ব্যবহৃত পণ্য বিক্রেতার সম্মতিতে রিটার্ন করে রিফান্ড নেওয়ার শরয়ী বিধান কী?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2704
Questioner: Md. Nuhan Tahery
Question Asked: 14 Jul 2026, 01:54 PM
Reviewed & Published: 14 Jul 2026, 02:04 PM
Views: 37
Tokens: 6,456
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।

আমার একটি বিষয়ে শরয়ী দিক থেকে জানতে চাই।

আমি গতকাল দারাজ থেকে একটি মোবাইল কভার অর্ডার করি। কিন্তু আমি যে রঙটি অর্ডার করেছিলাম, সেই রঙের পরিবর্তে অন্য রঙের কভার আমাকে পাঠানো হয়েছে। তাই আমি ভুল পণ্য পাওয়ার কারণে রিফান্ড/রিটার্নের জন্য আবেদন করি।

রিফান্ড রিকোয়েস্ট করার পর আমি কভারটি কয়েক ঘণ্টা ব্যবহার করেছি। পরে আমি দারাজের কাস্টমার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং স্পষ্টভাবে জানাই যে প্রোডাক্টটি কয়েক ঘণ্টা ব্যবহার করা হয়েছে। তারা আমাকে জানায়, যদি আমার ব্যবহারের কারণে প্রোডাক্টের কোনো ক্ষতি, দাগ বা ত্রুটি সৃষ্টি না হয়ে থাকে এবং সেটি ভালো অবস্থায় থাকে, তাহলে রিটার্ন করা যাবে। অর্থাৎ বিষয়টি আমি তাদের কাছে গোপন করিনি।

এখন আমার প্রশ্ন হলো:

১. এই অবস্থায় প্রোডাক্টটি রিটার্ন করে রিফান্ড দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ হবে কি?

২. যেহেতু আমি ব্যবহার করার বিষয়টি বিক্রেতা/প্ল্যাটফর্মকে জানিয়েছি এবং তারা জেনেশুনেই রিটার্ন গ্রহণ করতে রাজি হয়েছে, তাহলে রিফান্ড গ্রহণ করা কি জায়েজ হবে?

৩. এ ক্ষেত্রে আমি কোনো গুনাহের মধ্যে পড়ব কি? অথবা আখিরাতে এ বিষয়ে কোনো শাস্তির আশঙ্কা আছে কি?

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটির পরিপ্রেক্ষিতে শরয়ী সমাধান নিম্নরূপ:

১. রিটার্ন করে রিফান্ড নেওয়া কি বৈধ?

হ্যাঁ, বৈধ। কারণ এখানে মূল সমস্যা হলো—আপনি নির্দিষ্ট রঙের কভার অর্ডার করেছিলেন, কিন্তু বিক্রেতা ভিন্ন রঙের কভার পাঠিয়েছে। ইসলামী ফিকহ অনুসারে, ক্রেতার সাথে যা চুক্তি হয়েছে, বিক্রেতা তা পূর্ণ করতে বাধ্য। ভিন্ন বস্তু সরবরাহ করলে ক্রেতার খিয়ারুল-আইব (ত্রুটির কারণে ফেরতের অধিকার) বা খিয়ারুশ-শারত (শর্তানুযায়ী ফেরতের অধিকার) সক্রিয় হয়।

আপনি পণ্যটি ব্যবহার করেছেন, তবে তা কেবল কয়েক ঘণ্টার জন্য এবং ব্যবহারের ফলে পণ্যের কোনো ক্ষতি হয়নি। ইসলামী আইনে ক্রেতা যদি কোনো পণ্য গ্রহণের পর তা ব্যবহার করে, তবে সাধারণত তা ‘গ্রহণ’ (قبض) গণ্য হয়। কিন্তু ভুল পণ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করলেও ফেরতের অধিকার নষ্ট হয় না, যতক্ষণ না পণ্যের মূল্যমান কমে যায়। তবে এখানে বিক্রেতা জানেন যে পণ্যটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং তারা জেনেশুনে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

