ব্রেসট ফিডিং মায়েদের মনি নির্গত না হওয়া,গোসল ফরজ হওয়া
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার বর্ণিত অবস্থায় স্বামী স্ত্রীর লজ্জাস্থানের উপর হাত রেখে ঘর্ষণ করলেও যদি কোনো বীর্যপাত (মানি ) না হয় এবং যৌনাঙ্গ প্রবেশ করানো না হয়, তাহলে গোসল ফরজ হবে না। উত্তেজনা কমে যাওয়াকে বীর্যপাতের নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয় না; বরং বীর্যপাতের সুস্পষ্ট প্রমাণ (নির্গত তরল, বেগ সহকারে বের হওয়া, নির্দিষ্ট গন্ধ ইত্যাদি) ছাড়া গোসল ওয়াজিব হয় না।
দলিল ও ফিকহী নীতি:
কুরআন:
﴿وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا﴾ (সূরা মায়িদা: ৬)
"আর যদি তোমরা নাপাক (জুনুব) হও তবে পবিত্রতা অর্জন করো।"
এখানে জুনুব বলতে বীর্যপাত বা যৌনসঙ্গমের কারণে সৃষ্ট অপবিত্রতা বোঝানো হয়েছে। বীর্যপাত ছাড়া উত্তেজনা কমলে জুনুব সাব্যস্ত হয় না।
হাদীস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ
(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৩৪৩)
"পানি (গোসল) তো পানি (বীর্যপাত) থেকেই ওয়াজিব হয়।"
অর্থাৎ বীর্যপাত না হলে গোসল ওয়াজিব নয়।
ফিকহী গ্রন্থ:
- রদ্দুল মুহতার (২/১৫৮):
"যদি কোনো ব্যক্তি উত্তেজিত হয়, অতঃপর উত্তেজনা শান্ত হয় কিন্তু বীর্যপাত না হয়, তাহলে তার উপর গোসল ওয়াজিব নয়।" - ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/১২):
"বীর্যপাতের তিনটি লক্ষণ আছে: (১) বেগ সহকারে বের হওয়া, (২) স্বাদ ও গন্ধ থাকা, (৩) বের হওয়ার পর শরীর দুর্বল লাগা। এই লক্ষণগুলোর কোনোটি না থাকলে গোসল ওয়াজিব হবে না।" - ইমদাদুল ফতওয়া (১/১২০):
"কেবল উত্তেজনা বা উত্তেজনা কমে যাওয়ার কারণে গোসল ফরজ হয় না, যতক্ষণ না বীর্যপাত নিশ্চিতভাবে জানা যায়।"
উপরোক্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত:
১. স্ত্রী বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান → এতে তার জানায়াত (মাসিক) না হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু মানি (বীর্যপাত) হতে পারে।
২. স্বামী স্ত্রীর লজ্জাস্থানের ওপরে হাত দিয়ে ঘর্ষণ করেছেন → এটি উত্তেজনা সৃষ্টির কারণ।
৩. স্ত্রীর উত্তেজনা কমে গেছে → কিন্তু কোনো তরল (মানি/মযি) বের হয়নি বলে নিশ্চিত।
৪. যৌনাঙ্গ প্রবেশ করানো হয়নি।
এ অবস্থায় গোসল ফরজ নয়। কারণ:
- উত্তেজনা কমে যাওয়া বীর্যপাতের প্রমাণ নয়। অনেক সময় বারবার ঘর্ষণে উত্তেজনা স্বাভাবিক নিয়মেই কমে যায়, কিন্তু বীর্যপাত নাও হতে পারে।
- নিশ্চিত বীর্যপাত ছাড়া গোসল ওয়াজিব হয় না (শর‘ঈ নীতি: اليقين لا يزول بالشك "নিশ্চিত জ্ঞান সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না")।
পরামর্শ:
স্ত্রী যদি নিজে নিশ্চিত না হন যে বীর্যপাত হয়েছে, তবে তার গোসল করার প্রয়োজন নেই। শুধু উক্ত স্থান ধুয়ে অজু করলেই নামায ইত্যাদি পড়া যাবে।