অমুসলিমদের ধর্মীয় মেলা থেকে কেনাকাটা করার বিধান।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২।কেউ যদি জানতে চায় কইথেকে কিনছোস ধর্মীয় উৎসবের নাম বললে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
Answer
প্রশ্ন:
১. অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে মেলা বসলে সেখান থেকে কিছু কিনলে কি গুনাহ হবে? এতে কি ঈমানের সমস্যা হবে?
২. কেউ যদি জানতে চায় কোথেকে কিনছো, তখন ধর্মীয় উৎসবের নাম বললে কি গুনাহ বা ঈমানের সমস্যা হবে?
উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين
প্রথম অংশ: অমুসলিমদের বিশেষ ধর্মীয় উৎসব (যেমন: ক্রিসমাস, দীপাবলি, পূজা ইত্যাদি) উপলক্ষে যে মেলা বসানো হয়, সেখানে গিয়ে কেনাকাটা করা নাজায়েজ ও গুনাহের কাজ। কারণ এতে ঐ উৎসবকে সমর্থন ও উৎসাহিত করা হয়, যা ইসলামী العقيدة (আকীদা) ও তাওহীদের পরিপন্থী।
হানাফী ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
قال الإمام أبو حنيفة: لا يحل لمسلم أن يبيع شيئاً من أعيادهم ولا أن يشتري منهم شيئاً فيه صلاح العيد، لأنه إعانة على الكفر.
ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বলেন: কোনো মুসলিমের জন্য জায়েয নেই যে, সে (অমুসলিমদের) উৎসবের সাথে সম্পর্কিত কোনো জিনিস তাদের কাছে বিক্রয় করবে অথবা তাদের কাছ থেকে এমন কিছু ক্রয় করবে যা উৎসবের জন্য সহায়ক; কারণ তা কুফরীতে সহযোগিতা করার শামিল।
সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৫/২৮৩; ফাতাওয়া আলমগীরী, ৫/৩৪৩
অর্থাৎ, শুধু ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং উৎসবের অনুষঙ্গী যেকোনো লেনদেন, উপস্থিতি বা অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ। হাদীসে এসেছে—
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من تشبه بقوم فهو منهم»
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।
সুনানে আবী দাউদ, হাদীস: ৪০৩১; সনদ সহীহ
সুতরাং অমুসলিমদের ধর্মীয় মেলা থেকে কেনাকাটা করা গুনাহের কাজ এবং তা ঈমানের জন্য সরাসরি বিপদজনক। তবে এতে ঈমান চলে যায় না, যদি কেউ তা জায়েয মনে না করে। কিন্তু এটি কবীরা গুনাহ, তাই তওবা করা আবশ্যক।
দ্বিতীয় অংশ: কেউ যদি জিজ্ঞেস করে “কোথেকে কিনেছো?” তখন ঐ উৎসবের নাম বলার ব্যাপারে বিধান হলো—
- যদি উদ্দেশ্য শুধু তথ্য প্রদান (যেমন: “ক্রিসমাস মেলা থেকে কিনেছি”) এবং তা বলা দ্বারা উক্ত উৎসবের প্রতি অনুমোদন বা সম্মতি প্রকাশ না হয়, তাহলে সেটি অপছন্দনীয় (মাকরূহ) হবে। তবে বিশেষ প্রয়োজন বা পরিস্থিতি থাকলে তা বলা যেতে পারে, কিন্তু তা এড়িয়ে চলাই উত্তম।
- যদি উৎসবের নাম বলার মাধ্যমে সেই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ, সমর্থন বা ভালোবাসা প্রকাশ পায়, তাহলে তা হারাম ও ঈমানের জন্য ক্ষতিকর। কারণ এতে অন্য ধর্মের উৎসবকে সম্মান করা ও তা স্বীকার করে নেওয়ার শামিল। মুসলিমের উচিত অমুসলিমদের ধর্মীয় চিহ্ন ও নামগুলোকে হালকা না করা এবং এমন বাক্য ব্যবহার না করা যা ইসলামী আকীদার পরিপন্থী।
قال في البحر الرائق: يكره حضور أعيادهم وإن لم يقصد تعظيمهم، لأن فيه تشبهاً بهم.
বাহরুর রায়েক গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাদের উৎসবে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ, যদিও তাদের সম্মানের উদ্দেশ্য না থাকে, কারণ এতে তাদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
আল-বাহরুর রায়েক, ৯/৪৪১
অতএব, উৎসবের নাম বলার চেয়ে সাধারণভাবে বলা ভালো: “একটি মেলা থেকে কিনেছি” বা “বাজার থেকে কিনেছি”। যদি কেউ বিশেষ কারণে নাম বলতে বাধ্য হয়, তবে অন্তরে যেন কোনো অনুমোদন না থাকে এবং শুধু তথ্য প্রদানের নিয়ত হয়।
সারসংক্ষেপ:
১. অমুসলিমদের ধর্মীয় মেলা থেকে কেনাকাটা করা গুনাহ ও নাজায়েজ। এতে ঈমান নষ্ট না হলেও কবীরা গুনাহ।
২. উৎসবের নাম বলা সাধারণত মাকরূহ। যদি তা অনুমোদনের অর্থে হয় তবে হারাম ও ঈমানের জন্য বিপজ্জনক।
৩. এই ধরনের পরিস্থিতিতে তওবা করা ও ভবিষ্যতে এড়িয়ে চলা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন।
গ্রন্থপঞ্জি:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) – ৫/২৮৩
- ফাতাওয়া আলমগীরী – ৫/৩৪৩
- বাহরুর রায়েক – ৯/৪৪১
- সুনানে আবী দাউদ – হাদীস ৪০৩১
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী) – ৪/২৬২
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী) – ৮/৫৮২
والله أعلم بالصواب