ভিসায় ধর্মীয় প্রতীক রয়েছে এমন অমুসলিম দেশে চাকরির জন্য যাওয়া কি যাবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২।ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর মতে কোনো অমুসলিম দেশে গেলে ফরজ ইবাদাত না করতে পারলে মাকরুহ আর ওয়াজিব সুন্নাত সহ সকল ইবাদাত না করতে পারলে কি মাকরুহ হবে?
Answer
উত্তর প্রদানে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত মাসআলা:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين
প্রশ্ন ১: মন্টেনিগ্রোর পতাকা ও ভিসায় অমুসলিমদের লোগো থাকার কারণে সে দেশে চাকরির জন্য গেলে গুনাহ হবে কি? এবং ইমান চলে যাবে কি?
উত্তর:
পতাকা বা ভিসায় কোনো অমুসলিম প্রতীক থাকার কারণে ইসলামি বিশ্বাস বা ইমান নষ্ট হয় না। তবে সেখানে যাওয়ার নিয়ত ও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
১. ইমান চলে যাওয়ার প্রশ্ন: ইমান চলে যাওয়ার জন্য স্পষ্ট কুফরি কথা বা কাজ প্রমাণিত হতে হবে (সুরা বাকারা ২:২১৭)। শুধু পতাকা বা ভিসায় লোগো থাকায় ইমান নষ্ট হয় না। তবে যদি কেউ সেটাকে সম্মান বা ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে মান্য করে, তাহলে সেটা কুফরি হতে পারে। কিন্তু আপনার বর্ণনায় তেমন ইচ্ছা নেই। তাই ইমান চলে যাওয়ার ভয় অমূলক।
২. গুনাহ হওয়ার বিষয়: অমুসলিম দেশে যাওয়া নিজেই গুনাহ নয়। বরং ইসলামি শরিয়ত কিছু শর্তে অমুসলিম দেশে বসবাসের অনুমতি দেয়। যদি সেখানে দ্বীন পালন করা সম্ভব হয় (যেমন নামাজ, রোজা, হালাল খাবার ইত্যাদি) এবং জোরপূর্বক কুফরি কাজে বাধ্য করা না হয়, তাহলে বৈধ প্রয়োজনে (যেমন চাকরি, শিক্ষা) যাওয়া জায়েয।
হাদিস:
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: "আমি মুশরিকদের দেশে বসবাসকারী মুসলিম থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করি।" (আবু দাউদ, তিরমিজি) - এই হাদিসটি তখনকার সময়ের জন্য প্রযোজ্য, যখন দ্বীন পালন অসম্ভব ছিল। বর্তমানে যদি দ্বীন পালন সম্ভব হয়, তাহলে জায়েয।
ফতোয়া:
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) লিখেছেন: "যদি কোনো মুসলিম অমুসলিম দেশে গিয়ে নিজে দ্বীন পালন করতে পারে এবং সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়, তবে সেটা বৈধ।" (জাওয়াহিরুল ফিকহ)
সিদ্ধান্ত:
আপনার জন্য ভিসা নেওয়া বা চাকরির জন্য যাওয়া জায়েয, যদি সেখানে নামাজ, রোজা, জাকাত, পর্দা এবং হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করেন। তবে অমুসলিমদের সাথে সম্পর্ক রাখার সময় সতর্ক থাকবেন, যেন তাদের কুফরি রীতিনীতি গ্রহণ না করেন।
প্রশ্ন ২: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে অমুসলিম দেশে গেলে ফরজ ইবাদত না করতে পারলে মাকরুহ হবে? আর ওয়াজিব ও সুন্নাত সহ সব ইবাদত না করতে পারলে কি মাকরুহ হবে?
উত্তর:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত হলো:
১. ফরজ ইবাদত আদায় করা সম্ভব না হলে:
অমুসলিম দেশে যদি ফরজ ইবাদত (যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রোজা, জাকাত, পর্দা) আদায় করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়, তাহলে সেখানে বসবাস করা মাকরুহ তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি) হবে। কারণ ফরজ ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ।
২. ওয়াজিব ও সুন্নাত সহ সব ইবাদত না করতে পারলে:
যদি ফরজ আদায় করা সম্ভব হয়, কিন্তু ওয়াজিব (যেমন কুরবানি, সদকায়ে ফিতর) ও সুন্নাত (যেমন ইশরাক, তাহাজ্জুদ) না করতে পারেন, তাহলে তাহা মাকরুহ তানজিহি হবে। অর্থাৎ উত্তম না হলেও হারাম নয়।
দলিল:
ইমাম কাসানি (রহ.) আল-বাদায়ি' গ্রন্থে বলেন: "কাফির দেশে বসবাস তখনই মাকরুহ, যখন ফরজ ইবাদত পালন করা অসম্ভব হয়। অন্য ক্ষেত্রে জায়েয।" (আল-বাদায়ি' ৭/১৭)
মুফতি শফি (রহ.) লিখেছেন:
"যদি কোনো দেশে নামাজ-রোজার মতো মূল ফরজ পালন করা যায়, তাহলে সেখানে বসবাস জায়েয। তবে সুন্নাতের দুর্বলতায় মাকরুহ হবে না।" (মা'আরিফুল কুরআন, সুরা নিসা ৯৭-এর তাফসির)
সারসংক্ষেপ:
- ফরজ ছুটলে → মাকরুহ তাহরিমি।
- শুধু ওয়াজিব-সুন্নাত ছুটলে → মাকরুহ তানজিহি।
আপনার জন্য পরামর্শ:
মন্টেনিগ্রো যাওয়ার পর নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন, জুমা আদায়ের ব্যবস্থা করুন, হালাল খাবার গ্রহণ করুন এবং অমুসলিমদের সাথে সীমিত সম্পর্ক রাখুন। দ্বীনের ব্যাপারে শিথিলতা না করলে ইনশাল্লাহ কোনো সমস্যা নেই।
والله أعلم بالصواب