কেউ যদি অজ্ঞতাবশত ধর্ম নিয়ে এমন কথা বলে যা কুফরী হতে পারে, পরে বুঝে তওবা করলে তার ঈমান ও বিবাহ ঠিক থাকে কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2453
Questioner: Akhi
Question Asked: 08 Jul 2026, 08:11 PM
Reviewed & Published: 08 Jul 2026, 08:18 PM
Views: 68
Tokens: 3,897
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। কেউ ঈমানে সমস্যা হতে পারে কিনা না জেনে যদি বলে ফেলে খেলার এসবে ধর্ম টেনে আন কেন বললে পরে বুঝার পর তওবা করলে কি ঈমান ও বিবাহ ঠিক থাকে? মানে বলার কয়েক বছর পর জানলে বা বুঝতে পারলে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি—“খেলার এসবে ধর্ম টেনে আন কেন”—সাধারণত ধর্মকে খেলার বিষয় হিসেবে তুচ্ছজ্ঞান করার অর্থ বহন করে।

১. ফিকহী নীতিমালা

  • যদি কেউ জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞতাবশত দ্বীন নিয়ে ঠাট্টা করে, তাহলে তা কুফরী (ইমাম আবু হানীফা, রদ্দুল মুহতার, কিতাবুর রিদ্দা)।
  • তবে অজ্ঞতা বা ভুল বুঝে এমন কথা বললে, এবং পরবর্তীতে সঠিক জ্ঞান লাভ করে তওবা করলে, ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মতে, যদি কথাটির সঠিক বা সম্ভাব্য অর্থ কুফরী না হয়, তাহলে তা কুফরী গণ্য হবে না। (আল-হিদায়া, কিতাবুস সিয়ার; ফাতাওয়া আলমগীরী)

এক্ষেত্রে বক্তা যদি ঈমানের সমস্যা হবে না ভেবে অথবা ধর্মকে খেলায় না টানার পরামর্শ হিসেবে বাক্যটি ব্যবহার করে থাকেন (যেমন: “দয়া করে খেলার মধ্যে ধর্ম টেনে আনবেন না”), তাহলে তা কুফরী নয়। কিন্তু যদি অর্থ হয় “ধর্ম নিয়ে আসার কী দরকার, ওসব তো খেলা” - তাহলে সেটি ধর্মকে তুচ্ছ করার শামিল হতে পারে।

২. তওবার গ্রহণযোগ্যতা

কথাটি বলার পর কয়েক বছর বুঝতে না পারলেও, যখন সঠিক জ্ঞান হয় এবং এখনকার মত আন্তরিক তওবা করেন, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তওবা কবুল করবেন। আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, তারপর শীঘ্রই তওবা করে।” (সূরা নিসা: ১৭)

তবে কয়েক বছর ধরে বুঝতে না পারায় গুনাহের বোঝা হালকা নয়, বরং দায়িত্বশীল মুসলিম হিসেবে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করা উচিত ছিল। এখন তওবা করলে, আগের ভুলের কারণে ঈমান ফিরে পাবে।

৩. বিবাহের অবস্থা

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কুফরী কালেমা উচ্চারণ করে এবং তা শর্তসাপেক্ষে কুফরী হয়, তাহলে তার বিবাহ তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে যায় (ইদ্দত পালনের প্রয়োজন হয়)। কিন্তু যদি তিনি অজ্ঞতাবশত বলেছিলেন এবং কথাটির অন্য অর্থ গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে বিবাহ ভঙ্গ হয় না।

এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা কর্তব্য:

  • ঈমান পুনঃস্থাপন: কালেমা শাহাদাত পাঠ করে বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করা।
  • বিবাহ পুনঃনবায়ন: যদি সন্দেহ থাকে যে বিবাহ ভঙ্গ হয়ে থাকতে পারে, তাহলে নতুন করে বিবাহ পড়িয়ে নেওয়া। (ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া)

৪. ফকীহগণের মতামত

  • ইমাম আবু হানীফা (রহ): যেসব শব্দ কুফরী অর্থে স্পষ্ট, কিন্তু বক্তা অজ্ঞ, তার তওবা কবুল হবে এবং বিবাহ পুনরায় নবায়ন করতে হবে না যদি ইদ্দতের মধ্যে তওবা করে। কিন্তু যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তাহলে নিকাহ নতুন করে করতে হবে।
  • ইমাম মুহাম্মাদ (রহ): যেকোনো অবস্থায় অজ্ঞতাবশত কুফরী করলে বিবাহ ভঙ্গ হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৪৪)

৫. ব্যবহারিক নির্দেশনা

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ঈমান চলে যায়নি।

(তবে অতি সতর্কতা স্বরুপ নিজের ঈমান পরীক্ষা করতে পারেন, সন্দেহ থাকলে শাহাদাত পাঠ করতে পারেন। ) প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে বিবাহ দোহরানো আবশ্যক নয়।

  • ভবিষ্যতে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা থাকলে জানার চেষ্টা করুন এবং যেকোনো সন্দেহজনক কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

আল্লাহ তায়ালা আপনার তওবা কবুল করুন ও ঈমান ঠিক রাখুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.