দুনিয়ার কঠিন জীবনে কিভাবে আল্লাহর দিকে থাকবো?

Family Life · Hanafi

Question No: 2894
Questioner: Li Za
Question Asked: 20 Jul 2026, 01:46 AM
Reviewed & Published: 20 Jul 2026, 02:29 AM
Views: 58
Tokens: 23,943
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তাদ
আমি ইতিমধ্যে আমার সমস্যাগুলো আপনাদের জানিয়েছি প্রশ্নের মাধ্যমে। তারপরও প্রশ্ন করতে হচ্ছে। আমি আসলে বুজতে পারছি না আমার জায়গায় থেকে আসলে আমার কি করা উচিৎ। মা, বাবা,বোন,স্বামী, আত্মীয় স্বজন মোটকথা এই দুনিয়া নিয়ে আমি বড্ড ক্লান্ত। হেদায়েত পেয়েও ধরে রাখতে পারছি না,আল্লাহর হুকুম মেনে চলতে পারছি না এই চিন্তা গুলোয় শেষ হয়ে যাচ্ছি। মানুষের এত জুলুম, প্রতারণা নিতে পারছি না। প্রথমত আমার মা বাবা প্রতারণা করে আমাকে এক লেবাসধারীর হাতে তুলে দিয়েছে। বলা যায় আমি এখন জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছি। আমার স্বামী বাইরে থেকে দীনদার (দাড়ি আছে, ফরজ নামাজ ঠিক মত আদায় করেন না, দাখিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস, ব্যবহারে যে কারো মনে হবে উনি দীনদার) কিন্তু ভিতরে বিপরীত। ওনার পরকীয়ার কারণে ডিভোর্স হয়েছে কিন্তু ডিভোর্স এর কারণ মিথ্যা বলেছে বিয়ের সময় এমনকি বিয়ের আগে এক মেয়ের (অন্য কারো সাথে হয়েছে সন্দেহ হলেও প্রমাণ নেই)সাথে একাধিক বার শারিরীক সম্পর্কও হয়েছে প্রমাণ থেকে পাওয়া তাঁর পাশাপাশি একাধিক মেয়েদের সাথে মেসেজ, কল এ অশ্লীল কথা বার্তা বলতো। বিয়ের সময় আমার মা বাবা তেমন কোনো খোঁজ নেয় নি বললেই চলে আর যা জন্য আমাকে সেগুলোয় মিথ্যে বলেছে যেমন:তার বয়স,ইনকাম, বাড়িতে পর্দার পরিবেশ, দ্বীনদারীতা ইত্যাদি বিষয়। এগুলোর কারনে মা,বাবা,বোনের উপর ঘৃণা ছাড়া কোনো সম্মান আসে না আর কারণ তারা বিয়েটা দেওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত জোর করেছে আমাকে। মানষিক ভাবে ব্ল্যাক মেইল, মানষিক টর্চার, শারীরিক টর্চার, মেরে ফেলার হুমকি,বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার, ভরণপোষণ না দেওয়ার হুমকি,শেষে তাবিজ পর্যন্ত করেছে আমার উপর। আমি শেষ পর্যন্ত চেস্টা করেছি বিয়েটা করার কারণ আমার তখনই মো হয়েছিল বিয়েটা ঠিক হবে না। বিয়ের পর থেকে আমার হেদায়েত কমে যাচ্ছে। বিয়ের ৪ মাসের সময় তালাক এর কথা মা বাবাকে বলি কিন্তু তাঁরা আবার আগের মতোই টর্চার করে পাঠায়। নানা রকম আশ্বাস দের যে আমার স্বামীকে পরিবর্তন করবে কিন্তু এগুলো বিষয় কোনো চেষ্টা করেনি। মা বাবা এখনও শুধু তাদের স্বার্থ,সম্মান,সুবিধা টাই বুঝে এগুলো বুঝেই আমাকে এই ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছে যা এখন পরিষ্কার। বিয়ের ২.৬ বছর পর হতে যাচ্ছে আমার ছেলের বয়স ১ বছর কিন্তু আমার স্বামী কোনো পরিবর্তন হয়নি। অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলে বিয়ের পর থেকে ২ বার ধরেছি প্রমাণ সহ, হালাল হারাম মেনে চলে নিজের সুবিধা মতো।আমার বাবার টাকা হারাম(জমি বন্ধক এর ধান বিক্রির টাকা,ব্যাংক এর সুদ, মানুষকে টাকা দিয়ে সেটার সুদ) নিয়েছে এবার আমার বারণ সত্ত্বেও। চিন্তা ভাবনা নোংরা যেমন: মেয়ে মানুষ নিচু হয়ে থাকবে,বয়স বাড়লেও ছেলেরা এক থাকে,মেয়েদের ভের্জিনিটি হয় ছেলেদের হয় না ইত্যাদি। ওনাকে দেখলে,ওনার ব্যবহার দেখলে আমার ঘৃণা আসে। বাইরে থেকে এতো সলিড দেখান নিজেকে আর ভিতর টা নাপাকিতে ভরা। ওনার মা তো আরও জঘন্য সেগুল বলার ভাষায় নেই।
