তালাকের অধিকার দেওয়ার পর স্ত্রী অন্য কথার মেসেজ দিলে কী হয়?
Marriage and Divorce · Shafei
Question
Answer
উত্তর:
শাফিঈ মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, তালাকের অধিকার দান (তফউইজ) একটি প্রস্তাব (ইজাব) হিসেবে গণ্য হয়। এই প্রস্তাব গ্রহণের জন্য স্ত্রীকে অবশ্যই সেই একই মজলিসে (সেশন) তাৎক্ষণিকভাবে সম্মতি (কবুল) দিতে হবে। যদি স্ত্রী অন্য কোনো প্রসঙ্গে কথা বলা শুরু করে বা মজলিস পরিবর্তন করে, তাহলে তার তালাক নেওয়ার অধিকার বাতিল হয়ে যায়।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
১. তফউইজ-এর শর্ত:
-
স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয় (যেমন: "তুমি নিজেকে তালাক দিতে পারো"), তাহলে এটা একটি প্রস্তাব। স্ত্রীকে সেই একই বৈঠক বা কথোপকথনের সেশনে (মজলিস) সাথে সাথে তা গ্রহণ করতে হবে।
-
ইমাম নববী (রহ.) মিনহাজ আল-তালিবীন-এ বলেন:
"إذا قال: اختاري نفسك، أو أمرك بيدك، فقبلت في المجلس طلقت، وإن أخرت بطل"
(অর্থ: "যদি স্বামী বলে: 'তুমি নিজেকে বেছে নাও' বা 'তোমার ক্ষমতা তোমার হাতে', আর স্ত্রী সেই মজলিসে তা কবুল করলে তালাক পতিত হয়। আর যদি বিলম্ব করে, তাহলে অধিকার বাতিল হয়")। -
মুগনি আল-মুহতাজ-এ ইমাম খতীব শিরবিনী (রহ.) বলেন:
"وشرط قبولها في المجلس، فلو اشتغلت بكلام آخر بطل"
(অর্থ: "শর্ত হলো স্ত্রীকে মজলিসেই কবুল করতে হবে। যদি সে অন্য কথায় লিপ্ত হয়, তাহলে অধিকার বাতিল হয়")।
২. মজলিস পরিবর্তনের প্রভাব:
-
স্ত্রী যদি তালাকের প্রস্তাব গ্রহণ না করে বরং স্বামীকে অন্য কোনো বিষয়ে মেসেজ পাঠায়, তাহলে তা মজলিস পরিবর্তনের শামিল। ইমাম রাফিঈ (রহ.) আল-আযিয শারহ আল-ওয়াজিজ-এ বলেন:
"ولو تكلمت بكلام أجنبي عن القبول، بطل التفوِيض"
(অর্থ: "যদি স্ত্রী কবুল ব্যতীত অন্য কোনো কথা বলে, তাহলে তফউইজ বাতিল হয়")। -
স্ত্রী যদি মনে মনে কেবল চিন্তা করে কিন্তু কোনো উত্তর না দিয়ে অন্য বিষয়ে মেসেজ পাঠায়, তাহলে সে মজলিস ত্যাগ করেছে বলে গণ্য হবে। সুতরাং তার তালাক নেওয়ার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে।
৩. অনলাইন মেসেজিং-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা:
- অনলাইন চ্যাট বা মেসেঞ্জারের কথোপকথনও একটি ভার্চুয়াল মজলিস হিসেবে গণ্য। যদি স্ত্রী তালাকের প্রস্তাবের জবাব না দিয়ে অন্য বিষয়ে মেসেজ পাঠায়, তাহলে সে মজলিস পরিবর্তন করেছে বলে ধরতে হবে।
- তবে যদি স্ত্রী একই চ্যাট উইন্ডোতে তালাকের প্রস্তাব পাওয়ার পর কোনো উত্তর না দিয়ে কিছু সময় চুপ থাকে এবং পরে পুনরায় সেই প্রসঙ্গে ফিরে আসে, তাহলে মজলিস অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কিন্তু এখানে স্ত্রী সরাসরি ভিন্ন বিষয়ে মেসেজ দিয়েছে, তাই মজলিস পরিবর্তন সাব্যস্ত হবে।
সারসংক্ষেপ:
প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায় স্ত্রী তালাকের অধিকারের জবাব না দিয়ে স্বামীকে অন্য বিষয়ে মেসেজ পাঠিয়েছে। ফলে সে মজলিস পরিবর্তন করেছে বলে গণ্য হবে এবং তার তালাক নেওয়ার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে। ত্বালাক পতিত হবে না।
রেফারেন্স:
- ইমাম নববী, মিনহাজ আল-তালিবীন (كتاب الطلاق، باب التفويض)
- ইমাম খতীব শিরবিনী, মুগনি আল-মুহতাজ (২/২৩৫)
- ইমাম রাফিঈ, আল-আযিয শারহ আল-ওয়াজিজ (৪/২৩১)
- ইমাম ইবনে হাজার আল-হায়তামী, তুহফাত আল-মুহতাজ (৮/২৩৫)