ওষুধের জন্য হায়েজ দীর্ঘ হলে কি করণীয়?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
১। আমি কি আমার এতোদিনের অভ্যাস অনুযায়ী ৭দিন ধরেই ৮ম দিন থেকে নামাজ ইবাদাত শুরু করবো নাকি হায়েজ ঠিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবো?
২। আর যদি ইবাদাত করতে পারি তাহলে এসময় কি স্বামী সহবাস করা যাবে?
৩। যদি নামাজ পড়া যায় তাহলে হায়েজের রক্ত যদি কাপড়ে লেগে যায় তাহলে সে কাপড়ে কি নামাজ হবে?
Answer
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারীর হায়েজের অভ্যাসগত সময় ৭ দিন ছিল। বর্তমানে স্ত্রীরোগসংক্রান্ত ওষুধ সেবনের কারণে হায়েজ ৯ দিনের বেশি হয়ে গেছে এবং এখনো চলছে। ডাক্তারের মতে, এই দীর্ঘতা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তিনি জানতে চান:
- অভ্যাস অনুযায়ী ৭ দিন পর (৮ম দিন থেকে) নামাজ শুরু করবেন নাকি হায়েজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন?
- যদি ইবাদাত করতে পারেন, তাহলে কি স্বামী সহবাস জায়েজ হবে?
- হায়েজের রক্ত কাপড়ে লাগলে সেই কাপড়ে নামাজ শুদ্ধ হবে কি না?
উত্তর
প্রথম প্রশ্ন: নামাজ শুরু করার সময়
হানাফি মাযহাবের মূলনীতি:
- হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন, সর্বোচ্চ ১০ দিন। (সহিহ বুখারি, কিতাবুল হায়েজ; আল-হিদায়া)
- কোনো নারীর হায়েজের স্থির অভ্যাস থাকলেও, যদি কোনো মাসে রক্ত ১০ দিনের মধ্যে কম-বেশি হয়, তাহলে সেই পুরো সময়টাই হায়েজ গণ্য হবে। অভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে বলে ধরা হবে। (রদ্দুল মুহতার ১/২৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৬)
- রক্ত ১০ দিনের বেশি হলে শুধু অভ্যাসগত দিনগুলো হায়েজ এবং বাকি দিনগুলো ইস্তেহাজা। (শরহু মাআনিল আসার ১/২৯৮)
প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:
- বর্তমান মাসে রক্ত এখনো ১০ দিন অতিক্রম করেনি (৯ দিনের বেশি চলছে)। তাই এই পুরো সময়টাই হায়েজ গণ্য হবে।
- অভ্যাসগত ৭ দিন ধরে ৮ম দিন থেকে নামাজ শুরু করা জায়েজ নয়। বরং, রক্ত সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নামাজ, রোজা ও সহবাস সবই হারাম।
- যদি ১০ দিন পূর্ণ হয় এবং রক্ত বন্ধ না হয়, তাহলে ১০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর থেকে ইস্তেহাজা শুরু হবে। তখন অভ্যাসগত ৭ দিন হায়েজ গণ্য করে ৮ম দিন থেকে নামাজ পড়বেন। বাকি দিনগুলোর নামাজ কাজা করতে হবে।
উপসংহার: এখনই নামাজ শুরু করবেন না। রক্ত বন্ধ হওয়া বা ১০ দিন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
দ্বিতীয় প্রশ্ন: স্বামী সহবাস
হায়েজ অবস্থায় সহবাস করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। (সূরা বাকারা: ২২২; সহিহ মুসলিম, কিতাবুল হায়েজ)
- যতক্ষণ রক্ত চলবে অথবা ১০ দিন পূর্ণ হয়ে ইস্তেহাজা শুরু না হবে, ততক্ষণ সহবাস জায়েজ নয়।
- যখন রক্ত বন্ধ হবে বা ইস্তেহাজা শুরু হবে, তখন গোসল করার পরই সহবাস বৈধ হবে।
তৃতীয় প্রশ্ন: রক্ত লাগা কাপড়ে নামাজ
হায়েজের রক্ত নাপাক। নামাজের জন্য কাপড় পবিত্র হওয়া শর্ত। (কিতাবুল আসার, ইমাম আবু ইউসুফ)
- রক্তের পরিমাণ:
- যদি রক্ত এক দিরহাম (প্রায় ২.৫ বর্গসেন্টিমিটার বা ১ টাকার আকার) থেকে বেশি হয়, তাহলে সেই কাপড়ে নামাজ শুদ্ধ হবে না। রক্ত ধুয়ে বা অন্য পবিত্র কাপড়ে নামাজ পড়তে হবে।
- যদি রক্ত এক দিরহামের চেয়ে কম হয়, তাহলে মাকরুহ তানজিহি হলেও নামাজ শুদ্ধ হবে। তবে উত্তম হলো ধুয়ে ফেলা। (রদ্দুল মুহতার ১/৩৩২; ফাতাওয়া শামী)
- উপদেশ: নামাজের আগে কাপড়ের রক্ত ভালোভাবে ধুয়ে নিন বা অন্য পবিত্র কাপড় ব্যবহার করুন।
সারসংক্ষেপ
| প্রশ্ন | উত্তর |
|--------|-------|
| ১. নামাজ কখন শুরু করবেন? | রক্ত বন্ধ হলে বা ১০ দিন পূর্ণ হলে। এখন নয়। |
| ২. স্বামী সহবাস জায়েজ? | না, হায়েজ চলাকালীন হারাম। রক্ত বন্ধের পর গোসল করেই সহবাস করুন। |
| ৩. রক্ত লাগা কাপড়ে নামাজ? | রক্ত এক দিরহামের বেশি হলে নয়; কম হলে মাকরুহ হলেও শুদ্ধ। তবে ধুয়ে নেওয়া উত্তম। |
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি
- আল-হিদায়া (১/২১-২৩)
- রদ্দুল মুহতার (১/২৮৪-২৮৭, ১/৩৩২)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৬-৩৮)
- শরহু মাআনিল আসার (১/২৯৮)
- বাদায়িউস সানায়ি (১/৪২)
আল্লাহর নিকট দোয়া করি, তিনি আপনাকে সহজ পথ দেখান এবং ইবাদতের তওফিক দান করুন।