অন্যদিকে আমার মা বাবাও কম না আমার বাবা এভাবে বলেন ' মেয়েরা বিয়ের ২ বছর পর নষ্ট হয়ে যায়,এই যুগে এত পর্দা হিজাব চলে না,স্বামীর মন মতো চলতে হয়, মেয়েরা সবসময় নিচু হয়ে থাকবে, ছেলেরা পরকীয়ার মতো কাজ করতেই পারে এটা নাকি নরমাল, ছেলে মানুষ ইনকাম করে তাই তাদের মতোই চলতে হবে, আমাকে মেরে ফেলতে চায় এভাবে বলে মারলে ফাঁসি ই ও হবে আর কি হবে, তাঁদের বাড়িতে যেতে তো বার বার নিষেধ করে,উনি নাকি সব হালাল হারাম জানেন তাই উনি যা বলেন তাই ঠিক ইত্যাদি। আর আমার মা আমাকে ছোট বেলা থেকেই মারধর, অতিরিক্ত শাসন, অভিশাপ, বিশ্রী গালাগাল দিয়েই বড় করেছে এখনও তাই করে। যদি কিছু বলি যেমন: আমার স্বামী দীনদার না তাকে যেনো এই বিষয় গুলো বুঝায় ইত্যাদি ইত্যাদি তাহলেই তিনি বলেন, আমি সংসার করবো না তাহলে বাচ্চা জন্ম দিছি কেনো, সংসার না করলে স্বামীর সাথে রাত কাটাই কেনো,আগে প্রেম করে পালাই বিয়ে করতে পারি নাই কেনো,কোনো ছেলে তো আমাকে চয়েস করে নাই,এখন যেনো সুন্দর (আমার স্বামী দেখতে কালো আর বয়সও আছে তাই এটা বলে) ছেলে খুঁজে পালাই যায়, ছেলেকে তাদের বা ছেলের বাপের কাছে রেখে ভেগে যাই,আমি স্বামীর মতো চলতে পারি না কেনো,তাদের মন মতো চলতে পারি না, তাঁদের সম্পদ আমাকে দিবে না আমার বড় বোনকে সব দিবে, আমারই সব দোষ কেননা আমি হারামে যাই না,তাদের বাড়িতে গেলে আমাকে কাজের মেয়ের মতো কাজ করতে বলে, গত ৮ মাসে মা আমাকে ২ বার গলা টিপে ধরেছে সাথে মারপিট থাকেই,এমনকি আমার নামে গ্রামে নোংরা নোংরা বদনাম করে বেড়ায় যেমন: আমি এক ছেলের সাথে প্রেম শুরু করেছি তাই সংসার করতে চাই না, আমি মা*, বে**, আলীম পরি পর্দা করি তাও তাদের মতো কেনো হতে পারি না, অভিশাপের শেষ নাই এমন কোনো অভিশাপ যেটা আমাকে দেয়নি আরও আছে যা বলে শেষ করার নয়।
এখন উস্তাদ আমি এমন আযাব নিতে নিতে ক্লান্ত একদিকে আল্লাহকে হারাচ্ছি। সবাই কথা,ব্যবহার, প্রতারণা বার বার করেই যাচ্ছে এখন আমাকে তাদের সাথে মানিয়ে নিতে চাচ্ছে। তারা যেমন হারাম খায়, জিনা বেভিচারকে নরমাল করে ফেলছে, হালাল হারাম এর কোনো তফাৎ করে না, জাহান্নামের কোনো ভয় নেই ইত্যাদি সেরকম আমাকে করে ফেলতেছে। আমি ইদানিং সবার কথার জবাব দেয় নিতে না পেরে। আমার ছেলেটাকে আমার মা বাবা চায় কারণ তাদের ছেলে নেই এদিক এ স্বামী বলে ছেলেকে রেখে চলে যেতে বিয়ের পর থেকে কিছু হলেই গায়ে হাত তোলা অভ্যাস তো আছেই। মা বাবা বোনের সাথে তেমন কথা বলি না মন টা আগায় না আর। না পেরে স্বামীর ঘরে আছি তার বেদ্বীন ব্যবহার যা আমার সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। মা বাবার কারণে আজ আমার এই দশা। তাদের জোরে বিয়ে করলাম এখন তাঁরাই অস্বীকার করে তারা নাকি আমাকে জোর করেনি। এখন আমি কি করতে পারি? দিন দিন আমি ডুবে যাচ্ছি। আমার তো কোনো ইনকাম নাই তাহলে আলাদা হওয়ার চেষ্টা করতাম এদিকে ছেলের প্রতি অসম্ভব মায়া। ওকে দীনি শিক্ষায় বড় করতে চাই জানি না তা হবে কিনা। চারিদিকের পরিবেশও মেয়েদের জন্য সেফ না এখন। এরকম মানুষগুলো কেনো হেদায়েত হয় না আর তারা দুনিয়াবি হয়েও কত সুখী যা আমি নেই। আল্লাহর প্রতি নিরাশ হয়ে যাচ্ছি উনি কেনো আমাকে এমন মা,বাবা,স্বামী দিলেন যা আমার জন্য এত বড় ফিতনা হলো আর কেনই বা এই সন্তান দিলেন যাকে ব্যবহার করে সবাই আমার উপর জুলুম করছে? দুনিয়ার চোখে আমি কেনো এতো জঘন্য? আলাহ কি অভিশাপ কবুল করেছেন নাকি শাস্তি দিচ্ছেন নাকি পরীক্ষা নিচ্ছেন? মা বাবার বাড়ি যাওয়া আর সম্ভব না আমার জন্য। স্বামী তালাক দিলে রাস্তায় থাকবো তাও আমি আমার মা বাবার কাছে যাব না ওরা আমাকে মেরে ফেলবে নয়তো আত্মহত্যা করতে বাধ্য করবে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই সন্তানের জন্য আমি বাকি জীবনটা শেষ। স্বামীর জোরে বাচ্চা নেওয়া এখন সেও পরিবর্তন হচ্ছে না। আর কত সবর করবো তার পরিবর্তন এর জন্য? সে তো হারামের দিকে পরিবর্তন হচ্ছে। স্বামীর অতীত,তার পতারণা আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। এতো দুআর পরেও আমি কেনো এভাবে ঠকলাম? আমার এই অবস্থায় আসলে কি করা উচিত বুজতে পারছি না। শুধু সন্তান নিয়ে অন্য জীবন যাপন করতে ইচ্ছে করে নাহলে মরে যেতে। বিয়ের আগের জীবনে টা ফিরে পেতে ইচ্ছে করে সেই আল্লাহর সাথে দৃঢ় সম্পর্ক ছিল তেমন করে। আমি আমার সন্তানকে নিয়ে কিভাবে হেফাজতে থাকবো,কিভাবে দীনের উপর থাকবো,সন্তান কিভাবে মানুষ করবো,এই আযাব গুলো থেকে মুক্তির জন্য পথ দুনিয়াতে নেই?

