স্বপ্ন নিয়ে জানতে চাচ্ছিলাম
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আজকে সকালে স্বপ্নে দেখি যে একটা জঙ্গল এর মতো বড় আম বাগানে সবাই ঘুরতে গেছি । একটা সময় গাছগুলো থেকে অনেক বড় বড় সাপ নিচে পড়তে শুরু করে । দিয়ে নিচে এদিক ওদিক ছুটে পালায়ে যায় । আবার দেখি যে গাছের ডালে ডালে ইলিশ মাছ লাগিয়ে রেখেছে অনেক কয়টা। সাপ গুলোকে ধরার জন্য। মাছ গুলো বড় আর চকচক করছিলো । এরকম অদ্ভুত জিনিস গুলোর কোনো মানে আছে ? আর একটা গরিলার মতো প্রাণী দেখি সে জোর করে ঘরে ঢুকে যায় সাথে তার বাবাও আসে দিয়ে তারা বসে পড়ে ঘরের মধ্যে।
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আপনার স্বপ্নের বিবরণ শুনে বোঝা যাচ্ছে এটি কিছুটা অদ্ভুত ও ভয়ানক। ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্ন সাধারণত তিন প্রকার:
- আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বা ভালো স্বপ্ন (রহমানি স্বপ্ন)।
- শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি বা খারাপ স্বপ্ন (শয়তানি স্বপ্ন)।
- মননের খেয়াল বা দৈনন্দিন চিন্তার প্রতিফলন (নফসানি স্বপ্ন)।
(সহিহ বুখারী, হাদিস: ৭০১৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৬১)
আপনি যে স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন, তাতে বড় বড় সাপ, গাছে ইলিশ মাছ, এবং জোর করে ঘরে ঢোকা গরিলার মতো প্রাণী—এসব একটি মিশ্র ও অদ্ভুত প্রতীক। ইসলামী স্বপ্নতত্ত্বে এসবের কিছু সম্ভাব্য অর্থ থাকতে পারে, তবে নির্দিষ্টভাবে কাউকে ভয় বা আশংকায় ফেলা উচিত নয়। হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব রাদ্দুল মুহতার ও ফতোয়া হিন্দিয়া-তে স্বপ্নের ব্যাখ্যাকে সাধারণ জ্ঞান বা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে বলা হয়েছে, তবে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা হলো:
- সাপ সাধারণত শত্রু, গোপন শক্র অথবা ফিতনার প্রতীক হতে পারে। (ইবনে সিরিনের স্বপ্নতত্ত্ব)
- মাছ হালাল রিজিক, জ্ঞান বা কল্যাণের প্রতীক।
- গরিলা বা বন্য প্রাণী প্রায়ই জোর-জবরদস্তি, অশিষ্টতা বা অপদস্থকারী ব্যক্তির ইঙ্গিত দিতে পারে।
তবে আপনার স্বপ্নের ঘটনাগুলো পরস্পরবিরোধী: সাপ ধরা জন্য মাছ ব্যবহার করা—এটি বাস্তবসম্মত নয়। তাই এটি সম্ভবত শয়তানের পক্ষ থেকে একটি মিশ্র ও বিভ্রান্তিকর স্বপ্ন (আদগাসু আহলাম) হতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যদি কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে, শয়তান থেকে আশ্রয় চায় এবং স্বপ্নটি কারো কাছে না বলে; তাহলে এ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করবে না।”
(সহিহ বুখারী, হাদিস: ৭০৪৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৬২)
তাই আপনার করণীয়:
- ঘুম থেকে উঠে আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম বলুন এবং বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলুন।
- স্বপ্নের কথা কাউকে বলবেন না (আমাদের কাছে বলার কারণে এখন বলেছেন, তবে ভবিষ্যতে এড়িয়ে চলুন)।
- স্বপ্নের ভয় বা দুশ্চিন্তা না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।
- বেশি বেশি দরুদ শরিফ ও সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ুন।
আপনার স্বপ্নের জন্য বিশেষ কোনো “খারাপ অর্থ” দেওয়া ঠিক নয়, কারণ ইসলামী পদ্ধতি অনুযায়ী, অপছন্দনীয় স্বপ্নের ব্যাখ্যা না করাই উত্তম। বড় হানাফি আলিম মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ. এবং মুফতি তাকি উসমানি দা. বা.-ও সাধারণত এ বিষয়ে জোর দিয়েছেন যে, দুঃস্বপ্নকে গুরুত্ব না দিয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে সব ধরনের খারাপ প্রভাব থেকে হেফাজত করুন এবং আপনার ঈমান ও আমলকে শক্তিশালী করুন। অনেক বেশি ইস্তিগফার ও সালাতের মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখুন।
উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত প্রধান হানাফি কিতাবসমূহ:
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন) – স্বপ্নের ফিকহি আলোচনা
- ফতোয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি) – স্বপ্নের হুকুম
- বেহেশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভি) – স্বপ্নের বিভাগ ও করণীয়
- ফতোয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি) – স্বপ্ন সংক্রান্ত ফতোয়া
সর্বোপরি, আল্লাহই ভালো জানেন।