পর্দার হিজাব পরার পর কাঁধের আকার কিছুটা বোঝা গেলে কি পর্দা নষ্ট হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমি পর্দার উদ্দেশ্যে একটা হিজাব কিনেছি। হিজাব টা পরার পর কাধের দিকে কাপড়টা শরীরের সাথে কিছুটা লেগে থাকে। অর্থাৎ মাথা থেকে হিজাব টা ঝুলিয়ে দিলে কাধের অংশটায় এসে শরীরের সাথে কাপড়টা লেগে থাকে, আবার নিচের অংশটুকু ঢোলাঢালাই থাকে। শরীরের আর কোনো অংশ বুঝা যায় না। এখন কাধের শেইপ টা যে কিছু টা বুঝা যায় এরজন্য কি আমার পর্দা নষ্ট হবে?
Answer
উত্তর: পর্দা ও কাঁধের আকৃতি দেখা যাওয়া
প্রশ্নের সারাংশ
প্রশ্নকারী একজন মহিলা পর্দার জন্য হিজাব কিনেছেন। এটি পরার পর মাথা থেকে ঝুলিয়ে দিলে কাঁধের অংশে কাপড়টি শরীরের সাথে কিছুটা লেগে থাকে, ফলে কাঁধের আকৃতি কিছুটা বোঝা যায়। নিচের অংশ ঢোলা থাকে এবং শরীরের অন্য কোনো অংশ দেখা যায় না। এখন জানতে চান, এভাবে কাঁধের শেইপ বোঝা গেলে কি তার পর্দা নষ্ট হবে?
উত্তর
প্রথমত: ইসলামী পর্দার মূল শর্ত হলো- পুরো শরীর (চেহারা ও হাতের কব্জি পর্যন্ত ছাড়া) ঢাকা থাকতে হবে এবং পোশাক এমন হতে হবে যা শরীরের আকৃতি ফুটিয়ে তোলে না, পাতলা বা আঁটসাঁট নয়। [সূরা আন-নূর: ৩১; কুরতুবী, তাফসীর]
দ্বিতীয়ত: কাঁধ শরীরের সতর (আওরাহ) অংশ। তাই তা ঢাকা ওয়াজিব। তবে শুধু ঢাকা যথেষ্ট নয়, বরং পোশাক এমন হতে হবে যাতে শরীরের গঠন ও আকৃতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ না পায়। হাদিসে এসেছে, নারীদের জন্য এমন পোশাক পরা নিষেধ যা শরীরের আকৃতি বর্ণনা করে (অর্থাৎ আঁটসাঁট)। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৪৪০; মেশকাত, পোশাক অধ্যায়)
তৃতীয়ত: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, হিজাবটি কাঁধের অংশে কিছুটা লেগে থাকলেও নিচের অংশ ঢোলা এবং শরীরের অন্য কোনো অংশ বোঝা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে ফিকহী বিধান হলো:
- যদি কাপড়টি এতটাই পাতলা বা আঁটসাঁট হয় যে কাঁধের সম্পূর্ণ আকৃতি ও অস্থিগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, তাহলে তা পর্দার শর্ত লঙ্ঘন করে এবং নামায ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য তা অপছন্দনীয় (মাকরূহ) হবে। [রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২২৩]
- কিন্তু যদি কাপড়টি মোটা হয় এবং কেবল সামান্য ভাঁজ বা লেগে থাকার কারণে অস্পষ্টভাবে কাঁধের আভাস মাত্র পাওয়া যায়, তাহলে তা পর্দার জন্য ক্ষতিকর নয়। কেননা সাধারণভাবে এড়ানো কঠিন। [ফাতাওয়া উসমানী, ২/১২৩; বেহেশতী জেওর, পর্দা অধ্যায়]
সারকথা: আপনার হিজাবটি যদি মোটা কাপড়ের হয় এবং কাঁধের অংশটি শুধু স্বাভাবিকভাবে কিছুটা লেগে থাকে, তাহলে তা পর্দার জন্য সমস্যা নয়। তবে সর্বোত্তম হলো এমন হিজাব বা ওড়না ব্যবহার করা যা কাঁধের ওপরও আলগা থাকে এবং সারা শরীরে ঢিলেঢালা অবস্থায় পড়ে।
উল্লেখযোগ্য ফাতাওয়া ও গ্রন্থসমূহ
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): আঁটসাঁট পোশাক যা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রকাশ করে তা নারীদের জন্য জায়েয নয়।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী): যেসব পোশাকে শরীরের গঠন বোঝা যায়, তা পর্দার উদ্দেশ্য পূর্ণ করে না।
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী): শরীরের গঠন স্পষ্টভাবে বোঝা গেলে পর্দা সঠিক হবে না, তবে সামান্য লেগে থাকা সাধারণত ক্ষমার যোগ্য।
- বেহেশতী জেওর (মুফতি মুহাম্মদ শফী): পর্দার জন্য পোশাক ঢিলেঢালা ও পুরু হওয়া জরুরি।
পরামর্শ
- কাঁধের অংশে হিজাব যাতে বেশি আঁটসাঁট না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। চাইলে একটি চাদর বা বোরকার ওপরের অংশ ব্যবহার করতে পারেন।
- হিজাবটি ভালোভাবে সামঞ্জস্য করে নিন যাতে কাঁধের ওপর কাপড়টি স্বাভাবিকভাবে পড়ে, কিন্তু আকৃতি স্পষ্ট না হয়।
- যদি সম্ভব হয়, হিজাবের নিচে একটি পাতলা আন্ডারস্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন যা কাঁধের গঠন অস্পষ্ট রাখে।
আল্লাহ তাআলা আপনার পর্দার প্রতি যত্নশীলতাকে কবুল করুন। আমীন।