হায়েজ অবস্থায় কুরআন নাজেরা পড়া দেওয়ার হুকুম।
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: হায়েজ অবস্থায় কুরআন নাজেরা পড়া/পড়ানোর হুকুম।
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
হায়েজ অবস্থায় একজন মহিলা কি কুরআন নাজেরা (তিলাওয়াত) পড়তে বা অন্যকে শেখাতে পারেন?
হানাফি ফিকহের সুস্পষ্ট ও প্রামাণ্য মত অনুযায়ী, হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা (নাজেরা পড়া) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম)। এমনকি একটি আয়াতও তিলাওয়াত করা জায়েয নয়। নিম্নোক্ত কারণ ও প্রমাণাদি এ বিষয়ে বিদ্যমান:
প্রমাণ ও দলিল:
-
হাদীস:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:"لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئاً من القرآن"
অর্থ: "হায়েজ অবস্থায় নারী ও জুনুবী ব্যক্তি কুরআনের কোনো কিছু পড়বে না।"
(তিরমিজি, হাদীস: ১৩১; ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৫৯৫)- যদিও এই হাদীসটির সনদে দুর্বলতা রয়েছে, তবে সাহাবায়ে কেরামের আমল ও ইজমা দ্বারা এটি শক্তিশালী হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অধিকাংশ ফকীহ এর উপর আমল করেছেন।
-
সাহাবী ও তাবেয়ীদের আমল:
ইবনে আব্বাস (রা.), আয়েশা (রা.), ও আলী (রা.) সহ অনেক সাহাবী হায়েজ নারীকে কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন। এই বিষয়ে কোনো ইখতিলাফ পাওয়া যায় না। -
ফকীহদের মত:
ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম তাহাবী ও ইবনে আবেদীন (রহ.) সকলেই একমত যে, হায়েজ নারীর জন্য কুরআন তিলাওয়াত হারাম।- রদ্দুল মুহতার (১/২৯২) এ উল্লেখ আছে:
"লা তাকরাউল হায়িদু মিনাল কুরআনিশ শাইআ হালতাল হায়জ"
(হায়েজ অবস্থায় নারী কুরআনের কিছুই পড়বে না) - ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৮) তে স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করা হয়েছে।
- রদ্দুল মুহতার (১/২৯২) এ উল্লেখ আছে:
ব্যতিক্রম (যা জায়েয):
-
যিকর ও দু‘আ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ইত্যাদি যিকর ও দু‘আ জায়েয।
-
তালীম ও তা‘লীম (শিক্ষাদান ও শিক্ষা নেওয়া):
যদি শিক্ষক বা ছাত্রী হায়েজ অবস্থায় থাকেন, তবে প্রয়োজনে কুরআনের শব্দ উচ্চারণ করে শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে। তবে ইচ্ছাকৃত তিলাওয়াতের নিয়তে নয়; বরং শিক্ষার উদ্দেশ্যে পৃথকভাবে বর্ণ বা শব্দ পড়া জায়েয।
ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) এ বিষয়ে বলেন:"যদি একজন শিক্ষক হায়েজ অবস্থায় থাকেন, তাহলে তিনি কুরআনের আয়াত উচ্চারণ করে ছাত্রীদের পড়াতে পারেন, তবে এই অবস্থায় নিজে তিলাওয়াতের সওয়াবের নিয়ত করবেন না।"
(রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৩) -
মুসহাফ স্পর্শ: হায়েজ অবস্থায় কুরআনের মূল আরবি মুশাফ স্পর্শ করা বা তা ধরা হারাম। তবে অনুবাদ বা তাফসীরের কিতাব স্পর্শ করা জায়েয।
হানাফি মতের সারসংক্ষেপ:
- হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা হারাম (ছোট্ট একটি আয়াতও না)।
- শিক্ষাদান বা শেখার প্রয়োজনে শুধুমাত্র পৃথক শব্দ উচ্চারণ জায়েয।
- মুসহাফ স্পর্শ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।