উপহার হিসেবে প্রাপ্ত টাকার ব্যবহার প্রসঙ্গে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2482
Questioner: Imran
Question Asked: 09 Jul 2026, 07:08 PM
Reviewed & Published: 09 Jul 2026, 07:30 PM
Views: 45
Tokens: 4,686
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।

আমার এক আত্মীয় স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। উনার অবসরের পরে সাবেক শিক্ষার্থীরা বেশ জাকজমকের সহিত উনার জন্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে বেশ বড় অঙ্কের অর্থ উপহার দেয়া হয়। এই অর্থ সংগ্রহ করেছে সাবেক শিক্ষার্থীরা ব্যাচভিত্তিক, নির্দিষ্ট কোনো এমাউন্ট ঠিক করা ছিল না, তবে অনেকেই হয়তো পিয়ার প্রেশারে দিয়েছে। এমতাবস্থায়, এই অর্থ ব্যবহার করা উনার জন্য হালাল হবে কিনা?

যদি হালাল না হয় তবে উনি ঐ অর্থ থেকে কর্জ গ্রহণ করে উনার স্ত্রীকে হজে নিতে পারবেন কিনা?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের জন্য সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপহারের অর্থ ব্যবহার করা কতটুকু জায়েজ হবে, তা নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর:

১. উপহারের বৈধতা: সাধারণভাবে সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিক্ষককে উপহার দেওয়া জায়েজ, বিশেষ করে যখন তা চাকরির মেয়াদ শেষে বিদায় অনুষ্ঠানে দেওয়া হয়। কারণ এখানে কোনো বর্তমান স্বার্থ বা প্রভাব বিদ্যমান নেই। তবে শর্ত হচ্ছে, উপহারদাতাদের প্রত্যেকের স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে তা দেওয়া। কাউকে চাপ দিয়ে বা পিয়ার প্রেশারে দিয়ে নেওয়া হলে সেই ব্যক্তির প্রদত্ত অংশ তার পক্ষ থেকে সঠিক দান (হিবা) গণ্য হবে না।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে:

“মুসলমানরা তাদের শর্তাবলির ওপর প্রতিষ্ঠিত।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৯৪)

আর হিবা (উপহার) শুদ্ধ হওয়ার জন্য গ্রহীতার পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় দান করা শর্ত। যদি কেউ অসম্মতি সত্ত্বেও শুধু চাপে পড়ে দেয়, তবে তার পক্ষ থেকে দান বৈধ হবে না। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতে, অস্বচ্ছন্দ অবস্থায় প্রদত্ত হিবা (গিফট) সহিহ নয়। (রদ্দুল মুহতার, ৫/৬৯১)

২. অজ্ঞাত ও অনিচ্ছুক দাতার অংশ: যেহেতু অর্থ সংগ্রহ ব্যাচভিত্তিক হয়েছে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ ধার্য ছিল না, কিন্তু অনেকেই পিয়ার প্রেশারে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তাই কিছু অংশের দান হয়তো স্বেচ্ছায় হয়নি। এই অবস্থায় শিক্ষকের জন্য কর্তব্য হলো:

  • যতটুকু সম্ভব জানার চেষ্টা করা যে, কে সন্তুষ্টচিত্তে দিয়েছে আর কে দিয়েছে চাপে।
  • যারা চাপে দিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া। আর যদি তাদের সনাক্ত করা সম্ভব না হয়, তাহলে সন্দেহযুক্ত সমুদয় টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। (ফাতাওয়ায়ে উসমানি, ২/৪১৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৭৩)

ইমাম ইবনে আবিদিন রহ. লেখেন:

“যদি কোনো মাল হালাল-হারাম মিশ্রিত হয় এবং পৃথক করা সম্ভব না হয়, তবে তাওবার সঙ্গে সমুদয় মাল সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব।” (রদ্দুল মুহতার, ৪/১৬২)

৩. হারাম টাকা দ্বারা হজ্জ করা ও কর্জ গ্রহণ: যদি অর্থের কিছু অংশ অনিচ্ছাকৃত দানের কারণে হারাম হয়, তাহলে সেই মিশ্রিত অর্থ শিক্ষকের জন্য বৈধ নয়। এ অবস্থায় তিনি ওই অর্থ থেকে নিজের প্রয়োজনে খরচ করতে পারবেন না, এমনকি স্ত্রীকে হজ্জে নেওয়ার জন্যও নয়। কারণ হজ্জের জন্য বৈধ ও পবিত্র মাল ব্যবহার করা জরুরি। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২২১)

তিনি যদি ওই অর্থ থেকে কর্জ (ঋণ) নেন, তাতেও সমস্যা থাকবে। কারণ কর্জের মূল উৎসই যদি হারাম বা সন্দেহযুক্ত হয়, তবে সেই কর্জও পবিত্র নয়। বরং কর্জ (ধার) নেওয়ার অর্থ হলো ওই টাকার মালিকানা গ্রহণ করা, যা হারাম থাকায় তা জায়েজ নয়।

বরং করণীয় হলো:

  • শিক্ষক তার নিকটাত্মীয় বা বন্ধুদের কাছ থেকে হালাল অর্থ কর্জ করে নেবেন, অথবা নিজের হালাল আয় থেকে জমিয়ে হজ্জের ব্যবস্থা করবেন।
  • আগে উক্ত সন্দেহযুক্ত অর্থ সদকা করে পবিত্র করে নেবেন। তারপর নিজের হালাল অর্থ দ্বারা হজ্জ করবেন। (মাআরিফুল কুরআন, ২/৫২; বেহেশতি জেওর, ২/৩১)

সারসংক্ষেপ:

  • সাবেক শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাপ্রদত্ত উপহারের অর্থ শিক্ষকের জন্য হালাল। কিন্তু যারা পিয়ার প্রেশারে দিয়েছে, তাদের অংশ বৈধ নয়।
  • এই বৈধ-অবৈধ মিশ্রিত অবস্থায় শিক্ষকের জন্য পুরো অর্থ নিজে ব্যবহার করা জায়েজ নয়। তাকে চেষ্টা করে অনিচ্ছুকদের টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ঐ পরিমাণ অর্থ সদকা করে দেওয়া উত্তম।

উপদেশ: শিক্ষক মহোদয় যেন নিজের ও পরিবারের ইবাদতকে পবিত্র ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমে সাজান। আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

রেফারেন্স সমূহ:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), ৫/৬৯১, ৪/১৬২
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি), ১/২২১
  • ফাতাওয়ায়ে উসমানি, ২/৪১৭
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৭৩
  • বেহেশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভী), ২/৩১
  • মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি), ২/৫২

Meta Description:

SEO Keywords:
উপহারের অর্থ হালাল, পিয়ার প্রেশার উপহার, হিবা ফিকহ, শিক্ষকের জন্য উপহার, হারাম টাকা হজ্জ, কর্জ দ্বারা হজ্জ, হানাফি ফিকহ হিবা, ফাতাওয়া উসমানি, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার।

SEO Search Phrases:

  • সাবেক শিক্ষার্থীদের উপহারের অর্থ ব্যবহার করা যাবে কি
  • পিয়ার প্রেশারে দেওয়া টাকা গ্রহণ করা জায়েজ
  • শিক্ষকের জন্য বিদায় অনুষ্ঠানের উপহার হালাল
  • হারাম টাকা দ্বারা হজ্জ করা
  • মিশ্রিত অর্থ সদকা করার বিধান
  • হানাফি মতে হিবা সহিহ হওয়ার শর্ত

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.