ফরজ গোসলের পর হাতে রং লাগলে কী করবেন, নামাজের সময় কম থাকলে তায়াম্মুম করা জরুরি কিনা

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2799
Questioner: Guraba
Question Asked: 17 Jul 2026, 11:56 AM
Reviewed & Published: 17 Jul 2026, 12:36 PM
Views: 90
Tokens: 3,447
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

⚫️ফরজ গোসল শেষে দেখি হাতে এক্রেলিক রং লেগে ছিলো, এখন কি আমাকে আবার ফরজ গোসল করতে হবে? ওজুর ক্ষেত্রেও কি একই উত্তর?
⚫️ নামাজের ওয়াক্ত আর 15 মিনিট আছে বা এতটুকু সময় বাকি আছে যে ফরজ গোসল করে নামাজের আর সময় পাবো না, এমন অবস্থাতে কি ফরজ গোসল করবো নাকি ছেড়ে দেবো?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথম প্রশ্ন:
ফরজ গোসল বা ওজু করার পর যদি দেখা যায় যে, শরীরের কোনো অংশে এক্রেলিক রঙ (যা পানির পৌঁছাতে বাধা দেয়) লেগে ছিল, তাহলে সেই স্থানটি পানি দ্বারা পূর্ণরূপে ভেজা হয়নি বলে গোসল বা ওজু শুদ্ধ হবে না। কারণ পবিত্রতা অর্জনের শর্ত হলো পানি শরীরের প্রতিটি অঙ্গে পৌঁছানো, যা কোনো প্রতিবন্ধক (যেমন রঙ, নেইলপলিশ, আঠা ইত্যাদি) দূর করতে হবে।

  • হানাফি ফিকহের কিতাবাদি:
    • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): “যদি শরীরে এমন কোনো জিনিস থাকে যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে গোসল বা ওজু সহীহ হবে না।” (রদ্দুল মুহতার, ১/২৬৪)
    • ফাতাওয়া উসমানী: “এক্রেলিক রঙ বা কোনো প্রকারের প্রলেপ থাকলে তা সরিয়ে পানি পৌঁছানো আবশ্যক; অন্যথায় পবিত্রতা অর্জিত হবে না।” (ফাতাওয়া উসমানী, ২/১১১)
    • ইমদাদুল ফাতাওয়া: “শরীরের কোনো অংশে যদি এমন বস্তু থাকে যা পানি প্রবেশে বাধা দেয়, তবে তা অপসারণ করে গোসল বা ওজু করতে হবে।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৮২)

সুতরাং, প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় আপনাকে আবার ফরজ গোসল করতে হবে। একই বিধান ওজুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, অর্থাৎ ওজুর সময় যদি এমন প্রতিবন্ধক থাকে, তাহলেও পুনরায় ওজু করতে হবে। তবে শুধু রঙের দাগ (যা কোনো প্রলেপ সৃষ্টি করে না) থাকলে তা ক্ষতিকর নয়, কারণ পানি চামড়ায় পৌঁছেছে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন:
যদি নামাজের সময় মাত্র ১৫ মিনিট বাকি থাকে এবং ফরজ গোসল করলে নামাজের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ফরজ গোসল না করে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়া জরুরি

  • হানাফি ফিকহের কিতাবাদি:
    • কুরআন: “যদি তোমরা পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো।” (সূরা মায়েদা, ৫:৬)
    • হাদিস: “পৃথিবী আমার জন্য মাসজিদ ও পবিত্রতাকারী বানানো হয়েছে; যখন পানি না পাও, তখন মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো।” (সহিহ বুখারি, ৩৩৫)
    • রদ্দুল মুহতার: “যদি পানি ব্যবহারে নামাজের সময় চলে যাওয়ার ভয় হয়, তবে তায়াম্মুম জায়েজ এবং নামাজ আদায় করা ফরজ।” (রদ্দুল মুহতার, ১/৪৫৫)
    • ফাতাওয়া আলমগিরি: “পানি উপস্থিত থাকলেও যদি তা ব্যবহারে নামাজের শেষ সময় চলে যায়, তবে তায়াম্মুম জায়েজ।” (ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/২৪)

অর্থাৎ, ১৫ মিনিটের মধ্যে ফরজ গোসল সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে, তায়াম্মুম করে নামাজ পড়বেন। পরে যখন পর্যাপ্ত সময় পাবেন, তখন ফরজ গোসল করবেন এবং পরবর্তী নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন করবেন।

সারসংক্ষেপ:
১. এক্রেলিক রঙ যদি পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তবে গোসল ও ওজু পুনরায় করতে হবে।
২. নামাজের সময় সীমিত থাকলে ফরজ গোসলের বিকল্প হিসেবে তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করা ফরজ।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.