বয়সে ছোট কাউকে বিয়ে না করার ব্যক্তিগত পছন্দ।

Family Life · Hanafi

Question No: 2881
Questioner: Tisa Moni
Question Asked: 19 Jul 2026, 06:58 PM
Reviewed & Published: 19 Jul 2026, 07:55 PM
Views: 71
Tokens: 4,531
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

উস্তাজ, আমার বড় দুইবোন এবং আমি অবিবাহিত, আমরা তিন বোন বয়সে ছোট ছেলে কে বিয়ে করাটা অপছন্দ করি নিজেদের জন্য অর্থাৎ বয়সে ছোট কাউকে বিয়ে করবো এমন টা মানিয়ে নিতে পারি না।

তাই একজন কে বলেছি ❝ বিয়ে না হলেও আমরা বোনেরা বয়সে ছোট কাউকে বিয়ে করবো না ইনশাআল্লাহ, দোয়া করি রব এমন নসীবও না দিন❞

উস্তাজ আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই কথাটুকু কি কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কথা হয়েছে? বা তওবা করার মতো কোনো কথা হয়েছে?

দয়া করে বিষয় টার উত্তর দিলে মুনাসিব হতো।

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার কথাটি কুরআন ও হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:

১. বয়সে ছোট কাউকে বিয়ে না করার ব্যক্তিগত পছন্দ:

ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের বড়-ছোট কোনো বাধা নয়। বরং দ্বীনদারি, চরিত্র ও নৈতিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ:

"যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীন ও চরিত্র তোমরা পছন্দ কর, তাহলে তাকে বিবাহ করো। অন্যথায় জমিনে ফিতনা ও বড় ধরণের অশান্তি ছড়িয়ে পড়বে।" (তিরমিজি: ১০৮৪, ইবনে মাজাহ: ১৯৬৭)

আপনার পছন্দ যে বয়সে বড় বা সমবয়সী কাউকে বিয়ে করা, এটি আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা। ইসলামে এটিকে নিষেধ করা হয়নি, বরং এটি জায়েজ। তবে কাউকে বয়সের কারণে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বা ঘৃণা করা নাজায়েজ হতে পারে। আপনি তো শুধু নিজের জন্য পছন্দের কথা বলেছেন, অন্যদের জন্য নয়, তাই এটি দোষণীয় নয়।

২. "বিয়ে না হলেও বয়সে ছোট কাউকে বিয়ে করবো না" বলায় দোষ নেই:

এটি আপনার ইচ্ছা ও দৃঢ় সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ। ইসলামে নিজের জন্য ভালো জিনিস কামনা করা এবং খারাপ জিনিস থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা পোষণ করা বৈধ। তবে আল্লাহর ফায়সালার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা বা অতিরিক্ত জোর দেয়া ঠিক নয়। আপনি যেহেতু বলেছেন "ইনশাআল্লাহ", যা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল, তাই এটি উত্তম। আর "দোয়া করি রব এমন নসীবও না দিন" বলাটাও জায়েজ, কারণ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ভালো চাওয়া মুস্তাহাব।

৩. তওবা করার প্রয়োজন আছে কি?

আপনার কথায় কুরআন বা হাদিসের স্পষ্ট বিরোধিতা নেই, বরং এটি ব্যক্তিগত পছন্দ। তাই এজন্য তওবা করতে হবে না। তবে ভালো কাজ হলো, আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেন তিনি আপনার জন্য উত্তম পছন্দ করেন। আপনি যদি এতে কোনো অহংকার বা অন্যায় উদ্দেশ্য না রেখে থাকেন, তাহলে এতে কোনো গুনাহ নেই।

৪. কুরআনের সাথে কোনো সংঘর্ষ আছে কি?

না, কুরআনে বয়সভিত্তিক বিয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়নি বরং উৎসাহিত করা হয়েছে:

"আর তোমরা তোমাদের মধ্যে অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মপরায়ণ দাস-দাসীদের বিবাহ সম্পাদন করো।" (সূরা নূর: ৩২)

আপনার ইচ্ছা কুরআনের কোনো আয়াতের বিপরীত নয়।

উপসংহার:

আপনার কথাটি কুরআন বা হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, এবং এজন্য তওবার প্রয়োজন নেই। তবে মনে রাখবেন, ইসলাম বিবাহের ক্ষেত্রে বয়স নয় বরং দ্বীনদারি ও চরিত্রকে গুরুত্ব দেয়। আপনি নিজের পছন্দে যদি বয়সের কথা ভেবে থাকেন, তবে তা ব্যক্তিগত ইচ্ছা, যা জায়েজ। তবে অন্য কারো জন্য এই পছন্দ চাপিয়ে দেয়া বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করাই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের জন্য উত্তম জীবনসঙ্গী দান করুন। আমীন।

রেফারেন্স:

  • কুরআন: সূরা নূর (২৪:৩২)
  • হাদিস: তিরমিজি (১০৮৪), ইবনে মাজাহ (১৯৬৭)
  • ফাতাওয়া: ফাতাওয়া উসমানী (২/৩৪৫), রদ্দুল মুহতার (৩/৩৪), ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২৭৮)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.