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاتة

প্রিয় বোন, আপনার দীর্ঘ ও কষ্টভরা বর্ণনা পড়ে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। আপনি যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টকর। কিন্তু মনে রাখবেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে অযথা কষ্ট দেন না। আপনার এই পরিস্থিতি একটি পরীক্ষা, এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আপনাকে আরও উচ্চ মর্যাদা দিতে চান। কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা বলেন:

"وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ"
(সূরা বাকারা: ১৫৫)
অর্থ: "আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ, প্রাণ ও ফলের ক্ষতি দিয়ে। আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।"

আপনার উচিত ধৈর্য ধরা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। আপনি আপনার স্বামী ও পরিবারের আচরণে কষ্ট পাচ্ছেন, কিন্তু মনে রাখবেন, প্রতিটি মুমিনের জীবনে পরীক্ষা আসে। হাদিসে আছে,

"أشد الناس بلاءً الأنبياء، ثم الأمثل فالأمثل"
(তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
অর্থ: "সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা নবীগণ দিয়ে নেওয়া হয়, তারপর যারা তাদের কাছাকাছি, তারপর যারা তাদের কাছাকাছি।"

আপনার স্বামী সম্পর্কে আপনি যা বলেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি যদি সত্যিই ফরজ নামাজ আদায় না করেন, পরকীয়ায় লিপ্ত হন, হারাম উপার্জন করেন এবং আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন, তাহলে তিনি দীনদার নন; বরং তিনি মুনাফিক ও গুনাহগার। ইসলামে স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার হলো তাকে ভালোবাসা, সম্মান করা, তার ভরণপোষণ দেওয়া এবং তার সাথে সদাচরণ করা। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

"وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ"
(সূরা নিসা: ১৯)
অর্থ: "আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো।"

