বিতির সালাত কাযা আদায় করতে হবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 3067
Questioner: Mou Sumi
Question Asked: 24 Jul 2026, 10:52 AM
Reviewed & Published: 24 Jul 2026, 11:06 AM
Views: 24
Tokens: 3,874
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার জন্য বিতির সালাত পড়া হয়নি কিন্তু ঐ রাতেই হায়েজ হয়ে যায়। এখন যেহেতু বিতির সালাত আদায় করা হয়নি তাহলে কি পরে আবার হায়েজ শেষ হওয়ার পর বিতির সালাত কাযা আদায় করতে হবে?

Answer

উত্তর: বিতির সালাত কাযা আদায় করতে হবে

প্রশ্নে বলা হয়েছে, রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার intention ছিল, তাই বিতির সালাত পড়া হয়নি, কিন্তু ঐ রাতেই হায়েজ শুরু হয়ে যায়। এখন হায়েজ শেষ হওয়ার পর কি বিতির সালাত কাযা করতে হবে? হানাফী মাযহাবের মূলনীতি অনুযায়ী, বিতির সালাত ওয়াজিব (অবশ্য পালনীয়) নামায। এর সময় ঈশার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলে বা ঘুমের কারণে বিতির সালাত পড়তে না পারে, তবে তা পরে কাযা করা ওয়াজিব। কিন্তু হায়েজ চলাকালীন সময়ে কোনো নামায ছুটে গেলে তার কাযা নেই। তবে এখানে বিষয়টি ভিন্ন—ঐ রাতে বিতির সালাত পড়া সম্ভব ছিল কিন্তু পড়া হয়নি, তারপর হায়েজ এসেছে। তাই হায়েজ শুরু হওয়ার আগেই বিতির সালাত ওয়াজিব হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তা আদায় করা হয়নি। তাই হায়েজ শেষে এই বিতির সালাত কাযা করতে হবে।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. বিতিরের ওয়াজিব হওয়া ও কাযা: হানাফী ফিকহের বিশ্বস্ত গ্রন্থ "আল-হিদায়া""রদ্দুল মুহতার" এ উল্লেখ আছে— বিতির ওয়াজিব নামায। এটি কেউ ছেড়ে দিলে পরে তা কাযা করা আবশ্যক। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৪৪; আল-হিদায়া, ১/১২৬)

২. হায়েজের বিধান ও পূর্বের ফরজ/ওয়াজিব: "ফাতাওয়া উসমানী" তে এসেছে— হায়েজ চলাকালে নামায পড়া নিষিদ্ধ, আর সে সময়ে ছুটে যাওয়া নামাযের কাযা নেই। কিন্তু যদি হায়েজ শুরু হওয়ার আগেই কোনো ফরজ বা ওয়াজিব নামায পড়ার সময় থাকে এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে হায়েজ শেষে তা কাযা করতে হবে। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৭৫)

একই বিধান "বেহেশতী জেওর" (১ম খণ্ড, নামায অধ্যায়) এবং "ইমদাদুল ফাতাওয়া" (১/৪৩২) তেও বর্ণিত হয়েছে।

৩. প্রশ্নের ঘটনার প্রয়োগ: প্রশ্নকারিণী বিতির সালাত তাহাজ্জুদের পর পড়ার জন্য দেরি করেছিলেন। তিনি জাগ্রত ছিলেন এবং বিতির পড়ার সময় ছিল। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিতির বিলম্ব করায় তা তাঁর উপর ওয়াজিব ছিল। অতঃপর হায়েজ শুরু হলে সে ওয়াজিব আরও বাকি থেকে যায়। তাই হায়েজ শেষে অবশ্যই এর কাযা আদায় করতে হবে।

৪. কাযা পদ্ধতি: বিতির সালাতের কাযা সাধারণত ৩ রাকাআত পড়া হয় (যেভাবে নিয়মিত বিতির পড়া হয়), এক সালামে বা দু’সালামে—যে কোনো নিয়মে আদায় করা যায়। তবে হানাফী ফিকহে এক সালামে ৩ রাকাআত পড়া উত্তম। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৪৬)

সতর্কতা: ভবিষ্যতে যাতে বিতির সালাত সময়মতো আদায় করা সম্ভব হয়, সে জন্য তাহাজ্জুদের জন্য দেরি করলেও আগেই বিতির পড়ে নেওয়া উত্তম। কারণ তাহাজ্জুদের পরেও বিতির পুনরায় পড়ার সুযোগ নেই (হানাফী মতে তাহাজ্জুদের পর বিতির দোহরানো জায়েয নয়)। তাই কোনো অবস্থাতেই বিতির আদায় না করে থাকা উচিত নয়।

উপসংহার: প্রশ্নে বর্ণিত মহিলার জন্য বিতিরের কাযা ওয়াজিব। হায়েজ শেষে পবিত্র হওয়ার পর অবিলম্বে এক ওয়াক্ত বিতির সালাত (৩ রাকাআত) কাযা পড়ে নেবেন এবং দেরি করার জন্য তওবা করবেন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.