জীবনের নানা বিধ সমস্যা নিয়ে।
Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi
Question
আসলে আমি বুঝতেছি না আমি জীবনে কিভাবে কি করবো। আমি অনেক ভেঙে পড়েছি.. কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না।
আমার পরিবারে আমি একা সালাফি। আমার এই জন্য প্রতিনিয়ত কথা শুনতে হয় যে আমি ইসলামের মধ্যে নাই। আমি ভুল পথে আছি। এতো কিছু করতে হয় না, জাস্ট নামাজ পড়লেই অনেক।
আমি ফ্রি মিক্সিং করতে চাইনা.. এইটা বলার পরে আরও ঝামেলা করছে। বলছে আমার জন্য এতো দিন যতো টাকা খরচ করছে সব তাদের দিতে। আমি সব খরচ করছি বেশি।
সারাদিন বাড়িতে গান, মুভি হতে থাকে। নন-মাহরাম আসা-যাওয়া করতেই থাকে। যে কেউ চাইলেই দেখতে পারে এমন। আমার বাপ-ভাই এর কিছু যায় আসে না তাতে। আমার অনেক কষ্ট হয়..
আমি কিছু করতে পারতেছি না দীনের জন্য। আমি দিনকে দিন শুধু হারামের মধ্যে চলে যাচ্ছি।
সাথে আমার নজর ও জ্বীনের সমস্যা আছে। আমি রুকইয়াহ করতে পারতেছি না। একবার করার পরে রিয়াকশন হয় অনেক বেশি। আর ওর জন্য এখনো আমার কথা শুনতে হয় যে আমার জন্য তারা সাফার করতেছে।
আমি এইসব কিছুর জন্য লাইফে কিছু করতে পারতেছি না। বিয়ে দিবে না এরা আমাকে এখন। আমার উপরে আমার বড় বোন আছে, তার এখনো বিয়ে হয়নি। সে ব্যাংকে জব করে। সালাফি ছেলের সাথে তারা আমার বিয়ে দিবে না। তারা দেখতেই পারে না।
তাদের বুঝাতে গেলে এইটাই বলে যে আমরা এতো জানতে চাইনা। জাস্ট নামাজ, পর্দা করতেছো ওইটাই অনেক। এতো বেশি জানতে নাই। আমরা শুনতেও চাইনা। কোনো ভাবে তাদের বলতেও পারতেছি না।
আমার লাগতেছে আমি এইভাবে মারা যাবো শায়েখ। আমার ভয় হচ্ছে অনেক। দুনিয়ার অবস্থা দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে। যুদ্ধ, সব কিছুতে কে কেমন বাঁচবে, কি হবে কিছুই বুঝতেছি না। আমার জাস্ট ভালো লাগতেছে না।
আমি দীন থেকে অনেক দূরে সরে গেছি লাগে।
আমাকে সাহায্য করুন। আমি কি করতে পারি?
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় বোন, আপনার কষ্ট আমি বুঝতে পারছি। আল্লাহর রাস্তায় একা থাকা, পরিবারের বিরোধিতা, গুনাহের পরিবেশ—এসব সত্যিই খুব কঠিন। তবে জেনে রাখুন, আল্লাহ কখনোই একজন মুমিনকে তার সাধ্যের বাইরে বোঝা দেন না (সূরা বাকারা, ২:২৮৬)। আর কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে (সূরা ইনশিরাহ, ৯৪:৫-৬)। আপনি যদি ধৈর্য ধরে আল্লাহর উপর ভরসা করেন, তবে তিনি আপনার জন্য পথ খুলে দেবেন।
১. পরিবারের সাথে আচরণ
পরিবারের সাথে ভালো ব্যবহার বজায় রাখা ওয়াজিব, তবে দীনের ব্যাপারে আপোষ করা জায়েজ নয়। আল্লাহ বলেন: “যদি তারা তোমাকে আমার সাথে শিরক করার চাপ দেয়, যা তুমি জানো না, তবে তাদের কথা মানবে না; কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে।” (সূরা লুকমান, ৩১:১৫)
- পরামর্শ: তাদের সাথে মৃদু ও হিকমতের সাথে কথা বলুন। কোনো বিষয়ে জোরাজুরি করবেন না। আপনি শুধু উদাহরণ হয়ে দেখান—নিজে পর্দা ও নামাজ ঠিক রাখুন। সময়ের সাথে সাথে তারা পরিবর্তন হতে পারে।
- গান, মুভি ও ফ্রি মিক্সিং: এগুলো হারাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক থাকবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।” (বুখারী, হাদিস: ৫৫৯০) তাই নিজের ঘরে এগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে নিজের রুমে আলাদা থাকুন বা হেডফোন ব্যবহার করুন।
২. জিন ও রুকইয়া
জিনের সমস্যা থাকলে রুকইয়া করা জরুরি। রুকইয়ার পর প্রতিক্রিয়া বেশি হওয়া স্বাভাবিক (জিনের বিরোধিতা)। তবে আপনি নিজে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস ইত্যাদি পড়ে দম করতে পারেন। একান্তে নিজের জন্য রুকইয়া করুন। শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেছেন: “রুকইয়া নিজে করাই উত্তম।” এ ছাড়া একজন নির্ভরযোগ্য আলেম বা রাকির সাহায্য নিন।
৩. বিবাহ ও ভবিষ্যৎ
বিয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আপনার বড় বোনের আগে বিয়ে না হওয়া বা পরিবারের বিরোধিতা—এটা আপনার যোগ্যতার উপর প্রভাব ফেলবে না। শাইখ আল-আলবানী (রহ.) বলেছেন: “বিয়ের জন্য দ্বীন ও চরিত্রই মাপকাঠি।” (সহীহুল জামে) আপনি দোয়া করতে থাকুন, আল্লাহ উত্তম সঙ্গী দেবেন।
৪. আপনার মানসিক অবস্থা
আপনি যখন বলেন “আমি দীন থেকে দূরে চলে যাচ্ছি”, এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা। আসলে আপনি দীনের কাছেই আছেন, কারণ আপনি গুনাহর ব্যাপারে সচেতন। ইবনু তাইমিয়্যা (রহ.) বলেছেন: “গুনাহর পর তওবা ও লজ্জা বোধ করা ইমানের আলামত।”
- করণীয়:
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কখনো ছাড়বেন না।
- প্রতিদিন কিছু কুরআন তিলাওয়াত করুন।
- সকাল-সন্ধ্যার জিকির (যেমন আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস ইত্যাদি) পড়ুন।
- আশেপাশে কোনো সালাফি আলেম বা বোন থাকলে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন।
৫. সর্বশেষ উপদেশ
শাইখ সালিহ আল-ফাওজান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন: “দ্বীন টিকিয়ে রাখার মূল চাবি হলো সবর ও তওবা।” আপনি যতই ভেঙে পড়ুন না কেন, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না। রাসূল (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো গুনাহ করে, অতঃপর তওবা করে, সে যেন গুনাহ করেনি।” (ইবনু মাজাহ)
আপনার জন্য বিশেষ দোয়া:
“রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাহ্। ইন্নাকা আনতাল ওয়াহ্হাব।”
(হে আমাদের রব, আমাদের হৃদয়কে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করবেন না আমাদেরকে হেদায়েত দেওয়ার পর, এবং আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনিই দানশীল।)
আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য ও শক্তি দিন, আপনার অসহায়ত্ব দূর করুন এবং উত্তম পথ দেখান। আমীন।