ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়োজনীয় জ্ঞান (যেমন গণিত, ভাষা, বেঁচে থাকার উপায়) শিখতে পারেন, তবে পর্দা ও দ্বীন রক্ষা করে

ডিজিটাল ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আপনি ইসলামিক অনলাইন কোর্স করতে পারেন, যা হালাল। আর আলেমা কোর্স (IOM) করলে আপনি দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করবেন, যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের জন্যই কল্যাণকর।

রিজিক আসা নির্ভর করে আল্লাহর উপর, কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমের উপর নয়। তবে হারাম মাধ্যম বেছে নিলে রিজিকে বরকত থাকে না।


উত্তর ৭: ফিতনা এড়াতে ঘরে থাকলে কি রিজিক আসবে?

রিজিক আসার জন্য সৎ মাধ্যম গ্রহণ জরুরি। আপনি ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করতে পারেন (যেমন ট্রান্সক্রিপশন, ডাটা এন্ট্রি, কনটেন্ট রাইটিং) যা পর্দা রক্ষা করে সম্ভব। অথবা ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে হালাল পথে চেষ্টা করুন, ইনশাআল্লাহ রিজিক আসবে।

হাদীস: “তোমরা হালাল রিজিকের সন্ধান করো, আর আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও।” (তিরমিযী)


উত্তর ৮: বিয়ে না দেওয়া ও রোজা না রাখতে দেওয়া

বিয়ে পিতা-মাতার দায়িত্ব, কিন্তু তারা না দিলে আপনি নিজে থেকে যোগ্য ও দ্বীনদার পাত্র খোঁজার চেষ্টা করতে পারেন। যদি পিতা-মাতা অযৌক্তিক বাধা দেন, তাহলে আপনি ইসলামি পদ্ধতিতে (যেমন কোনো অভিভাবকের মাধ্যমে) বিয়ে করতে পারেন।

রোজা রাখতে বাধা দেওয়া অন্যায়। আপনি গোপনে রোজা রাখতে পারেন, কিন্তু তাদেরকে না জানিয়ে। যদি তারা জোর করে খাওয়ান, তাহলে আপনি তা খেতে পারেন না; বরং আল্লাহর উদ্দেশ্যে রোজা রাখবেন।

ফতোয়া : “পিতা-মাতা যদি ফরজ রোজা রাখতে বাধা দেয়, তাহলে তাদের কথা মানা জরুরি নয়।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪৫)


উত্তর ৯: পর্দা করলেই কি ভাত জুটবে— এ কথার জবাব

তারা এই কথা বলার কারণ হলো দুনিয়াবি চিন্তা। আপনি তাদের বুঝান:

  • “পর্দা আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ যাকে পর্দা করেন, তিনি তার রিজিকের ব্যবস্থাও করেন।”
  • উদাহরণ: মরুভূমিতে বেদুইন নারীরা পর্দা করেই জীবন চালায়।
  • হাদীস: “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দেন।” (মুসলিম)

উত্তর ১০: ‘দুনিয়ার পড়া ঠিকমতো পড়লে দ্বীন নিয়ে বলবে না’— এটা মিথ্যা?

হ্যাঁ, এটি সাধারণত মিথ্যা প্রমাণিত হয়। দ্বীনী শিক্ষা থেকে দূরে থাকলে ধীরে ধীরে ঈমন দুর্বল হয়। আপনি বলুন:

  • “আমি যদি শুধু দুনিয়ার পড়ায় মন দিই, তাহলে আমার ইবাদত বাদ পড়বে। আর দ্বীনী শিক্ষাও ফরজ।”
  • তাদের বোঝান যে সঠিকভাবে দ্বীন শিখলে দুনিয়ার কাজও সঠিকভাবে করা যায়।

উত্তর ১১: IOM-এর আলেমা কোর্সের টাকা জোগাড়

  • পার্ট-টাইম হালাল কাজ (অনলাইন টিউশন, ফ্রিল্যান্সিং) করুন।
  • জ্ঞানী লোকের সাহায্য নিন (মসজিদের ইমাম, স্থানীয় আলেম)।
  • দু‘আ করুন— আল্লাহ উপায় করে দেবেন।

উত্তর ১২: মা-বাবার হক

মা-বাবার হক:

  • তাদের কথা শ্রদ্ধা করা।
  • তাদের সেবা করা।
  • তাদের অনুমতি ছাড়া সফর না করা (ফরজ হজ্জ ব্যতীত)।
  • তাদের জন্য দু‘আ করা।

তবে গুনাহের কাজে তাদের আনুগত্য জরুরি নয়। আপনি তাদের সম্মান দেখিয়ে নরমভাবে বলবেন: “আমি আপনাদের ভালোবাসি, কিন্তু আল্লাহর হুকুম মানতে হবে।”


উত্তর ১৩: পড়বো না বললে আরবি বন্ধ করে দিলে, ফোন নিয়ে গেলে

  • ধৈর্য ধরে তাদের সাথে কথা বলুন। বুঝান যে আরবি পড়া ফরজ, এটি আপনার ঈমানের জন্য জরুরি।
  • যদি তারা ফোন নিয়ে যায়, তাহলে অন্য উপায়ে (যেমন মসজিদে গিয়ে, কোনো বান্ধবীর কাছ থেকে) পড়া চালিয়ে যান।
  • সর্বোপরি, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।

সহশিক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া

  • সহশিক্ষা (বালক-বালিকার একত্রে পড়া) ইসলামী শরীয়তে হারাম যদি পর্দা ও শালীনতা রক্ষা না হয়।
  • প্রয়োজনে (যেমন অন্য কোনো হালাল প্রতিষ্ঠান না থাকা) কিছু দিন সহ্য করতে পারেন, তবে তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে।
  • আপনি যদি সম্পূর্ণভাবে বাধ্য হন, তাহলে সাধ্যমত পর্দা ও দৃষ্টি নিচু রাখবেন।

রদ্দুল মুহতার-এ বর্ণিত:

“মহিলাদের জন্য বিজাতীয় পুরুষের সাথে মেলামেশা জায়েয নয়।” (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৬৯)


আপনার জন্য কিছু পরামর্শ

  1. সবর ও দু‘আ— আপনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
  2. পরিবারকে সময় দিন— তাদের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন, তাদের কাজে সাহায্য করুন।
  3. ইসলামী বই ও বক্তৃতা তাদের শোনান (যেমন মুফতি তাকী উসমানী সাহেবের ভাষণ)।
  4. স্থানীয় আলেমের সাহায্য নিন

আল্লাহ আপনার দ্বীনি ইচ্ছাকে কবুল করুন, আপনার পরিবারকে হেদায়েত দিন এবং আপনার জন্য উত্তম পথ উন্মুক্ত করুন। আমীন।

জাঝাকাল্লাহু খাইরান।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.