হায়েজ অবস্থায় কুরআন নাজেরা পড়া দেওয়ার হুকুম।

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2910
Questioner: Taslima Islam
Question Asked: 20 Jul 2026, 12:41 PM
Reviewed & Published: 20 Jul 2026, 12:47 PM
Views: 52
Tokens: 4,102
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হায়েজ অবস্থায় কুরআন নাজেরা পড়া দেওয়ার হুকুম কি?

Answer

উত্তর: হায়েজ অবস্থায় কুরআন নাজেরা পড়া/পড়ানোর হুকুম।

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:

হায়েজ অবস্থায় একজন মহিলা কি কুরআন নাজেরা (তিলাওয়াত) পড়তে বা অন্যকে শেখাতে পারেন?


হানাফি ফিকহের সুস্পষ্ট ও প্রামাণ্য মত অনুযায়ী, হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা (নাজেরা পড়া) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম)। এমনকি একটি আয়াতও তিলাওয়াত করা জায়েয নয়। নিম্নোক্ত কারণ ও প্রমাণাদি এ বিষয়ে বিদ্যমান:

প্রমাণ ও দলিল:

  1. হাদীস:
    রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

    "لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئاً من القرآن"
    অর্থ: "হায়েজ অবস্থায় নারী ও জুনুবী ব্যক্তি কুরআনের কোনো কিছু পড়বে না।"
    (তিরমিজি, হাদীস: ১৩১; ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৫৯৫)

    • যদিও এই হাদীসটির সনদে দুর্বলতা রয়েছে, তবে সাহাবায়ে কেরামের আমল ও ইজমা দ্বারা এটি শক্তিশালী হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অধিকাংশ ফকীহ এর উপর আমল করেছেন।
  2. সাহাবী ও তাবেয়ীদের আমল:
    ইবনে আব্বাস (রা.), আয়েশা (রা.), ও আলী (রা.) সহ অনেক সাহাবী হায়েজ নারীকে কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন। এই বিষয়ে কোনো ইখতিলাফ পাওয়া যায় না।

  3. ফকীহদের মত:
    ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম তাহাবী ও ইবনে আবেদীন (রহ.) সকলেই একমত যে, হায়েজ নারীর জন্য কুরআন তিলাওয়াত হারাম।

    • রদ্দুল মুহতার (১/২৯২) এ উল্লেখ আছে:
      "লা তাকরাউল হায়িদু মিনাল কুরআনিশ শাইআ হালতাল হায়জ"
      (হায়েজ অবস্থায় নারী কুরআনের কিছুই পড়বে না)
    • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৮) তে স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যতিক্রম (যা জায়েয):

  • যিকর ও দু‘আ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ইত্যাদি যিকর ও দু‘আ জায়েয।

  • তালীম ও তা‘লীম (শিক্ষাদান ও শিক্ষা নেওয়া):
    যদি শিক্ষক বা ছাত্রী হায়েজ অবস্থায় থাকেন, তবে প্রয়োজনে কুরআনের শব্দ উচ্চারণ করে শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে। তবে ইচ্ছাকৃত তিলাওয়াতের নিয়তে নয়; বরং শিক্ষার উদ্দেশ্যে পৃথকভাবে বর্ণ বা শব্দ পড়া জায়েয।
    ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) এ বিষয়ে বলেন:

    "যদি একজন শিক্ষক হায়েজ অবস্থায় থাকেন, তাহলে তিনি কুরআনের আয়াত উচ্চারণ করে ছাত্রীদের পড়াতে পারেন, তবে এই অবস্থায় নিজে তিলাওয়াতের সওয়াবের নিয়ত করবেন না।"
    (রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৩)

  • মুসহাফ স্পর্শ: হায়েজ অবস্থায় কুরআনের মূল আরবি মুশাফ স্পর্শ করা বা তা ধরা হারাম। তবে অনুবাদ বা তাফসীরের কিতাব স্পর্শ করা জায়েয।

হানাফি মতের সারসংক্ষেপ:

  • হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা হারাম (ছোট্ট একটি আয়াতও না)।
  • শিক্ষাদান বা শেখার প্রয়োজনে শুধুমাত্র পৃথক শব্দ উচ্চারণ জায়েয।
  • মুসহাফ স্পর্শ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.