সিজদাহ্ তে বায়ুর চাপ ঠেকানো, প্রবাহিত রক্তের পরের রক্তগুলোর হুকুম

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 2667
Questioner: Dilsha Tani
Question Asked: 13 Jul 2026, 09:00 PM
Reviewed & Published: 13 Jul 2026, 09:16 PM
Views: 49
Tokens: 7,646
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম (১)

বলছিলাম যে, কেউ ফরজ কাযা রোজার ক্ষেত্রে ভাবে যে সাহরীতে শুধু পানিই খাবে ভাবে কারন দিন যেহেতু বড়। এখন সাহরীর টাইমটা চলে গেল। এ্যাপসে ফজরের ওয়াক্তে হয়ত ২৫ সেকেন্ড চলতে দেখল। এমতাবস্থায় সে নিয়ত নিয়ে কনফিউজডে পড়ে গেল। যেহেতু ফজরের ওয়াক্তের ২৫/২৬ সেকেন্ড চলতে দেখল এবং ভাবল পানি খেতে পারেনি তো কি হয়েছে, সে রোজাটা রাখবে ইনশা আল্লাহ। ফজরের ওয়াক্তের ২৫/২৬ সেকেন্ড চলাকালীন এমন সময়ের নিয়তে কি তার ফরজ কাযা রোজাটা হবেনা শাইখ?


আপনারা উত্তরে বেলেছিলেন রোজাটি হয়েছে। তাহলে রোজাটা হয়ে থাকলে তাহলে এই রোজাটা আমার উমরি কাযা রোজার হিসাবের সাথে গননা করতে পারব? একটু কনফিউশান হচ্ছে।

[প্রশ্ন সংক্রান্ত কমেন্ট আপনাদের এই নতুন ওয়েবসাইটের কোথায় করব? আমার ফোনে জায়গা কম তাই এ্যাপসটি ডাউনলোড করতে পারছিনা।]

(২)

হানাফি ফিকহে ওয়াক্তের শেষের দিকে পিরিয়ড হলেও ওই ওয়াক্তের সালাত বাকি থাকলে, হায়েজ থেকে পবিত্র হলে তো পরবর্তীতে কি ওই সালাত কাযা আদায় করে দিতে হয়না, তাইনা??

(৩) কোথাও কেটে গেলে প্রথমে যতটুকু রক্ত/পুঁজ প্রবাহিত হল ততটুকু তো নাপাক হবে, পরে যতটুকু রক্ত প্রবাহিত হচ্ছেনা কিন্তু রক্ত থাকছে সেই রক্তটুকু তো নাপাক হবেনা তাইনা?

(৪) সিজদাহ্ অবস্থায় বায়ু বের হওয়ার উপক্রম হয়েছিল বলে আমি একহাত সিজদাহতে রেখে আরেকহাত দিয়ে পায়ুতে হাত দিয়ে চেপে রাখছিলাম কিছুক্ষন। পরে বায়ু বের হওয়ার বেগ চলে গেলে আবার সেই হাতটি সিজদাহ্তে নিয়ে আসি। তাহলে কি আমার নামাজ হয়েছে?

Answer

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيم
উত্তর প্রদানে: আল্লাহ তাআলার কাছে তাওফীক প্রার্থী


প্রথম প্রশ্ন: ফরজ ক্বাযা রোযা ও সাহরীর সময় শেষ হওয়া

আপনার পূর্বের উত্তরে বলা হয়েছে যে রোযাটি সহীহ হয়েছে। এখন আপনি জানতে চান, এই রোযাটি কি আপনার উমরী ক্বাযা (জীবনের অন্যান্য ফরজ ক্বাযা) রোযার সাথে গণনা করা যাবে?

উত্তর:
প্রশ্নের বিবরন মতে উক্ত রোযা নফল বলে গন্য হবে। কাজা রোযা হিসেবে নয়। কাজা রোযা পুনরায় আদায় করতে হবে।

কমেন্ট করার স্থান:
আপনি এই ওয়েবসাইটের যেকোনো পেজের নিচে "মন্তব্য" (Comment) অপশনে আপনার প্রশ্ন বা মতামত লিখতে পারেন। অথবা ifatwa.info সাইটের প্রাইভেট মেসেজে কমেন্ট করতে পারেন।


দ্বিতীয় প্রশ্ন: হায়েজ অবস্থায় ওয়াক্ত শেষে সালাতের হুকুম

প্রশ্ন: হানাফী ফিকহে যদি কোনো নারীর হায়েজ শুরু হয় ওয়াক্তের শেষ প্রান্তে, কিন্তু সেই ওয়াক্তের সালাত এখনও বাকি থাকে, পরে হায়েজ থেকে পবিত্র হলে কি সেই সালাত ক্বাযা পড়তে হবে?

উত্তর:
না, ক্বাযা পড়তে হবেনা। হানাফী মতে, যদি কোনো নারী ওয়াক্তের শেষে হায়েজগ্রস্ত হয় এবং সেই ওয়াক্তের সালাত আদায় না করেই হায়েজ শুরু হয়, তবে পবিত্র হওয়ার পর সেই সালাতের ক্বাযা আদায় করা আবশ্যক নয়। তবে যদি পবিত্রতা ওয়াক্তের ভেতরেই লাভ হয়, তাহলে সেই ওয়াক্তের সালাত আদায় করতে হবে। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ১/২৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৮)


তৃতীয় প্রশ্ন: প্রবাহিত না হওয়া রক্তের নাপাকি

প্রশ্ন: ক্ষতস্থান থেকে প্রথমে রক্ত/পুঁজ প্রবাহিত হলে তা নাপাক। পরে যে রক্ত প্রবাহিত না হয়ে জমে থাকে, সেটিও কি নাপাক?

উত্তর:
হ্যাঁ, সেই রক্তও নাপাক। কারণ রক্ত বের হওয়ার পর তা শরীর থেকে পৃথক হয়ে গেছে; প্রবাহিত হোক বা স্থির থাকুক—উভয়ই নাজিস। তবে নামাযের ক্ষেত্রে প্রমাণ পরিমাণ (এক দিরহামের কম) রক্ত ক্ষমার যোগ্য। যদি জমে থাকা রক্তের পরিমাণ এক দিরহামের বেশি হয়, তাহলে তা নামাযের জন্য مانع (বাধা)। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩২; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৬২)


চতুর্থ প্রশ্ন: সিজদায় বায়ু আটকানোর জন্য হাত ব্যবহার

প্রশ্ন: সিজদাহ অবস্থায় বায়ু বের হওয়ার উপক্রম হলে আমি এক হাত সিজদাতে রেখে অপর হাত দিয়ে পায়ুতে চেপে রাখি। পরে বেগ চলে গেলে ঐ হাত পুনরায় সিজদাতে রাখি। এতে কি নামায হয়েছে?

উত্তর:
৩ তাসবিহ পড়া সমপরিমাণ সময় অতিবাহিত হলে সেক্ষেত্রে আপনার নামাজ আদায় হবেনা।

পুনরায় সেই নামাজ আদায় কর‍তে হবে।

আর যদি ৩ তাসবিহ পড়া সমপরিমাণ সময় অতিবাহিত না হয়, সেক্ষেত্রে আপনার নামাজ আদায় হবে। (সূত্র: ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/১০৩; রদ্দুল মুহতার, ২/৩৩৩)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.