আপনার স্বামী যদি এই অধিকার লঙ্ঘন করে এবং আপনি যদি তার অত্যাচার সহ্য করতে না পারেন, তাহলে আপনি তালাক বা খুলা (স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ) চাইতে পারেন। তবে এর জন্য অবশ্যই একজন আলেম বা ইসলামী বিচারকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। ফতোয়া আলমগিরীতে বলা হয়েছে:

"إذا كان الزوج سيئ الخلق أو لا يؤدي حقوق الزوجة أو يزني، فللزوجة أن تطلب الطلاق"
(ফতোয়া আলমগিরী, ১/৫৪৬)
অর্থ: "যদি স্বামী খারাপ চরিত্রের হয়, স্ত্রীর অধিকার আদায় না করে, বা ব্যভিচার করে, তাহলে স্ত্রী তালাক চাইতে পারে।"

আপনার মা-বাবার আচরণ সম্পর্কেও আপনি বলেছেন। তারা আপনাকে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে দিয়েছে এবং এখন আপনাকে অত্যাচার করছে। তাদের জুলুম ও অত্যাচার সহ্য করা আপনার জন্য জরুরি নয়। ইসলামে পিতামাতার সম্মান ও আনুগত্য করতে বলা হলেও, তাদের জুলুম ও অন্যায় সহ্য করতে বলা হয়নি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق"
(বুখারি, মুসলিম)
অর্থ: "সৃষ্টিকর্তার নাফরমানিতে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই।"

আপনার মা-বাবা যদি আপনাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে থাকে এবং এখন আপনাকে অত্যাচার করে, তাহলে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা তাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া বৈধ। তবে, আপনি যদি তাদের কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে পারেন, তাহলে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আলাদা জীবনযাপন করতে পারেন।

আপনার সন্তানের কথা বলেছেন। সন্তান আপনার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি চান তাকে দীনি শিক্ষায় বড় করতে। এটি খুবই প্রশংসনীয়। আপনি যদি স্বামী বা পরিবার থেকে আলাদা হতে চান, তাহলে সন্তানকে সাথে নেওয়ার অধিকার আপনার আছে। ইসলামী আইন অনুযায়ী, সন্তানের হেফাজত (অভিভাবকত্ব) সাধারণত মায়ের কাছে থাকে যতক্ষণ না সে সন্তানের ভালোভাবে লালন-পালন করতে পারে। রদ্দুল মুহতার (৮/৪৮৭) এ বলা হয়েছে:

"الأم أحق بحضانة الولد ما لم تتزوج"
অর্থ: "মা সন্তানের হেফাজতের অধিক হকদার, যতক্ষণ না সে (অন্যত্র) বিয়ে করে।"

আপনার স্বামী ও পরিবারের অত্যাচার থেকে মুক্তির জন্য আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারেন:

১. দোয়া ও ইবাদত: বেশি বেশি দোয়া করুন, বিশেষ করে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করুন।
২. স্থানীয় আলেমের পরামর্শ: আপনার এলাকার কোনো বিশ্বস্ত আলেমের কাছে যান এবং পরিস্থিতি খুলে বলুন। তিনি আপনাকে শরয়ী পথে তালাক বা খুলার পরামর্শ দিতে পারেন।
৩. আইনি সাহায্য: আপনার দেশের আইন অনুযায়ী, আপনি স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। তবে ইসলামী পন্থায় সমাধানের চেষ্টা করুন।
৪. আত্মহত্যা বা অন্যায় পথে না যাওয়া: দয়া করে আত্মহত্যার চিন্তা করবেন না। এটি ইসলামে হারাম এবং কবিরা গুনাহ। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না।
৫. সন্তানের নিরাপত্তা: আপনার সন্তানকে নিজের কাছে রাখুন এবং তাকে ইসলামী শিক্ষায় বড় করার চেষ্টা করুন।

আপনার জন্য একটি সুসংবাদ হলো, আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। তিনি বলেন:

"إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ"
(সূরা বাকারা: ১৫৩)
অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।"

আপনি যদি ধৈর্য ধরে আল্লাহর সাহায্য চান, তাহলে তিনি অবশ্যই একটি পথ বের করে দেবেন। আপনার জীবনে পরিবর্তন আসবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা:
"رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ"
(সূরা আলে ইমরান: ৮)
অর্থ: "হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করো না এবং আমাদেরকে তোমার কাছ থেকে রহমত দান করো। নিশ্চয়ই তুমিই মহাদাতা।"

হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি:

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/৫৪৬)
  • রদ্দুল মুহতার (৮/৪৮৭)
  • ফতোয়া আলমগিরী (১/৫৪৬)
  • কুরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখান। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.