লেবার এর সময় কি নামাজ পড়া যাবে?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 2770
Questioner: Musafir
Question Asked: 16 Jul 2026, 02:34 PM
Reviewed & Published: 16 Jul 2026, 02:41 PM
Views: 34
Tokens: 3,322
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এক্টিভ লেবারের সময় কি নামাজ পড়া যাবে?

Answer

উত্তর:
হ্যাঁ, এক্টিভ লেবার বা প্রসব ব্যথার সময় নামাজ পড়া যাবে। বরং নামাজ পড়া আবশ্যক (ওয়াজিব)। প্রসব ব্যথা নামাজ ছাড়ার কোনো বৈধ অজুহাত নয়। তবে শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নামাজের পদ্ধতি পরিবর্তন হবে।

বিস্তারিত解説 (হানাফী মাযহাব অনুসারে):

১. নামাজের বাধ্যবাধকতা:

  • কোনো নারী যখন প্রসব ব্যথায় আক্রান্ত হন এবং তিনি সচেতন থাকেন, তখন তাঁর ওপর নামাজ ফরজ থাকে। একে ‘এক্টিভ লেবার’ বলা হলেও নামাজ মাফ হয় না।
  • যদি তিনি দাঁড়াতে না পারেন, তবে বসে নামাজ পড়বেন। বসতেও অক্ষম হলে কাত হয়ে শুয়ে ইশারা দিয়ে নামাজ পড়বেন। (সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, জি. ২, পৃষ্ঠা ২৮০; বাহিশ্তী জেওর, হায়দ ও নিফাস অধ্যায়)

২. পবিত্রতার অবস্থা:

  • প্রসবের সময় যে রক্তপাত হয়, তা প্রকৃতপক্ষে ‘নিফাস’ (প্রসবোত্তর রক্ত) নয়, বরং প্রসবপূর্ব রক্ত (‘ইস্তিহাজা’ বা অস্বাভাবিক রক্ত) বলে গণ্য হয়, যতক্ষণ না সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কেননা নিফাস শুরু হয় সন্তান প্রসবের পর।
  • ইস্তিহাজার ক্ষেত্রে হানাফী মতে, নারী পবিত্র অবস্থায় নামাজ পড়বেন। যদি রক্ত অবিরত আসে, তবে তিনি ‘মা’যূর’ (অপারগ) হিসেবে গণ্য হবেন। তখন প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য নতুন করে অজু করবেন এবং অজু অবস্থায় ঐ ওয়াক্তের ফরজ ও সুন্নত নামাজ আদায় করবেন। শরীর বা কাপড়ে রক্ত লাগলেও তা মাফ হবে, যদি পরিমাণ এক দিরহাম (প্রায় ৩-৪ সেমি) এর বেশি না হয়। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তাহারাত, বাবুল হায়দ; ইমদাদুল ফাতাওয়া, জি. ১, পৃষ্ঠা ২৮২)

৩. অসহ্য ব্যথা ও অজ্ঞান হওয়া:

  • যদি ব্যথার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞান হয়ে যান, তবে ঐ সময়ের নামাজ পরে কাজা করবেন। কিন্তু সচেতন থাকলে কোনোভাবেই নামাজ ছাড়বেন না। (সূত্র: আল-হিদায়া, কিতাবুস সালাত; ফাতাওয়া আলমগীরী, জি. ১, পৃষ্ঠা ১২৫)

৪. উপসংহার:

  • সন্তান প্রসবের পূর্ব পর্যন্ত (এক্টিভ লেবারসহ) যেকোনো অবস্থায় নামাজ পড়তে হবে।
  • দাঁড়াতে না পারলে বসে, বসতে না পারলে ইশারায় পড়বেন।
  • রক্তপাত অবিরত হলে মা’যূরের হুকুম প্রযোজ্য হবে এবং প্রত্যেক ওয়াক্তের শুরুতে অজু করে নামাজ আদায় করবেন।

কিতাবের রেফারেন্স:

  • বাহিশ্তী জেওর (হায়দ ও নিফাস অধ্যায়, প্রসবকালীন নামাজের বিধান)
  • রদ্দুল মুহতার (১/৪৬৫-৪৬৭, ইস্তিহাজা ও মা’যূরের হুকুম)
  • ফাতাওয়া উসমানী (জি. ২, পৃষ্ঠা ২৭৮-২৮০)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (জি. ১, পৃষ্ঠা ২৮২-২৮৪)
  • আল-হিদায়া (কিতাবুস সালাত, মারজের নামাজ)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (জি. ১, পৃষ্ঠা ১২৪-১২৬)

শেষ কথা:
প্রসব ব্যথা কষ্টকর হলেও এটি নামাজ ত্যাগের বৈধ কারণ নয়। বরং ইসলাম নারীকে সর্বাবস্থায় নামাজের ব্যবস্থা দিয়েছে। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করা ফরজ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.