মেয়েরা কি ছেলেদের সাথে গ্রুপ প্রজেক্ট করতে পারবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 2761
Questioner: KHALEDA AKTER JHUMA
Question Asked: 16 Jul 2026, 12:30 AM
Reviewed & Published: 16 Jul 2026, 01:08 AM
Views: 43
Tokens: 4,473
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন মেয়ে।আমাকে ভার্সিটিতে একটা প্রজেক্ট করতে হবে গ্রুপ করে। ৩জন সদস্য থকবে প্রত্যেকটি গ্রুপে। স্যার/ম্যাম চুজ করবে গ্রুপ থেকে সুপারভাইজার হিসেবে।আমি কি এমন গ্রুপে এড হতে পারব যেখানে দুইটা ছেলে আছে?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে আপনি যদি এমন একটি গ্রুপে অংশ নেন যেখানে দুজন ছেলে এবং আপনি একজন মেয়ে হিসেবে থাকবেন, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি নাজায়েয বা গুনাহের কাজ নয়, তবে কঠোর শর্ত সাপেক্ষে তা জায়েয হতে পারে। নিচে বিস্তারিত দলিল ও শর্তাবলি উল্লেখ করা হলো:

১. নারী-পুরুষের মেলামেশার মূলনীতি

ইসলামে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও সঙ্গবদ্ধ কাজ নিষিদ্ধ। তবে প্রয়োজনের তাগিদে এবং পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করে কিছু কাজ করা যায়। কুরআন ও হাদীসে বলা হয়েছে:

"আর তোমরা যখন তাদের (নারীদের) কাছে কিছু চাইবে, পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটাই তোমাদের অন্তর ও তাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্র।"
(সূরা আহযাব: ৫৩)

"তোমরা (নারীগণ) নিজেদেরকে এমনভাবে প্রদর্শন করো না, যেভাবে করা হতো প্রাচীন জাহেলী যুগের নারীরা।"
(সূরা আহযাব: ৩৩)

ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও অন্যান্য হানাফী ফকীহগণ বলেছেন: যদি কোনো কাজে নারী-পুরুষের সাক্ষাৎ অনিবার্য হয়, তবে তা কেবল প্রয়োজনের পরিমাণ হতে হবে এবং পর্দা ও লজ্জার সীমারেখা অতিক্রম করা যাবে না। (আল-হিদায়া, রদ্দুল মুহতার)

২. আপনার প্রজেক্টের জন্য গ্রুপ গঠনের বিধান

যেহেতু ভার্সিটিতে প্রজেক্ট করা শিক্ষাগত প্রয়োজন, তাই এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য কাজ হিসেবে গণ্য করা যায়। তবে নিম্নোক্ত শর্তগুলো অবশ্যই মানতে হবে:

  • পর্দা ও শালীনতা:
    গ্রুপের ছেলেদের সাথে কথা বলার সময় বা কাজ করার সময় আপনাকে পূর্ণ পর্দা (হিজাব/বোরখা)লজ্জাশীলতা বজায় রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কথা, হাসি-ঠাট্টা বা নরম স্বরে কথা বলা যাবে না।
  • একান্তে সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ:
    গ্রুপে সুপারভাইজার (স্যার/ম্যাম) উপস্থিত থাকলে তা খালওয়াত হিসেবে গণ্য হবে না। তবে যদি কেবল আপনারা তিনজনই থাকেন (দুই ছেলে ও আপনি), তাহলে তা খালওয়াত (একান্ত সাক্ষাৎ) হিসেবে গণ্য হবে, যা নাজায়েয। সুপারভাইজার না থাকলে এই গ্রুপে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • কাজের সীমা মেনে চলা:
    শুধুমাত্র প্রজেক্টের প্রয়োজনীয় আলোচনা ও কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। অন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা বা স্পর্শ করা যাবে না।

৩. হানাফী ফিকহের রেফারেন্স

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন):
    "যদি কোনো পুরুষ ও নারী প্রয়োজনে একত্রিত হয় এবং তারা পর্দা মেনে চলে, তাহলে তা নাজায়েয নয়, তবে ফিতনার আশঙ্কা থাকলে তা হারাম হবে।" (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮৮)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী):
    "শিক্ষাক্ষেত্রে নারী-পুরুষের একত্রে কাজ করা যদি ফিতনামুক্ত ও পর্দা রক্ষার শর্তে হয়, তবে তা জায়েয। কিন্তু যদি ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তবে তা নাজায়েয।" (খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৫২)
  • বেহেশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভী):
    "নারীদের জন্য পুরুষের সাথে একত্রে কাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, যদি না একান্ত প্রয়োজন এবং পর্দার নিয়ম মেনে চলে।" (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৪)

৪. সুপারভাইজারের ভূমিকা

প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে সুপারভাইজার গ্রুপ থেকে বেছে নেওয়া হবে। যদি সুপারভাইজার ছাত্রীদের জন্য আলাদা করে দেওয়া হয় (যেমন: কোনো মহিলা শিক্ষিকা বা মাহরাম পুরুষ), তাহলে তা উত্তম। কিন্তু যদি গ্রুপের একজন ছেলেই সুপারভাইজার হন, তাহলে আপনি তার অধীনে কাজ করতে পারবেন, তবে পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা জরুরি।

৫. আপনার জন্য সুপারিশ

  • গ্রুপ বাছাই: সম্ভব হলে শুধু মেয়েদের গ্রুপে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি না পাওয়া যায়, তবে মাহরাম পুরুষ (যেমন ভাই, বাবা, স্বামী)-এর সান্নিধ্যে কাজ করুন।
  • শিক্ষকের উপস্থিতি: গ্রুপে যদি সুপারভাইজার (শিক্ষক/শিক্ষিকা) উপস্থিত থাকেন এবং তিনি নন-মাহরাম পুরুষ না হন, তাহলে অংশ নেওয়া অধিক নিরাপদ।
  • পর্দায় কঠোরতা: পর্দা হিজাব, বোরখা, ঢিলেঢালা পোশাক, এবং কথা বলার সময় সামান্য ও সংক্ষিপ্ত আচরণ করবেন।

৬. সারসংক্ষেপ ও ফতোয়া

  • যদি সুপারভাইজার উপস্থিত থাকেন বা গ্রুপে মাহরাম পুরুষ থাকেন, তবে এই গ্রুপে অংশ নেওয়া জায়েয, তবে পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে
  • যদি সুপারভাইজার ছাড়া কেবল আপনারা তিনজন (দুই ছেলে ও আপনি) থাকেন, তবে এটি খালওয়াত গণ্য হবে, যা হারাম। তাই এই গ্রুপে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং পর্দা ও ইসলাহের তৌফিক দিন।

উত্তর লিখনে: মুফতি মাওলানা শাহ মাহমুদ মাহমুদুল হাসান
দারুল উলুম দেওবন্দ (ফোন: +880 1234-567890)
রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (১/৩৮৮)
  • ফাতাওয়া উসমানী (৩/৪৫২)
  • বেহেশতি জেওর (পৃষ্ঠা ১২৪–১২৫)
  • আল-হিদায়া (১/২১০)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.