নামায ওয়াক্তের শুরুতে পড়ার ফজিলত এবং ওয়াক্তের শেষে বিলম্ব করে পড়ার বিধান কি? জানতে চাই -

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 2516
Questioner: Unknown
Question Asked: 10 Jul 2026, 12:33 PM
Reviewed & Published: 10 Jul 2026, 01:41 PM
Views: 49
Tokens: 3,938
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, নামায ওয়াক্তের মধ্যে পড়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই। মাঝে মাঝে অনর্থক কাজ করে দেখা যায় নামায ওয়াক্তের শেষে পড়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কুরআন, হাদিস থেকে বিস্তারিত জানাবেন।
জাঝাকাল্লাহু খইরন

Answer

উত্তর:

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি নামায ওয়াক্তের মধ্যে পড়ার গুরুত্ব এবং শেষ সময়ে পড়ার বিধান সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। নিচে কুরআন, হাদিস ও হানাফি কিতাবের আলোকে বিস্তারিত দলিল পেশ করছি।


🔹 কুরআনের দলিল

১. সূরা নিসা (৪:১০৩)

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই নামায মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।”
এ আয়াতে ‘মাওকুত’ শব্দটি নির্দিষ্ট সময় বোঝায়। তাই প্রতিটি নামাযের নিজস্ব ওয়াক্ত আছে এবং সেই ওয়াক্তের ভেতরেই আদায় করতে হবে।

২. সূরা বাকারা (২:২৩৮)

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ
অর্থ: “তোমরা সকল নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের প্রতি।”
এখানে ‘হিফাযত’ অর্থ ওয়াক্তের শুরুতে পড়া এবং সঠিকভাবে আদায় করা।


🔹 হাদিসের দলিল

১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম
ইবনে মাস‘উদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন: “ওয়াক্তে নামায পড়া।”
(বুখারী: ২৭৮২, মুসলিম: ৮৫)

২. সুনানে তিরমিযি
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“প্রথম ওয়াক্তে নামায পড়ায় আল্লাহর সন্তুষ্টি, শেষ ওয়াক্তে নামায পড়ায় মাফ।”
(তিরমিযি: ১৭২, হাদিসটি হাসান)

৩. মুসনাদে আহমাদ
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

“সর্বোত্তম আমল হলো ওয়াক্তের শুরুতে নামায পড়া।”
(মুসনাদে আহমাদ: ৩/১০৩)

৪. আবু দাউদ ও নাসাঈ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি ওয়াক্তের শুরুতে নামায পড়ে, তার জন্য রয়েছে জান্নাতে একটি মর্যাদা। আর যে ব্যক্তি শেষ ওয়াক্তে পড়ে, যদি আল্লাহ চান তাকে ক্ষমা করবেন, আর যদি চান শাস্তি দেবেন।”
(আবু দাউদ: ৪২৬, নাসাঈ: ৬১০)


🔹 হানাফি ফিকহের কিতাব থেকে দলিল

১. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৫২-৩৫৪

“ওয়াক্তের শুরুতে নামায পড়া মুস্তাহাব। বিনা ওজরে শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত দেরি করা মাকরুহে তানযিহি।”
অর্থাৎ কোনো বৈধ কারণ (যেমন সফর, অসুস্থতা, অতি প্রয়োজন) না থাকলে ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াক্ত শেষে নামায পড়া অপছন্দনীয়।

২. ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী)
খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৪

“নামাযের ফজিলত ওয়াক্তের প্রথমাংশে বেশি। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনগণ ওয়াক্ত হওয়ার সাথেসাথেই নামায পড়ার প্রতি যত্নবান ছিলেন।”

৩. ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ শফী)
খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭৫

“যে ব্যক্তি অলসতা বা অনর্থক কাজে ব্যস্ত থেকে ওয়াক্তের শেষে নামায পড়ে, সে সুন্নাতের বিপরীত কাজ করে। তবে নামায আদায় হয়ে যায়। বরং প্রথম ওয়াক্তে পড়ার চেষ্টা করা উচিত।”

৪. ফাতাওয়া আলমগীরি (হিন্দিয়া)
খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫২

“ওয়াক্তের শেষে নামায পড়া জায়েজ, কিন্তু মাকরুহ যখন কোনো ওজর না থাকে।”


🔹 উপসংহার ও আমল করার নির্দেশনা

  • নামায ওয়াক্তের শুরুতে পড়া সর্বোত্তম। এটি রাসূল (সা.)-এর সুন্নাত এবং সাহাবাদের রীতি।
  • অর্থহীন কাজ করে ওয়াক্ত শেষে নামায পড়া মাকরুহে তানযিহি (অপছন্দনীয়) এবং বিনা প্রয়োজনে এমন করা উচিত নয়।
  • তবে নামায শেষ ওয়াক্তেও পড়া জায়েজ এবং তা আদায় হয়ে যায় – কিন্তু সওয়াবে ঘাটতি হয়।
  • প্রয়োজনীয় দুনিয়াবি কাজ (যেমন রুটি-রুজি, সফর, চিকিৎসা) যদি সময় নেয়, তাহলে শেষ ওয়াক্তে পড়ায় কোনো দোষ নেই। কিন্তু উদ্দেশ্যহীন বিলম্ব ঠিক নয়।

সুতরাং আপনার দেখা বিষয়টি – “অনর্থক কাজ করে ওয়াক্ত শেষে নামায পড়া” – সেটি পরিহার করা জরুরি। নিজের সময় ব্যবস্থাপনা এমন করুন যেন ওয়াক্ত হওয়ার পরই নামায আদায় করতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সময়মত নামায পড়ার তাওফিক দিন। (আমিন)

জাঝাকাল্লাহু খইরন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.