নামাজে সূরা কুরাইশের ‘মিন খাওফ’ উচ্চারণে ‘খা’ এর জায়গায় ‘কাফ’ পড়লে ও রুকু ছেড়ে দিয়ে কিরাত পুনরায় পড়লে নামাজের বিধান কি হবে?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 2624
Questioner: bobsy75
Question Asked: 13 Jul 2026, 01:46 AM
Reviewed & Published: 13 Jul 2026, 02:35 AM
Views: 64
Tokens: 5,708
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। নামাজে আলহামদু পুরা পড়েছি এবং এর সাথে একটি সূরা পড়েছি সেটা হচ্ছে সূরা কুরাইশ। রুকুতে গিয়ে মনে পড়েছে যে আমি যে "মিন খাওফ" বলেছি শেষে সেটা ঠিকমতো বলিনি খ এর মতো না হয়ে কাফ এর মাখরাজ হয়েছে। এরপর আমি আবার এই রাকাতটা পড়েছি রুকু ছেড়ে দিয়ে। এই অবস্থায় কি নামাজ ভেঙ্গে যাবে? এটা কি নামাজ হয়েছে নাকি আবার পড়তে হবে?

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, নামাজের মধ্যে সূরা কুরাইশ শেষের অংশ "মিন খাওফ" (مِنْ خَوْفٍ) পড়ার সময় ‘খা’ (خ) এর জায়গায় ‘কাফ’ (ك) উচ্চারিত হয়েছে। এটি একটি উচ্চারণগত ত্রুটি, কিন্তু অর্থের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কেননা ‘কাফ’ (ك) দিয়ে উচ্চারণ করলেও শব্দটি অর্থহীন হয়ে যায় না বরং ‘খাওফ’ (ভয়) শব্দের বদলে ‘কাওফ’ (كَوْف) কোনো পরিচিত অর্থ বহন করে না। তাই এই ভুলের কারণে নামাজ ভঙ্গ হবে না। তবে তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

রুকু ছেড়ে দিয়ে পুনরায় কিরাত পড়ার বিধান:
নামাজের মধ্যে রুকুতে যাওয়ার পর যদি মনে পড়ে যে কিরাতে ভুল হয়েছে, তাহলে সাধারণত করণীয় হলো রুকু সম্পন্ন করে নামাজ শেষে সিজদা সাহু করা যদি ওয়াজিব ছুটে। আর তাজবীদে ভুল হলে পূনরায় তিলাওয়াত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নাই।তবে ফরয ছুটে গেলে নামায ফাসিদ হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি রুকু থেকে ফিরে এসে পুনরায় সেই রাকাতের কিরাত পড়েছেন, যা নামাজের তরতীব (ক্রম) ভঙ্গের কারণ। হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে তরতীব ভঙ্গ করলে নামাজ ফাসিদ (বাতিল) হয়ে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে আপনার কাজটি ইচ্ছাকৃত ছিল না, বরং ভুলবশত হয়েছে। তাই ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, এতে নামাজ ফাসিদ হবে না, বরং সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে। কিন্তু আপনি যদি সিজদা সাহু না করে থাকেন, তাহলে নামাজ সহীহ হলেও গুনাহগার হবেন এবং তওবা করা আবশ্যক। (রদ্দুল মুহতার, ২/৮৬; ফাতাওয়া উসমানি, ২/২৭৩; বাহিশতি জেওয়ার, ৩/১৪৭)

আপনার করণীয়:
১. নামাজটি পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই। কেননা ভুলবশত তরতীব ছেড়ে দিলে নামাজ সহীহ হয়, তবে সিজদা সাহু ওয়াজিব থাকে।
২. যেহেতু সিজদা সাহু করা হয়নি, তাই আপনাকে তওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়িয়ে চলতে হবে।
৩. যদি এখনও নামাজের সময় থাকে এবং মনে সংশয় থাকে, তবে ইহতিয়াতের (সতর্কতা) জন্য নামাজটি পুনরায় পড়তে পারেন। তবে শুধু উচ্চারণগত ভুলের কারণে নামাজ ভঙ্গ হয় না।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
আপনার নামাজ ভঙ্গ হয়নি, বরং সহীহ হয়েছে। তবে রুকু ছেড়ে দেওয়ার কারণে সিজদা সাহু ওয়াজিব হয়েছিল, যা আপনি করেননি। তাই তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে নামাজে কোনো ভুল মনে পড়লে সরাসরি রুকু বা সিজদা পরিবর্তন না করে সিজদা সাহু দিয়ে নামাজ সম্পন্ন করুন।

সূত্র:

  • কুরআন: "فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ" (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬)
  • হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের কেউ যখন নামাজে ভুল করে, তখন সে যেন দুটি সিজদা করে।" (সহিহ বুখারি, ১২৩০; সহিহ মুসলিম, ৫৭১)
  • হানাফি ফিকহ: "إذا ترك الترتيب في الركوع ساهياً لا تفسد الصلاة، وعليه سجود السهو" (শরহু মা'আনি আছার, ১/৪১৪; ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/১৩২)

আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞানী।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.