“যদি ক্রেতা ত্রুটিযুক্ত পণ্য ব্যবহার করে, তবে তার জন্য ফেরতের অধিকার বর্তমান থাকে, তবে ব্যবহারের কারণে পণ্যের মূল্য কমে গেলে ক্রেতাকে সেই হ্রাসকৃত মূল্য পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু যদি বিক্রেতা ক্ষমা করে দেয়, তবে তা জায়েয।”
(রাদ্দুল মুহতার, ৫/২৭১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৩/৬০)

এক্ষেত্রে কাস্টমার সার্ভিস জানিয়েছে—পণ্য ভালো অবস্থায় থাকলে রিটার্ন নেওয়া হবে, এবং আপনি ব্যবহারের বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন। ফলে এটি ইক্বালা (পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তি বাতিল) বা স্বেচ্ছায় ক্ষমার আওতাভুক্ত। তাই রিফান্ড নেওয়া সম্পূর্ণ বৈধ।


২. বিক্রেতা জেনেশুনে রাজি হওয়ায় রিফান্ড নেওয়া জায়েজ কি?

হ্যাঁ, জায়েজ। যেহেতু আপনি পণ্য ব্যবহারের তথ্য বিক্রেতাকে গোপন করেননি এবং তারা সেটি জেনেও ফেরত নিতে রাজি হয়েছে, তাই এতে কোনো প্রতারণা বা ধোঁকা নেই। শরিয়তে পারস্পরিক সম্মতিতে পণ্য ফেরত নেওয়া এবং টাকা ফেরত দেওয়া ‘ইক্বালা’ নামে পরিচিত, যা বৈধ।

হাদিসে এসেছে:

مَنْ أَقَالَ مُسْلِمًا أَقَالَهُ اللَّهُ عَثْرَتَهُ
“যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের (ক্রয়-বিক্রয়) ফেরত গ্রহণ করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার পদস্খলন ক্ষমা করবেন।”
(আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

সুতরাং বিক্রেতার সন্তুষ্টির ভিত্তিতে রিফান্ড নেওয়া জায়েজ এবং প্রশংসনীয়ও বটে।


৩. গুনাহ বা আখিরাতের শাস্তির আশঙ্কা?

না, কোনো গুনাহ হচ্ছে না এবং আখিরাতে শাস্তির আশঙ্কাও নেই। কারণ:

  • আপনি নিজের দোষে পণ্যের ভিন্ন রঙ পেয়েছেন।
  • পণ্য ব্যবহারের তথ্য গোপন করেননি।
  • পণ্যটি ভালো অবস্থায় ফেরত দিচ্ছেন।
  • বিক্রেতা সম্পূর্ণ সচেতনভাবে ফেরত নিচ্ছে।

এখানে প্রতারণা (গিশ), ধোঁকা (তাদলিস), বা হারাম উপার্জনের কোনো উপাদান নেই। বরং আপনি সততার সাথে বিষয়টি জানিয়েছেন, যা প্রশংসনীয়।

তবে শর্ত: পণ্যটি সত্যিই কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যবহারের কারণে দাগযুক্ত না হয়। যদি ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে তা ক্ষতিপূরণ বা মূল্য হ্রাস বিবেচনা করা আবশ্যক। কিন্তু আপনি ভালো অবস্থায় ফেরত দিচ্ছেন এবং বিক্রেতা তাতেই রাজি—তাই কোনো সমস্যা নেই।


সারসংক্ষেপ

| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|--------| | ১. রিটার্ন ও রিফান্ড বৈধ? | হ্যাঁ, ভুল পণ্যের কারণে এবং বিক্রেতার সম্মতিতে। | | ২. ব্যবহার জানিয়েছে বলে রিফান্ড জায়েজ? | হ্যাঁ, জেনেশুনে রাজি হওয়ায় ইক্বালা বৈধ। | | ৩. গুনাহ বা শাস্তির আশঙ্কা? | না, কোনো গুনাহ নেই; বরং সততার জন্য পুরস্কার। |

উপদেশ: ভবিষ্যতে কোনো পণ্য রিটার্ন করতে চাইলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিক্রেতাকে জানিয়ে দেওয়া এবং ব্যবহার না করাই উত্তম। তবে এ ক্ষেত্রে আপনার দায়মুক্তির জন্য যা যা করা দরকার তা আপনি করেছেন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.