নিফাসের ৪০ দিন পর ৪৬তম দিনে রক্ত দেখা দিলে তা ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
আমি এখন বুঝতে পারছি না এটা ইস্তেহাজা নাকি হায়েজ।
urged
Answer
উত্তর (Answer)
আপনার নেফাস (নিফাস) ৪০ দিন পর্যন্ত ছিল, যা হানাফি মাযহাব অনুযায়ী নিফাসের সর্বোচ্চ সময়কাল। এরপর ৪১তম দিন থেকে আপনি নামাজ শুরু করেন। ৪৬তম দিন মাগরিবের সময় পুনরায় রক্ত দেখা দেওয়াটি ইস্তেহাজা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে, হায়েজ নয়। কেননা:
- নিফাসের পর পবিত্রতার ব্যবধান (তুহর) কমপক্ষে ১৫ দিন না হলে নতুন করে হায়েজ শুরু হতে পারে না। এখানে মাত্র ৫ দিন (৪১–৪৫) পবিত্রতা ছিল, তাই এটি হায়েজ হওয়ার শর্ত পূরণ করে না।
- ৪০ দিন পর দেখা যাওয়া রক্ত সাধারণত ইস্তেহাজা, যদি না তা ১৫ দিনের বেশি পবিত্রতা শেষে আসে এবং ৩ দিন স্থায়ী হয়।
অতএব, আপনি এখন ইস্তেহাজার বিধান অনুযায়ী আমল করবেন:
-
নামাজ, রোজা, কুরআন স্পর্শসহ সকল ইবাদত চালিয়ে যাবেন। মা'যুর হলে প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য অযু করবেন। মা'যুর না হলে সেক্ষেত্রে ওয়াক্ত চলাকালীন যখন রক্তস্রাব বন্ধ থাকে,তখন নামাজ আদায় করবেন।
-
আপনার রক্তস্রাব নামাজ, রোজা বা কুরআন তিলাওয়াতের কোনো বাধা নয়।
উল্লেখ্য: যদি এই রক্ত টানা ৩ দিন বা তার বেশি স্থায়ী হয় এবং তারপর আবার বন্ধ হয়ে যায়, তবুও কারণে অপর্যাপ্ত পবিত্রতা (১৫ দিনের কম) এটি হায়েজ হবে না। বরং নিফাসের পর প্রথম হায়েজ নির্ধারণের জন্য ন্যূনতম ১৫ দিন পূর্ণ পবিত্রতা আবশ্যক।
হানাফি কিতাবের উল্লেখ:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদিন) – নিফাস ও ইস্তেহাজার বিধান।
- ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ – “إذا رأت الدم بعد أربعين يوما فإنه استحاضة إلا إذا انقطع ثم عاد بعد خمسة عشر يوما فإنه حيض” (যদি ৪০ দিনের পর রক্ত দেখে, তবে তা ইস্তেহাজা, যদি না তা বন্ধ হয়ে ১৫ দিন পর আবার আসে, তাহলে তা হায়েজ)।
- বাহিশতী জেওর – নিফাস ও ইস্তেহাজা সম্পর্কিত সহজ নির্দেশিকা।